পাল্টি মারায় ফেসবুকে মুকুল রায়কে ধুয়ে দিয়েছিলেন বাবুল,৯৪ দিন পর নিজেই খেলেন পাল্টি !


রাজনীতির মেসিরা আজ এই দলে । কাল সেই দলে । ফুল বদল করায় মুকুল রায়কে ধুয়ে ছিলেন বাবুল সুপ্রিয় । ৯৪ দিন পর এক ফুলে মুকুল-বাবুল । রাজনীতিতে সব কিছুই সম্ভব

রাজনীতিতে ‘ অসম্ভব ‘ শব্দটাই বুঝি অসম্ভব । তৃণমূলে যোগদানের পর বাবুল সুপ্রিয় যেমন বলেছেন, ‘ মেসি যখন যে দলে যান তখন সেই দলের হয়েই গোল করেন । ‘ বাবুলের তৃণমূলে যোগদানের পূর্বাভাস রাজনৈতিক মহলের কাছে ছিল না। কিন্তু রাজনীতিটা যখন ফুটবল খেলার চেয়ে বেশি কিছু নয় তখন ভাল দাম পেলে পুরোন দল ছেড়ে নতুন দলে নাম লেখাতেই পারেন রাজনীতির মেসিরা । বাবুল সুপ্রিয় আরও বলেছেন যে, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর যা ডিল হ‌ওয়ার হয়েছে শেষ চার দিনে । মাত্র চার দিনের বোঝাপড়ায় যিনি সাত বছরের দল‌ ছাড়তে পারেন রাজনীতিকে ফুটবল মাঠের সঙ্গে তুলনা করা তাঁর মুখেই মানায় । অথচ এই বাবুল‌ই মাত্র তিনমাস আগে দলবদলু মুকুল রায়কে কী তুলোধুনোটাই না ধুনে ছিলেন সামাজিক মাধ্যমে !

অভিষেক ব্যানার্জির হাত থেকে উত্তরীয় গ্রহণ করছেন বাবুল সুপ্রিয়।

দোসরা মে বিজেপির সব আশাকে দুরমুশ করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নবান্নে ফেরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১১ জুন মমতার হাত ধরে সপুত্র তৃণমূলে ফেরেন মুকুল রায় । বিজেপি ছেড়ে মুকুল তৃণমূলে ফেরায় ১৪ জুন নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বাছা বাছা শব্দবাণে বিদ্ধ করে চাণক্যের চামড়া তুলতে‌ শুধু বাকি রেখেছিলেন বাবুল সুপ্রিয় । তখন বাবুল কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী । আসানসোলের বিজেপি সাংসদ । দলের শহিদ হ‌ওয়া কর্মীদের রক্তের দাগ সাদা পাঞ্জাবিতে মুছে মুকুল রায় তৃণমূলের সঙ্গে কোলাকুলি করছেন বলে সেদিন কটাক্ষ করেছিলেন বাবুল সুপ্রিয় । তিনমাস পর যাঁর হাত থেকে গলায় উত্তরীয় ধারণ করে বিজেপির বাবুল তৃণমূলের বাবুল হলেন ফেসবুক পোস্টে তাঁকেও অপ্রিয় শব্দে ঘায়েল করতে বাঁধে নি সুপ্রিয় বড়ালের । আসলে তো সেদিন বাবুল বিজেপির হয়ে তৃণমূলের তিনকাঠিতে গোল মেরেছিলেন । মাঠে ফর‌ওয়ার্ডের খেলোয়াড়েরা যেমনটি করেন আর কি ‌!

মুকুল রায়কে কটাক্ষ করে বাবুলের ফেসবুক পোস্ট।

মুকুল রায়কে নিয়ে ফেসবুকে লম্বা পোস্ট দিয়ে বাবুল যা বলেছিলেন –

বিজেপির কোন সর্বভারতীয় নেতা বাংলার বিজেপির নেতাদের বলেছিলেন, “মেরুকরণ বাড়িয়ে অস্থিরতা বাড়াতে”।চারদিকে যখন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সন্ত্রাস ছড়িয়ে চূড়ান্ত নোংরামি করছে #টিএমসি, তখন মুকুল দা বিজেপিতে থেকে এই ধরনের মিথ্যা কথা প্রচার করছিলেন তোলাবাজ ভাইপোর সঙ্গে গোপন বৈঠক করে??? এটা মানতে পারছি না।

আর আজ যখন বিজেপির ছেলেদের উপর চারদিকে অত্যাচার হচ্ছে তখন সাদা পান্জাবিতে রক্তের দাগ ধুয়ে #টিএমসি’র সঙ্গে কোলাকুলি করছেন মুকুল দা! ওঁর মতো সিনিয়র নেতার কি এটা মানায়? না হয় আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেন, বিজেপির বৈঠকে আসছিলেন না। আরও কয়েকদিন আসতেন না। তাতে কি মহাভারত অশুদ্ধ হত? কালই তো বাংলায় কোনও নির্বাচন নেই।

অনেক কথা মনে পড়ছে। রাজ্যসভার তৃণমূল সদস্য থাকাকালীন রোজ সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে বলতেন, “কবে জয়েন করাবে তোমরা বিজেপিতে? সংগঠনটা বানাতে হবে তো! বেশিদিন কিন্তু টাইম নেই।” সংসদের সেন্ট্রাল হলে গল্প হত। শুধু শিষ্টাচারের খাতিরে তার বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না।

দল বদল করেছেন কোনও অসুবিধা নেই। রাজনীতিতে এটা রোজকার ব্যাপার এটা মুকুল দার চেয়ে ভাল আর কেই বা জানেন? বিজেপির বিরুদ্ধে বলছেন বা বলবেন সেটাও স্বাভাবিক। কিন্তু ওঁর মতো একজন সিনিয়র এমন সম্পূর্ণ অসত্য কথা কেন বলছেন? যা সত্যি নয় তা বলে সাম্প্রদায়িক আগুন কেন জ্বালাচ্ছেন? আমার সঙ্গে ওনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভাল ছিল। এখনও সামনাসামনি দেখা হলে কখনই অসম্মানজনক কিছু বলব না- অনেক অনেক সিনিয়র উনি। কিন্তু ব্যক্তি-সম্পর্ক তো আর দলের ভাল-মন্দের উপরে হতে পারে না। বিশেষ করে যখন দলের তৃণমূলস্তরে এত কার্যকর্তার প্রাণের প্রশ্ন জড়িত – হ্যাঁ প্রাণই তো !! ভোট পরবর্তীকালে কতগুলি রাজনৈতিক খুন মমতাদিদির অনুপ্রেরণায় হয়েছে এবং হয়ে চলেছে তা কি জানেন না উনি ?

যে যুবক-যুবতী দলীয় কর্মীদের পিঠে হাত দিয়ে কথা বলেছেন এতদিন, সেই হাতের রং বদল করেছেন তাতে কোনও সমস্যা নেই। রাজনীতিতে এটা হয়েই থাকে। কিন্তু তাঁদের সেই পিঠেই ছুরি কেন মারছেন আজ? তাও সম্পূর্ণ অসত্য কথা বলে। এটা অন্যায়। বাংলার খুনের রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে এটা নির্মম এবং সময় কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর চাইবে। এই জীবনেই কিন্তু মানুষ হিসাবে সব উত্তর – হিসাব মিলিয়ে দিয়ে যেতে হয় আমাদের !!

১৪ জুনের ফেসবুক পোস্টে এই সমস্ত কথা সেদিন উগড়ে দিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয় । বাবুলের মাত্র ৯৪ দিন লাগল নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ফেলতে । ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে নাম কাটা যায় আসানসোলের সাংসদের । ৩১ জুলাই বিমর্ষ বাবুলের রাজনৈতিক সন্ন্যাস ঘোষণা । ২ আগস্ট বাবুল ঘোষণা করেন , রাজনীতি ছাড়লেও সাংসদ পদে থেকে আসানসোলের মানুষের সেবা করে যাবেন তিনি । ঠিক ছেচল্লিশ দিনের মাথায় , ১৮ সেপ্টেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে গলায় উত্তরীয় পরে তৃণমূলের প্লেয়ার হয়ে গেলেন সিঙ্গার টার্নড পলিটিশিয়ান । ভাইরাস না পলিটিশিয়ান – মিউটেশন ক্ষমতা বেশি কার ?

Photo Credit – Official FB page of TMC , Babul Supriyo and Mukul Roy


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *