গোয়ায় পিকের ভবিষ্যদ্বাণী : জাতীয় রাজনীতিতে সংঘ যুগের অবসানের এখনও ঢের দেরি


প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যদ্বাণী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে ।‌ জাতীয় রাজনীতিতে লড়াইটা এখন বিজেপি বনাম অন্যান্যদের । এই সমীকরণ সহজে বদলাবে না , এটাই বলতে চেয়েছেন পিকে

বিশেষ প্রতিবেদন : তৃণমূলের হয়ে গোয়া সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বর্তমান ভারতের একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেছেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর । বৃহস্পতিবার পিকে যেটা প্রকাশ করেছেন, তার মোদ্দা কথাটি হল চব্বিশে মোদী জিতুন আর নাই জিতুন জাতীয় রাজনীতির ‌ভরকেন্দ্র থেকে বিজেপিকে চট করে সরানো সম্ভব নয় । দক্ষ ভোট কুশলী মনে করেন, আগামী কয়েক দশক বিজেপি ভারতীয় রাজনীতির নির্ণায়ক শক্তি থাকবে । পিকের এই নিরীক্ষণের পর আপনি আইপ্যাকের কর্ণধারকে তৃণমূলের ঘরে বিজেপির ছুপা রুস্তম  বলতেই পারেন ।‌ বলতে পারেন বিজেপি ও তৃণমূলের ডাবল এজেন্ট‌ও । কিন্তু যেটা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না , সেটা হল প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক বাস্তবতা বোধ । শুধু ধূরন্ধর ও সফল পিকেই নন রাজনীতির ভূত ও‌ ভবিষ্যৎ নিয়ে একটু তলিয়ে ভাবেন , এমন যে কোনও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেনে নেবেন যে, জাতীয় রাজনীতিতে এই মুহুর্তে বিজেপি সেই জায়গাটায় আছে আজ থেকে ৩৩ বছর আগে কংগ্রেস যেই জায়গায় ছিল । শুধু আবেগ দিয়ে আর হ‌ইচ‌ই করে বিজেপিকে এই জায়গা থেকে সরানো সম্ভব নয় । গোয়ায় এটাই বলতে চেয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।

জাতীয় রাজনীতিতে লড়াইটা এখন বিজেপি বনাম অন্যান্যদের-মোদীর সব থেকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য এটাই।

জাতীয় স্তরে লড়াইটাকে বিজেপি ভার্সেস আদার্স করে দিতে পারাটা নিঃসন্দেহে নরেন্দ্র মোদী- অমিত শাহের সবথেকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য । নির্বাচনে হারজিত আছেই।২০১৪য় কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি অনেক নির্বাচনে হেরেছে । আবার অনেক নির্বাচনে জিতেছে‌ও । কিন্তু তাতে বিজেপির রাজনৈতিক আধিপত্য কিম্বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা – কোন‌ওটাই খুব বেশি লাইনচ্যুত হয় নি । এই মুহুর্তে কেরালা ও তামিলনাড়ু বাদ দিলে  ছোট ,মাঝারি কিম্বা বড় -‌ দেশে এমন কোনও প্রদেশ নেই যেখানে গত সাত বছরে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয় নি । একসময় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ে ফয়দা তুলতে গেলে দেশের সবকটি  অকংগ্রেসী দলকে একজোট হতে‌ হত। লড়াইটা হয়ে যেত কংগ্রেস ভার্সেস আদার্সের । এই আদার্সদের আলাদা করে রাখা কিম্বা এক হতে না দেওয়াটা ছিল কংগ্রেসের কৌশল। ৭৭ আর ৮৯ ছাড়া বিরোধীরা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কখনও এক হতে পারে নি । বিজেপি তো আজকে এক‌ই খেলা খেলছে । চব্বিশে বিজেপি ভার্সেস আদার্সের লড়াইটা কীভাবে হবে এখনও তা খুব একটা স্পষ্ট নয় । মোদী-শাহ চাইবেন লড়াই করার আগেই  আদার্সরা  ছন্নছাড়া হয়ে যাক । এই কাজে তাঁরা কাকে কাকে ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছেন তা ঠাহর করতে আমাদের সময় লাগবে আরও খানিকটা ।

কেজরিওয়ালের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোর : পিকেরও কি লক্ষ্য কংগ্রেস মুক্ত ভারত ?

ভারতের মতো বড় দেশে দুটো শক্তিশালী জাতীয় দলের উপস্থিতি খুবই জরুরি । বিশেষ করে দেশের ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে । কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতে কখনও দ্বিদলীয় ব্যবস্থা বলীয়ান হয় নি । যখন কংগ্রেস ছিল দেশের সবথেকে শক্তিশালী জাতীয় দল কংগ্রেসের উল্টো দিকে থাকত অনেক গুলো ছোট ছোট দল , যাদের বেশিরভাগই আবার রাজনৈতিক চরিত্রে আঞ্চলিক । আজকে বিজেপির উল্টোদিকে তাকিয়ে দেখুন। ১৩৬ বছরের কংগ্রেস ছন্নছাড়া । কংগ্রেসের এমন‌ই দুর্দশা যে কথায় কথায় তৃণমূল তাকে ঠুয়ো দিচ্ছে । কংগ্রেস মুক্ত ভারত সংঘ পরিবারের একটি ঘোষিত রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা । পরিস্থিতি যা দেখাচ্ছে তাতে কিন্তু বলাই যায় নিজেদের লক্ষ্য থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ ।

মোদীকে হটানো জলভাত নয় , গোয়া থেকে রাহুলের উদ্দেশ্যে পিকে ।

২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই ৩৭.৩৬ শতাংশ ভোটের বিনিময়ে ৩০৩টি আসন পেয়েছে । প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, কোনও দল জাতীয় স্তরে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে গেলে তাকে দুম করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরিয়ে দেওয়া সহজ নয় ।   তৃণমূলের খুঁটি শক্ত করতে গোয়া সফরে গিয়ে যাথারীতি রাহুল গান্ধীকে খোঁটা দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর । পিকে বলেছেন , রাহুল একটি খোয়াবের  মধ্যে আছেন । খোয়াবটি হল চব্বিশ এলেই মোদীকে সরিয়ে দেবে দেশের লোকে । ব্যাপারটা যে তেমন জলভাত নয় তা ই রাজনীতির অঙ্ক দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন পিকে ।

Photo Credit- Official FB page of Prashant Kishor.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *