উপনির্বাচনে শান্তিপুরের ফলে কেন স্বস্তি বাম শিবিরে ?


বিধানসভা নির্বাচনে শান্তিপুরে জোটের প্রার্থী পেয়েছিলেন মাত্র ৪.৪৮ শতাংশ ভোট । উপনির্বাচনে সিপিএমের প্রাপ্তি ১৯.৫৭ শতাংশ। ভোট বৃদ্ধির হার ১৫.০৯ শতাংশ। দীপাবলির আগে‌ই মৃদু হলেও আলো ফুটল আলিমুদ্দিনে। একটি রাজনৈতিক প্রতিবেদন –

রাজ্যে চার উপনির্বাচনের ফল নিঃসন্দেহে তৃণমূলের দীপাবলির আনন্দ চতুর্গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির জন্য কোনও দিক দিয়েই সান্ত্বনা লাভের  ব্যবস্থা রাখে নি উপনির্বাচন । কিন্তু বাম শিবিরের ‌জন্য ক্ষীণ হলেও একটা আশার আলো কিন্তু দেখালো শান্তিপুরের ভোটের ফল । গোসাবা , দিনহাটা, খড়দহ এবং শান্তিপুর – এই চার বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র শান্তিপুরের ফল‌ই বিশ্বাসযোগ্য । শান্তিপুর বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ।  বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার জিতেছিলেন ১৫৮৭৮ ভোটে। গোটা নদীয়া জেলাতেই বিজেপির রবরবা । তারপরেও উপনির্বাচনে শান্তিপুর ধরে রাখতে ব্যর্থ গেরুয়া শিবির। উপনির্বাচনে শান্তিপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের বিজয়ী প্রার্থী ব্রজকুমার গোস্বামী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নিরঞ্জন বিশ্বাসের থেকে ৬৪ হাজার ৬৭৫টি ভোট বেশি পেয়েছেন। দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ব্যবধান বিশাল ।

শান্তিপুরের জেতা আসনে বিজেপি জামানত বাঁচাতে সক্ষম হলেও ভোট কমল বিপজ্জনক হারে । বিধানসভার সাধারণ নির্বাচনে  বিজেপি পেয়েছিল ৪৯.৯৪ শতাংশ ভোট। উপনির্বাচনে ভোট কমে হল ২৩.২২ শতাংশ । বাঙালিহিন্দু এবং মতুয়া সম্প্রদায় অধ্যুষিত শান্তিপুরে মাত্র ছয়মাসের ব্যবধানে বিজেপির ভোট কমল ২৬.৭২ শতাংশ ! সাধারণ নির্বাচনে তৃণমূল ভোট পেয়েছিল ৪২.৭২ শতাংশ। উপনির্বাচনে তৃণমূলের ভোট বেড়ে দাঁড়াল ৫৪.৮৯ শতাংশ । তৃণমূল ভোট বাড়িয়েছে ১২.১৭ শতাংশ । শান্তিপুরে বামেদের ভোট বৃদ্ধির হার কিন্তু চোখ এড়িয়ে যাওয়ার নয় । বিধানসভার সাধারণ নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জোটের হয়ে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের ঋজু ঘোষাল‌ পেয়েছিলেন মাত্র ৪.৪৮ শতাংশ ভোট। উপনির্বাচনে শান্তিপুর‌ই একমাত্র কেন্দ্র , যেখানে কংগ্রেস পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। বাকি তিন আসনে প্রার্থী‌ই দেয় নি কংগ্রেস। শান্তিপুরের উপনির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী সৌমেন মাহাতো পেয়েছেন ১৯.৫৭ শতাংশ ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ১.৪১ শতাংশ ভোট। জোটের ঋজু ঘোষালের থেকে সিপিএম প্রার্থীর ভোট বেড়েছে ১৫.০৯ শতাংশ।

শান্তিপুরে না কমে ভোট বাড়ল বামেদের। উপনির্বাচনে তাই স্বস্তি বাম শিবিরে।

উপনির্বাচনে বিজেপির ভোট কমল ২৬.৭২ শতাংশ । পক্ষান্তরে বিজয়ী তৃণমূলের ভোট বাড়ল ১২.১৭ শতাংশ। তৃতীয় স্থানাধিকারী সিপিএমের ভোট বাড়ল ১৫.০৯ শতাংশ। তৃণমূল ও সিপিএমের ভোটবৃদ্ধির যোগফল ২৭.২৬ শতাংশ। হিসেব জলের মতো পরিস্কার যে, বিজেপির থেকে ভোট‌ স্রোতের মতোই‌ সুইং করেছে বাম ও তৃণমূলের ঘরে । সিপিএমের বৃদ্ধি পাওয়া ১৫.০৯ শতাংশের পুরোটাই যে বিজেপির থেকে ভাঙিয়ে নেওয়া এটা বুঝতে কোয়ান্টাম মেকানিক্সে পন্ডিত হ‌ওয়ার দরকার পড়ে না। একমাত্র শান্তিপুরেই বামেদের ভোট‌ও বেড়েছে , জামানত‌ও বেঁচেছে।  দীর্ঘদিন পরে কোন‌ও নির্বাচনে বামেদের ভোট নিম্নগামী না হয়ে ঊর্ধ্বমুখী হল । এই ঘোর দুঃসময়েও তাই শান্তিপুরের ফল দেখে স্বস্তি পাচ্ছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজাফফর আহমেদ ভবনের কর্তারা ।

ফিচার ফটো প্রতীকি। ফটো – সংগৃহীত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *