রাখাল বেরার জামিন বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ, ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ নিয়ে মুখ বাঁচাতে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলল রাজ্য


হাইলাইটস –
  • রাখাল বেরার জামিন বহাল ডিভিশন বেঞ্চেও । সিঙ্গেল বেঞ্চে সোমবারই জামিন পান রাখাল ।
  • সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ লঙ্ঘন করে রাখাল বেরাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে হাইকোর্টে বিপাকে রাজ্য সরকার।
  • বুধবার ঘটনার জন্য ডিভিশন বেঞ্চের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল।
  • ঘটনার পুরো দায় স্থানীয় থানার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে সরকার । ২৬ আগস্টের মধ্যে এই নিয়ে হলফনামা দিতে রাজ্যকে নির্দেশ ডিভিশন বেঞ্চের।

কলকাতা : হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী রাখাল বেরাকে গ্রেফতারের জন্য ডিডিশন বেঞ্চের সামনে দুঃখ প্রকাশ করল রাজ্য সরকার । আদালত অবমাননার হাত থেকে বাঁচতে স্থানীয় থানার ঘাড়ে ঘটনার পুরো দায়টা চাপিয়ে দেয় সরকার । বুধবার শুনানি শেষে রাখাল বেরার জামিন নিয়ে সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কেই বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ । আগামী ২৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি । ততদিনে পর্যন্ত রাখাল বেরাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ ।

সোমবার বিচারপতি রাজশেখর মান্থার সিঙ্গেল বেঞ্চ রাখালের জামিন মঞ্জুর করে । সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে‌ই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার । জামিনে ছাড়া পাওয়ার আগেই পুরোনো একটি মামলায় রাখাল বেরাকে শ্যোন অ্যারেস্ট করে পুলিশ । মঙ্গলবার সকালে ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় এই খবর বিচারপতিদের নজরে আনেন রাখালের আইনজীবী । পুরো ঘটনাটি জানতেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে চেপে ধরেন দুই বিচারপতি । সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, রাখাল বেরাকে ফের গ্রেফতার দেখাতে চাইলে আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে । হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কেন রাখালকে পুলিশ গ্রেফতার করল ? রাজ্যের কাছে কৈফিয়ত চান বিচারপতিদ্বয় । ডিভিশন বেঞ্চকে কোনও সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন‌ অ্যাডভোকেট জেনারেল ।

রাখাল বেরা ।

বুধবার শুনানি শুরু হলে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত ডিভিশন বেঞ্চেকে জানান , রাখাল বেরার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা তুলে নিতে নিম্ন আদালতে আবেদন জানিয়েছে নন্দকুমার থানা । রাখালকে হাইকোর্টের নির্দেশ মতো ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ । এই কথা শোনা মাত্রই বিচারপতি তপব্রত দাশগুপ্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বলেন, কাল বললেন তমলুক থানার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে । আর আজ বলছেন নন্দকুমার থানা গ্রেফতারি পরোয়ানা তুলে নিতে আদালতে আবেদন জানিয়েছে । এইভাবে বারেবারে হাইকোর্টকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে কী !

ডিভিশন বেঞ্চের সামনে বেকায়দায় পড়ে সব দোষ স্থানীয় থানার ঘাড়ে ঠেলে দেয় রাজ্য সরকার । অ্যাডভোকেট জেনারেল বিচারপতিদের জানান , ভুল বোঝাবুঝি থেকে পুরো ঘটনাটা ঘটেছে । সরকার কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি থেকে হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে নি । মঙ্গলবার রাখাল বেরার গ্রেফতারি নন্দকুমার থানার সিদ্ধান্ত ছিল বলে হাইকোর্টকে জানান অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত । এর পেছনে রাজ্য সরকারের কোনও নির্দেশ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি । ঘটনার জন্য ডিভিশন বেঞ্চের সামনে সরকারের হয়ে দুঃখ‌ও প্রকাশ করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল । এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৬ আগস্ট । ততদিন পর্যন্ত রাখাল বেরাকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে বুধবার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ । ২৬ আগস্টের মধ্যে রাখালের গ্রেফতার সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট ।

শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী রাখাল বেরাকে একের পর এক হয়রানি মূলক মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখা হয়েছিল বলে বিজেপির অভিযোগ । শেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জামিন পেতে হল রাখাল বেরাকে । সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের পরেও রাখালকে অন্য মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে আটকে রাখতে গিয়ে উচ্চ আদালতে সরকারের কার্যত মুখ পুড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *