‘ পচাডোবা আজ অপ্রাসঙ্গিক ‘ ! তৃণমূলের মুখপত্রে বেনজির আক্রমণ কংগ্রেসকে


তৃণমূলের মুখপত্রের সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি মানে তৃণমূল দলেরই দৃষ্টিভঙ্গি । কংগ্রেসকে এমন অসম্মানজনক কটাক্ষ সাম্প্রতিক কালে বিজেপিও করেছে কিনা রাজনৈতিক মহলের সন্দেহ ।

পলিটিক্যাল ডেস্ক : ভারতের জাতীয় কংগ্রেসকে পচাডোবার সঙ্গে তুলনা করল তৃণমূলের মুখপত্র ‘ জাগোবাংলা ‘ । শনিবার প্রকাশিত জাগোবাংলার  সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল ‘ আসল কংগ্রেস ‘ । বর্তমান ভারতবর্ষে কংগ্রেস নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক , গৌণশক্তি । তৃণমূল‌ই আসল কংগ্রেস । এই ছিল জাগোবাংলার সম্পাদকীয় সন্দর্ভের মূল সুর । জাগোবাংলা তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল মুখপত্র । যেমন গণশক্তি সিপিএমের । দিন কয়েক আগে তৃণমূলের সভায় , রাহুল গান্ধী মোদীর বিকল্প হিসেবে অযোগ্য বলে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় । সারা দেশে তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মোদীর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরবে বলেও জানিয়েছিলেন সুদীপবাবু । সেই খবর প্রতিবেদন হিসেবে প্রথম পাতায়  ফলাও করে ছাপিয়েছিল জাগোবাংলা । এবার একেবারে তৃণমূলের দলীয় মুখপত্রের সম্পাদকীয় কলামেই কংগ্রেসকে ব্যঙ্গবিদ্রুপে ভরিয়ে দেওয়া হল । এই ঘটনার মধ্যে যথেষ্টই তাৎপর্য খুঁজে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল ।

জাগোবাংলার সম্পাদকীয় ।

দলীয় মুখপত্রের সম্পাদকীয় দলের দৃষ্টিভঙ্গি‌ই তুলে ধরে । কাজেই জাগোবাংলার সম্পাদকীয়তে প্রকাশিত বক্তব্য তৃণমূলের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বলে মনে না করার কোনও কারণ দেখা যাচ্ছে না । সম্পাদকীয়র ভাষাও ছিল অনুরূপ । সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে , কংগ্রেসের  গৌরবজনক অতীতকে তৃণমূল সবসময় সম্মান জানালেও আজ শুধু বাংলা নয় বাংলার বাইরেও কংগ্রেস রাজনৈতিক ভাবে অপ্রাসঙ্গিক । সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে , ” কংগ্রেসের ঐতিহ্যের পতাকা তো তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে । এটাই ( অর্থাৎ তৃণমূল ) সমুদ্র । পচাডোবা ( অর্থাৎ কংগ্রেস ) আজ অপ্রাসঙ্গিক । “

জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে অক্ষম – এই ছিল সম্পাদকীয়র সুর । সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, ” দিল্লির ক্ষেত্রেও প্রবণতা সেটাই। কংগ্রেসকে আমরা অসম্মান করি না। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে জোট‌ও বলছি না। কিন্তু কংগ্রেস যদি বারবার ব্যর্থ হয় , ২০১৪ থেকে ২০১৯ , লোকসভায় বিজেপির সুবিধে হয়ে যায় , তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না । উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ । ইতিহাস ধুয়ে জল খাওয়ার দিন শেষ । এখন ধর্মযুদ্ধ মাটিতে দাঁড়িয়ে পারফরম্যান্সের ওপর । “ সম্পাদকীয়তে সাফ জানানো হয়েছে, ” বাংলায় যদি আসল কংগ্রেস এখন তৃণমূল হতে পারে , আগামীকাল সারাদেশে আসল কংগ্রেসের ভূমিকায় তৃণমূল কংগ্রেস‌ই লড়াই করবে । ”

কংগ্রেসকে পচাডোবার সঙ্গে তুলনা তৃণমূলের মুখপত্রে ।

কংগ্রেস রাজ্যে রাজ্য বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে ব্যর্থ ।  কংগ্রেস ডজন ডজন আসনে হেরে বিজেপিকে বেশি বেশি সাংসদ নিয়ে দিল্লি দখলের সুযোগ করে দেয়।  পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে  হারিয়ে তৃণমূল দেখিয়ে দিয়েছে একমাত্র তারাই বিজেপিকে  হারাতে পারে । যেইহেতু পশ্চিমবঙ্গের হাই ভোল্টেজ নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে তৃণমূল জিতেছে অত‌এব সারাদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রণকৌশল‌ও তৃণমূল‌ই ঠিক করবে । হেরো কংগ্রেস সেখানে নিতান্তই ব্রাত্য । মোটামুটি এই হল জাগোবাংলার সম্পাদকীয়র মর্মকথা । তবে এত দুর্বলতা সত্ত্বেও কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে তৃণমূল কোনও জোট করবে না বলে সম্পাদকীয়তে কংগ্রেস নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করা হয়েছে ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন , কংগ্রেস মুক্ত ভারত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হ‌ওয়ার পরেও সাম্প্রতিক কালে বিজেপি বা সংঘ পরিবারের কোনও মুখপত্রেও এমন অপমানজনক ভাষায় কংগ্রেসকে দুরমুশ করতে দেখা যায় নি , যেমনটি করা হয়েছে তৃণমূলের মুখপত্রে । ” পচাডোবা ” শব্দটিও কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব হজম করে নেন কিনা এখন এটাই দেখার ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *