৮২ কোটির বেশি ভারতবাসী টিকার আওতায় , প্রায় ২১ কোটি মানুষ সম্পূর্ণ ভ্যাকসিনেটেড


বিপর্যয় পেরিয়ে বিজয়ের মুখে ভারতের কোভিড ভ্যাকসিনেশন ড্রাইভ । টোটাল ভ্যাকসিনেশনে সংখ্যায় আমেরিকাকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত । অক্টোবর থেকে ফের টিকা রফতানি করবে দেশ ।

হেল্থ ডেস্ক রিপোর্ট : বিপর্যয়ের মুখে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম আধুনিক ভারত । কোভিড অতিমারির দ্বিতীয় পর্যায়ে অক্সিজেন ও ভ্যাকসিন সঙ্কটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল গোটা দেশ । আসলে করোনার দ্বিতীয় ঝটকা মোকাবিলার তেমন আগাম প্রস্তুতিই ছিল না সরকারের । এটা যেমন সমালোচনার তেমনি প্রশংসার জায়গাটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই । সেটা হল প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করে ১৪০ কোটির এই বিশাল দেশ । অক্সিজেনের সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা গেছে তিন মাসের মধ্যেই । প্রথম দিকে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে সরকারের একটা গরিমসি হয়ত ছিল । তার ফল ভুগতে হয়েছে এপ্রিল-মে মাসে , যখন কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা টালমাটাল । সেই সময় ধৈর্য্য হারিয়ে সরকারকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করেছিলেন আমজনতা থেকে বিশেষজ্ঞ সকলেই । যদিও প্রখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জেন ডঃ দেবী শেঠি ঘাবড়ে না গিয়ে বলেছিলেন – ভারত অক্সিজেন ও ভ্যাকসিনের সঙ্কট দ্রুত‌ই কাটিয়ে উঠবে । দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশ বিপর্যস্ত হ‌ওয়ার চারমাস পরে বলাই যায় যে সমালোচকদের নয় ডঃ শেঠির প্রবল আশাবাদের জয় হয়েছে ।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান ( ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১) জানাচ্ছে ভারতে ৮২ কোটি ২০ লক্ষ নাগরিককে ভ্যাকসিনের অন্তত একটি ডোজ দেওয়া সম্ভব হয়েছে । দুটি ডোজ দিয়ে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিনেটেড করা হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষকে । দেশের মোট জনসংখ্যার যা ১৫.৩ শতাংশ । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে সারা দেশে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছিল । একদিনে টিকাকরণে এটা একটা রেকর্ড সারা বিশ্বে । ২১ সেপ্টেম্বর সারা দেশে টিকা দেওয়া হয়েছে ৭৫ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫২৯ জনকে । ২২ সেপ্টেম্বর সকালে টিকাকরণ শুরুর আগে কোটি ৫২ লক্ষ ডোজ কোভিড টিকা বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত প্রশাসনের হাতে মজুত ছিল । আরও ৪৮ লক্ষ ডোজ টিকা পাইপলাইনে আছে ।

কোভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের মধ্যে ভ্যাকসিনেশন সরকার ঘোষিত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে কিনা তা বলার সময় এখনও আসে নি । কিন্তু একটা বিষয় খুব পরিস্কার, ভ্যাকসিনেশন নিয়ে একটা আত্মবিশ্বাসের জায়গায় চলে এসেছে ভারত । দেশে যে গতিতে ভ্যাকসিনের উৎপাদন , সরবরাহ এবং টিকাকরণ এগোচ্ছে , তা বিচ্যুত হ‌ওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা । আমেরিকায় এখনও পর্যন্ত টিকার একটি ডোজ পেয়েছেন ৩৮ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ । টোটাল ভ্যাকসিনেশন হয়েছে ১৮ কোটি ২০ লক্ষ নাগরিকের । টোটাল ভ্যাকসিনেশনে ভারত কিন্তু ইতিমধ্যেই আমেরিকাকে ছাড়িয়ে গেছে ।

ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে হুর প্রধানের ট্যুইট।

বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদক দেশ ভারত । ভারত থেকে বিভিন্ন রোগের টিকা রফতানি হয় । সঙ্গত কারণেই কোভিড ভ্যাকসিন নিয়েও ভারতের ওপর আস্থা রেখেছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা‌ও । করোনার প্রথম ঢেউ আছড়ে পড়ার আগে পর্যন্ত সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন রপ্তানিতে অনুমোদন দিয়েছিল সরকার । কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ে আঘাত হানতেই দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহে সঙ্কট দেখা দিলে টিকা রফতানি বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার । সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এসে সরকারের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে যে কোভিড ভ্যাকসিনের উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে দেশে আর কোনও জটিলতা তৈরি হবে না । অক্টোবর থেকে ফের বিদেশে কোভিড টিকা রফতানি শুরু করবে ভারত ‌। করোনা প্রতিষেধকের জোগান নিয়ে পৃথিবীতে যাতে কোন‌ও বৈষম্য সৃষ্টি না হয় , গরীব দেশ গুলির নাগরিকেরা‌ও যাতে টিকা পায় , তা নিশ্চিত করতে কোভ্যাক্স প্রকল্প গ্রহণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । ভারতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত টিকা কোভ্যাক্সের মাধ্যমেই দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়বে । ভারতের এই সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছে হু । ট্যুইট করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডবিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হুর প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রেয়ুসাস । বছর শেষ হ‌ওয়ার আগেই বিশ্ব জুড়ে ৪০ শতাংশ টিকাকরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । ভারতের পদক্ষেপ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন হুর প্রধান ।

Photo Creditmoneycontrol.com / PM Modi


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *