স্বদেশী টিকায় ভরসা নেই মুখ্যমন্ত্রীর, কোভ্যাকসিন মোদীর মস্তিষ্ক প্রসূত,কটাক্ষ মমতার


হাইলাইটস
  • স্বদেশী কোভ্যাকসিনকে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী ।
  • কোভ্যাকসিন মোদীর মাথা থেকে আবিষ্কার হয়েছে – কটাক্ষ মমতার ।
  • কোভ্যাকসিনের অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত অবসান চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

কলকাতা : কোভ্যাকসিনকে নরেন্দ্র মোদীর মস্তিষ্ক প্রসূত ভ্যাকসিন বলে কটাক্ষ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বুধবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ অনেকেই প্রাইভেটে কোভ্যাকসিনটা নিয়েছে । এটা কিন্তু এখনও অথোরাইজড নয় । বিদেশে এটাকে অ্যাকসেপ্ট করছে না । ফলে স্টুডেন্টরা যারা বাইরে যেতে চাইছে তারা কিন্তু খুব বিপদের মধ্যে আছে যে তারা কী করবে ‘ । এর পরেই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ বা আইসিএম‌আরের সহযোগিতায় ভারত বায়োটেক দ্বারা প্রস্তুত কোভিড প্রতিষেধক কোভ্যাকসিনকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘ এটা প্রধানমন্ত্রীর মাথা থেকে আবিষ্কার হয়েছে । যেটা নিয়ে ব্রাজিলের সাথেও প্রবলেম চলছে। বাংলাদেশের সঙ্গেও প্রবলেম চলছে ‘ ।

কোভ্যাকসিন ভারতীয় বিজ্ঞানীদের দ্বারা আবিষ্কৃত শতভাগ স্বদেশী করোনা ভ্যাকসিন । কোভ্যাকসিনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলোজির বিজ্ঞানীদের‌ও অবদান আছে । করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জানুয়ারি থেকে দেশে যে টিকাকরণ কর্মসূচী শুরু হয় তাতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার কোভিশিল্ডের পাশাপাশি দেশীয় ভ্যাকসিন কোভ্যাকসিন প্রয়োগের‌ও অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক । কোভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ট্রায়ালের ফল সন্তোষজনক আসার পরেই ২০২০ র ৬ ডিসেম্বর জরুরী ভিত্তিতে এর অনুমোদন চেয়ে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার ( DGCI ) কাছে আবেদন জানায় উৎপাদক সংস্থা ভারত বায়োটেক ।সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের ( CDSCO ) সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২১ এর ৩ জানুয়ারি কোভ্যাসিন প্রয়োগে আপৎকালীন অনুমোদন দেয় ডিসিজিআই । থার্ড ও ফোর্থ ফেজ ট্রায়াল সম্পূর্ণ না হ‌ওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( WHO ) এখনও কোভ্যাকসিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়ায় বিদেশগামী ভারতীয়দের আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে । কোভ্যাকসিনের ফেজ থ্রি ট্রায়াল ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ করে ফেলেছে ভারত বায়োটেক । তৃতীয় দফার ট্রায়ালে কোভ্যাকসিন করোনা প্রতিরোধে ৭৮ শতাংশ সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে , এমন‌ই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে উৎপাদক সংস্থা । হুর অনুমোদন পেতে যা যা বিধি অনুসরণ প্রয়োজন তার ৯০ শতাশ‌ই কোভ্যাকসিন সম্পূর্ণ করেছে বলে ভারত বায়োটেক সূত্রে জানানো হয়েছে । করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত ছাড়াও ইরান , জিম্বাবুয়ে , মরিশাস , নেপাল , প্যারাগুয়ে , মেক্সিকো , ফিলিপাইন , গুয়াতেমালা , নিকারাগুয়া , গুয়ানা বোতসোয়ানা এবং ভেনেজুয়েলাও কোভ্যাকসিন প্রয়োগে আপৎকালীন ছাড়পত্র বা এমার্জেন্সি অথোরাইজেশন দিয়েছে ।

কোভ্যাক্সিনের অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতার নিরসনে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির কাছে চিঠি লিখতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ব্রাজিলের ওষুধ বিষয়ক নিয়ামক সংস্থা কোভ্যাকসিনকে অনুমতি দিতে রাজি না হলেও বাংলাদেশকে কোভ্যাকসিন নেওয়ার কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয় নি বলে জানা গেছে । রাজ্যে সরকারি ভাবে কোভিশিল্ডের পাশাপাশি অনেককেই কোভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে । যদিও এদিন তা স্বীকার করেন নি মুখ্যমন্ত্রী । দেশের বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত কোভ্যাকসিনের ওপর তাঁর যে তেমন আস্থা নেই তা ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কোভ্যাকসিন সংক্রমণ প্রতিরোধে নির্ভরযোগ্য না হলেও প্রধানমন্ত্রী তা মানুষকে নিতে উৎসাহ জুগিয়েছেন বলেও প্রচ্ছন্ন অভিযোগ করেন মমতা ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *