শুনানি না হ‌ওয়ায় নারদা কান্ডে ধৃত চার নেতার জামিনের আশা জলে , বৃহস্পতিবার‌ রাত‌টাও সিবিআই হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে সুব্রত-ববি-মদন-শোভনকে


কলকাতা ,২০ মে,২০১ : প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ না বসায় নারদা মামলায় ধৃত দুই মন্ত্রী সহ চার নেতার জামিনের শুনানি স্থগিত হয়ে গেল বৃহস্পতিবার । অন্য বেঞ্চে মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানান বিধায়ক মদন মিত্রের আইনজীবী নীলাদ্রি ভট্টাচার্য । শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে  মামলার শুনানি হবে বলে  জানা গেছে । এদিন দুপুরে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে নারদা মামলায় ধৃতদের জামিনের ব্যাপারে  শুনানি হ‌ওয়ার কথা ছিল । কিন্তু সকালে  কলকাতা হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে অনিবার্য কারণ বশত  প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার না বসার নোটিশ পোস্ট করা হয় । প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চেই নারদা মামলায় ধৃতদের জামিনের আবেদনের শুনানি চলছে । বুধবার দুপুরের পর আড়াই ঘণ্টা শুনানি চলার পর কোর্ট দিনের মতো মুলতবি করে দেন বিচারপতিরা । 

সোমবার সকাল থেকে নারদা মামলায় সিবিআইয়ের হেফাজতে বন্দী রাজ্যর দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় । ঘটনার জেরে সোমবার দিনভর নাটক চলে । তৃণমূলের কর্মী সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসেন । সিবিআই দফতর নিজাম প্যালেস কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকেও গ্রেফতার করতে হবে এই দাবিতে সিবিআই দফতরে গিয়ে ছয় ঘণ্টা বসে ছিলেন । জনরোষের কারণে ধৃত চারজনকে আদালতে পেশ করার ঝুঁকি নেয় নি সিবিআই । কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ভার্চুয়াল হেয়ারিং শেষে চারজনের জামিন মিললেও জামিন বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে যায় সিবিআই । হাইকোর্ট সিবিআই আদালতের জামিনের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিলে ধৃতদের প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানো হয় । 

বৃহস্পতিবার রাতটাও সিবিআইয়ের অধীনেই থাকতে হচ্ছে চারজনকে  ।

মঙ্গলবার সকালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সুব্রত মুখোপাধ্যায় , মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে এস‌এসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হলেও ফিরহাদ হাকিম জেলের হাসপাতালে থেকে যান । হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে জামিন চেয়ে আবেদন করেন অভিযুক্তরা । অভিষেক মনু সিংভি এবং সিদ্ধার্থ লুথরার মতো বাঘা আইনজীবী ধৃতদের হয়ে স‌ওয়াল করেও ডিভিশন বেঞ্চে বিশেষ সুবিধা করতে পারেন নি । সোমবার দুই মন্ত্রীর গ্রেফতারের পরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ , নিজাম প্যালেস ঘেরাও সর্বোপরি মুখ্যমন্ত্রীর নিজাম প্যালেসে ছয় ঘণ্টা বসে থাকাকে বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও মামলায় প্রভাব খাটানোর নমুনা হিসেবে আদালতের সামনে তুলে ধরেন সিবিআইয়ের আইনজীবী । সিবিআইয়ের কাজে তৃণমূল সমর্থকদের বাধা দান ও মুখ্যমন্ত্রীর সিবিআই দফতরে ছয় ঘণ্টা বসে থাকার বিষয়টিকে ডিভিশন বেঞ্চ খুব একটা ভালভাবে নেয় নি বলেই মনে করছে  রাজনৈতিক মহল । বুধবার শুনানি চলার সময় এ নিয়ে খানিকটা উষ্মাও প্রকাশ করতে দেখা যায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলকে । 

বুধবার হতাশ হতে হলেও বৃহস্পতিবার জামিনের ব্যাপারে উচ্চ আদালত একটা সুরাহা করবে বলে আশা ছিল রাজ্য সরকার ও তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের । কিন্তু বিধি বাম । শ্বাশুড়ি বিয়োগের কারণে এদিন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে আসেন নি বলে জানা গেছে ।  ভাগ্যের পরিহাসে বৃহস্পতিবার রাতটাও সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম , মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সিবিআইয়ের হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে । 

Photos – Archives.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *