আজ প্রভু জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা : স্নান শেষে জ্বরেও পড়েন ভক্তের ভগবান !


হাইলাইটস
  • জৈষ্ঠি পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় ।
  • অতিমারির জেরে এ বার সমারোহ ছাড়াই স্নানযাত্রা সম্পন্ন হল ।
  • গত বছরও করোনার কারণে স্নানযাত্রা দর্শনের সুযোগ পান নি ভক্তরা ।
  • ১০৮ কলস জলে তিন বিগ্রহকে স্নান করান দয়িতাপতিরা ।
  • স্নানান্তে জ্বর হয় প্রভু জগন্নাথেরও।
  • ১৫ দিন নিভৃতবাসে থাকেন স্বয়ং ভগবানও ।

বিশেষ প্রতিবেদন : আজ প্রভু জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা । শ্রীক্ষেত্র পুরীতে হ‌ইচ‌ই কান্ড । তবে এবার নয় । যেমন হয় নি গতবার‌ও ।‌ তিথি ও রীতি মেনে পালিত হচ্ছে সব‌ই কিন্তু করোনা বিধির কারণে উৎসব বন্ধ ।‌ ওড়িশা মানেই প্রভু জগন্নাথের লীলাভূমি ।‌ পুরীর জগন্নাথ ধামকে কেন্দ্র করেই স্পন্দিত হয় উৎকলবাসীর আত্মিক ও ব্যবহারিক জীবন । রথযাত্রা‌ই ওড়িশার প্রধান পরব । জৈষ্ঠি পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রা দিয়েই প্রভুর রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় । জৈষ্ঠি পূর্ণিমা তিথিকে জগন্নাথদেবের জন্মতিথি বলে মানা হয়ে থাকে । এদিন প্রভু জগন্নাথ , প্রভুর অগ্রজ বলরাম এবং ভগিনী সুভদ্রাকে স্নান করানো হয় ।‌

ভক্তের ধ্রুব বিশ্বাস , এ বড় পুণ্যের দিন । যদি একবার প্রভুর স্নানযাত্রা চাক্ষুষ করার দুর্লভ সৌভাগ্য ঘটে তবে জীবনে সর্ব পাপের পাঁক থেকেও চিরমুক্তি সম্ভব । বুঝতেই পারছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে স্নানযাত্রা দর্শনে আজ জনতার স্রোত কেমনভাবে আছড়ে পড়ত পুরীর জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে । স্কন্দপুরাণ জানাচ্ছে , পুরীর মন্দিরে প্রভুর দারু বিগ্রহ ( দারু ব্রহ্ম ) প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই এই স্নানযাত্রার শুরু ।‌ রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন স্বয়ং এর সূচনা করেন । কাল যত‌ই গড়িয়ে যাক পুরীর মন্দিরে জগন্নাথ সেবায় নিয়মকানুনে কোনও নড়চড় নেই । প্রথমদিন থেকে আজ এক‌ই রকম ভাবে তিথি-নক্ষত্র-প্রহর-ক্ষণ মেনে দারু ব্রহ্মের পুজো , ভোগ এবং যাত্রা সম্পন্ন হয় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে । প্রভুর স্নানযাত্রার ক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যত্যয় হবার যো নেই । স্নানযাত্রার আগের দিন নির্দিষ্ট ক্ষণে জগন্নাথদেব , বলভদ্র এবং সুভদ্রার বিগ্রহ পট্টবস্ত্রে আচ্ছাদিত করে গর্ভগৃহ থেকে বের করে এনে শোভাযাত্রা সহযোগে স্নানবেদীতে স্থাপন করা হয় ।

জৈষ্ঠি পূর্ণিমার ভোরে প্রথমে মন্দিরের উত্তর দিকের কূপ থেকে জল এনে মন্ত্রোচ্চারণ দ্বারা জলের শুদ্ধিকরণ করেন সেবাইতরা । এরপর ১০৮টি করে সোনার কলসে সেই জল পূর্ণ করে চন্দন , আতর সহ নানা প্রকার সুগন্ধি জলে ঢালা হয় । ১০৮ কলসের জল দিয়ে বিগ্রহত্রয়কে স্নান করান সেবাইতরা । সুউচ্চ বেদীর ওপর স্নান সমারোহে চলে । দূর থেকেও ভক্তেরা দর্শন করে জন্ম সার্থক করেন । স্নানান্তে জগন্নাথ ও বলরাম গণেশবেশ ধারণ করেন । প্রভুর অঙ্গরাগবিহীন রূপ দর্শনে নিষেধাজ্ঞা আছে । স্বয়ং জগন্নাথদেব মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে এই নির্দেশ প্রদান করেছিলেন বলে কথিত আছে । স্নানান্তে তাই বিগ্রহত্রয়কে গর্ভগৃহের পরিবর্তে পাশের অন্য একটি কক্ষে স্থাপন করা হয় ।

১০৮ কলস জলে স্নানের কারণে ভগবানের‌ও জ্বর আসে । জ্বর সারাতে প্রভুকে নিরোধন গৃহে বিরাজ করতে হয় । এটি ১৫ দিনের পর্ব । এই পঞ্চদশ দিন জ্বর সারাতে দয়িতাপতিরা প্রভুকে বিশেষ পথ্য ভোগ হিসেবে নিবেদন করেন । এর মধ্যে পাচন থেকে শুরু করে মিষ্টি রসের পানা এবং নানা ধরণের মিষ্টান্ন থাকে । ১৫ দিন দারুব্রহ্ম রূপী জগন্নাথ বিগ্রহের দেখা পান না ভক্তরা । এই সময়কালকে বলা হয় ‘ অনসর ‘ । পনেরো দিন অতিবাহিত হলে প্রভু জ্বরমুক্ত হন এবং নেত্রোৎসবের দিন নববস্ত্র পরিধান করে নানা বেশভূষায়‌ সজ্জিত হয়ে ভক্তদের দেখা দেন প্রভু জগন্নাথ । তিনদিন পরেই দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে মহা ধূমধামে রথে চড়ে মাসির বাড়ি যাত্রা করেন জগন্নাথদেব ।

পুরীতে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা ।

YouTube link Source – OTV .


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *