কৃষ্ণ সাগরে জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ল রাশিয়ার বিমান


  • সতর্কতা মূলক চারটি বোমা ফেলা হয় বলে রাশিয়ার দাবি ।
  • রুশ টহলদারি জাহাজ থেকেও গোলা ছোড়া হয় ।
  • ক্রিমিয়ার কেপ ফিয়োলেন্ট উপকূলের কাছে ব্রিটিশ জাহাজের বিরুদ্ধে রুশ জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ ।
  • যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে বোমা পড়ার রুশ দাবি অস্বীকার ব্রিটেনের ।
  • ক্রিমিয়ার রুশ অন্তর্ভুক্তি মেনে নেয় নি ন্যাটো ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করায় ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের যাত্রাপথ লক্ষ্য করে সতর্কতা মূলক বোমা ছুড়ল রুশ নৌসেনার এস‌ইউ-24 বিমান । বুধবার সকালে কৃষ্ণ সাগরে রুশ অধিগৃহীত ক্রিমিয়ার কেপ ফিয়োলেন্টের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে বলে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে দাবি করা হয়েছে । যদিও এই ধরণের কোন‌ও ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি । রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক প্রেস বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, রয়্যাল নেভির ডেস্ট্রয়ার এইচএম‌এস ডিফেন্ডার ক্রিমিয়ার কাছে তাদের জলসীমা লঙ্ঘন করলে জাহাজটির যাত্রাপথে চারটি বোমা ফেলে রাশিয়ান নৌ বাহিনীর এস‌ইউ-24 অ্যাটাক এয়ারক্রাফ্ট । ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজটি যাতে রুশ জলসীমা থেকে সরে যায় সেই লক্ষ্যে সতর্ক করে বোমা গুলি ফেলা হয় বলে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে দাবি করা হয়েছ ।

রুশ যুদ্ধবিমান ।

বিমান থেকে বোমা ফেলার আগে রুশ নৌবাহিনীর একটি টহলদারি জাহাজ থেকেও ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে সতর্কতা মূলক গোলা নিক্ষেপ করা হয় বলে রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে । এর পরেও ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ গতিপথ পরিবর্তন না করায় বিমান থেকে জাহাজটির গতিপথ লক্ষ্য করে পরপর চারটি বোমা ফেলে রুশ নৌবাহিনীর বিমান । সতর্কতা মূলক বোমা ফেলার কিছুক্ষণের মধ্যেই রয়্যাল নেভির জাহাজ এমভি ডিফেন্ডার ক্রিমিয়ার কেপ ফিয়োলেন্ট উপকূল থেকে সরে পড়ে বলে রাশিয়া জানিয়েছে। এই ঘটনার জেরে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মস্কোস্থিত ব্রিটিশ মিলিটারি অ্যাটাচেকে ডেকে পাঠিয়েছে বলে সংবাদসংস্থা আর‌আইএ নভোস্থি জানিয়েছে ।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি জারির পরে পরেই গোটা ঘটনাটি অস্বীকার করে পাল্টা বিবৃতি দেয় ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক । তাদের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে বোমা ফেলার কোনও ঘটনাই কৃষ্ণ সাগরের কেপ ফিয়োলেন্ট উপকূলীয় অঞ্চলে ঘটে নাই বলে জানায় ব্রিটেন । রুশ জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ‌ও অস্বীকার করেছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। রয়্যাল নেভির ডেস্ট্রয়ার এইচএম‌এস ডিফেন্ডার আন্তর্জাতিক ‌নিয়ম মেনেই ইউক্রেনের জলসীমার ভেতর দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে ব্রিটেন । গোলাগুলির ঘটনাকে কৃষ্ণ সাগরে নিজেদের জলসীমায় রুশ নৌবাহিনীর মহড়া বলে বর্ণনা করেছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ।

ক্রিমিয়ার রুশ অন্তর্ভুক্তি মেনে নেয় নি ন্যাটো ।

২০১৪ সালে পুতিন প্রশাসন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করলেও ন্যাটো এখনও তা ইউক্রেনের অংশ বলে মনে করে । কৃষ্ণ সাগরে ক্রিমিয়ার উপকূলের কাছাকাছি ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত যে কোনও দেশের যুদ্ধজাহাজের গতিবিধিকে সন্দেহের চোখে দেখে মস্কো । রাশিয়ার হাত থেকে কিয়েভকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে কৃষ্ণ সাগরে ঘন ঘন আনাগোনা চলে ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ গুলির । ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার দাবিকে যে ন্যাটো স্বীকৃতি দেয় নি, এটা প্রমাণ করতেও এই অঞ্চলে ইউক্রেনের জলসীমায় যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন রাখে ন্যাটো । ক্রিমিয়ার উপকূলের কাছাকাছি ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার ডিফেন্ডারের অবস্থানকে ন্যাটোর রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা । এই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে রুশ বিমানের সতর্কতা মূলক বোমা নিক্ষেপের ঘটনাকে ছোট করে দেখছে না আন্তর্জাতিক মহল ।

Photo Credit- The Moscow Times


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *