নজরে দিনহাটা : একদা কমল গুহর দুর্ভেদ্য দুর্গই কি হতে চলেছে মমতার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঠিকানা ?


  

অরুণকুমার,১৩ এপ্রিল,২০২১: এবার উত্তরবঙ্গের দিনহাটা কি হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী ক্ষেত্র ? উপনির্বাচনে দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কি প্রার্থী হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ? তৃণমূলের শীর্ষ মহলে কান পাতলে এমন‌ই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে । ভেতরের খবরের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক মহলের জল্পনা এবার উত্তরবঙ্গের দিনহাটাকেই বিধানসভায় প্রত্যাবর্তনের আসন হিসেবে বেছে নিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । 

ফটো ফিনিসে উদয়ন গুহকে হারিয়েও দিনহাটা ছাড়লেন নিশীথ প্রামাণিক ।

বুধবার‌ই  বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দু’জনকেই সাংসদ পদ‌ ধরে রেখে বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা । বিধানসভায় নির্বাচিত হ‌ওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিধায়ক অথবা সাংসদ যে কোন‌ও একটি পদ রেখে দেওয়ার সুযোগ ছিল নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকারের সামনে । দু’জনেই বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় আগামী তিন মাসের মধ্যেই দিনহাটা ও শান্তিপুর আসনে উপনির্বাচন অবধারিত । নদীয়ার শান্তিপুর এসসি  সংরক্ষিত বিধানসভা হলেও দিনহাটা সাধারণ । হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর  দিনহাটা কেন্দ্রে মাত্র ৫৭ ভোটে নিশীথ প্রামাণিকের কাছে হেরে যান উদয়ন গুহ । 

উত্তরবঙ্গে  বিজেপিকে  চাপে  রাখতে দিনহাটাকেই বেছে নেবেন কি মমতা ?

একুশের ফাইনালে সবথেকে হাইভোল্টেজ লড়াই ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে । ব্যাটেল অব নন্দীগ্রামের রেজাল্ট সকলের জানা হয়ে গেছে । সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে মাত্র ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে প্রাক্তন সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো । নন্দীগ্রামে পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আসন খোঁজার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে । সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচিত হয়ে বিধানসভায় আসতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে । 

এই পরিস্থিতিতে নিশীথ প্রামাণিকের পদত্যাগের কারণে শূন্য হ‌ওয়া  অসংরক্ষিত দিনহাটা আসনটিকেই তৃণমূল বেছে নিতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমোর তেমনই ইচ্ছা বলে জানা গেছে । হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও আদিবাসী অধ্যুষিত পাঁচ জেলায় তৃণমূলের রেজাল্ট মোটেই ভাল হয় নি । কোচবিহার জেলায় নয়টির মধ্যে সাতটিই  তৃণমূলের হাতছাড়া । ভোট পরবর্তী‌ নানা রাজনৈতিক অঙ্ক মাথায় রেখে  উত্তরবঙ্গে দল এমনকি প্রশাসন ও উন্নয়নের দায়িত্ব‌ও এবার মমতা নিজের হাতে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা । উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রক মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাছে রেখে দেওয়ায় ঘটনা সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে ।  প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহকে অন্য কোনও পদে পুনর্বাসিত করে দিনহাটা আসনে মমতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিরাট ব্যবধানে দলের জয় নিশ্চিত বলে মনে করছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব । দিনহাটায় বিজয়ী হয়ে তিনি বিধানসভায় ফিরে এলে উত্তরবঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিজেপির প্রভাব হ্রাসে তা সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো । 

বাংলার রাজনীতিতে  একদা দিনহাটা আর কমল গুহ ছিল সমার্থক ।
রাজ্যের প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী ও ফর‌ওয়ার্ড ব্লকের জনপ্রিয় নেতা কমল গুহ ছিলেন দিনহাটার ভূমিপুত্র । জীবদ্দশায় দিনহাটায় কমল গুহ ছিলেন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য । প্রান্তিক আসন হয়েও কমল গুহের কারণেই রাজ্য রাজনীতিতে আলাদা পরিচিতি পায় দিনহাটা । ভবিষ্যতে দিনহাটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী ক্ষেত্র হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলবে কিনা তা সময়েই জানা যাবে ।


 



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *