একটি ( অ ) শোভন আলাপ : ব‌উ , বান্ধবী এবং উডবার্নে শোভনের কেবিন


                                   ফি চা র

চারজন‌ই এক মামলায় সিবিআইয়ের জালে । কিন্তু ফুটেজ খাচ্ছেন একজন‌ই । বিজেপির খাতা থেকে তাঁর নাম কাটা গিয়েছে বলে এখনও শোনা যায় নি । তবে মোদী-শাহ যে তাঁকে খরচের খাতায় ফেলে দিয়েছেন তার প্রমাণ নারদা মামলায় তৃণমূলের তিন নেতার সঙ্গে তাঁকেও খাঁচাবন্দী করতে দ্বিধা করে নি সিবিআই । আসল জায়গা থেকে সবুজ সঙ্কেত না পেলে সোমবার সাত সকালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা যে গোলপার্কের ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে তাঁর নিদ্রাভঙ্গ করতেন না তা তাঁর শত্রু-মিত্র , স্ত্রী-পুত্র-কন্যা-বান্ধবী নির্বিশেষে কার‌ও বুঝতে বাকি নেই । দলে থাকতেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অঙ্গুলিহেলনে কয়েদবাসের ঘটনা রাজনীতিতে সচরাচর দেখা যায় না । সেইদিক থেকে দেখলে শোভন চট্টোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে হতভাগা । ঘরণী আর বান্ধবীর টানাটানির ফেরে পড়ার পর থেকেই পাবলিক লাইফে শোভনের না ঘরকা না ঘাটকা দশা । 

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন যে কী হ‌ইতে কী হ‌ইয়া গেল তা ভেবে নিশ্চয় তাঁর ঘনিষ্ঠরা তাজ্জব বনে যান ।‌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিকটস্থদের মধ্যেও নিকটস্থ ছিলেন যিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবন যে হঠাৎ করে এমন এলোমেলো হয়ে যাবে তা কি স্বয়ং মমতাও ভেবেছিলেন কখন‌ও ? একাধিক দফতরের মন্ত্রীত্ব থেকে মেয়র – কাননকে দু’হাত ভরিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । দিদির আশীর্বাদে প্রশস্ত রাজনৈতিক জীবন । ধনাঢ্য শ্বশুরবাড়ির সৌজন্যে অঢেল সম্পদ । সবকিছু‌ই পেয়েছিলেন তিনি । শোভন নিজেও ভীষণ ‌পরিশ্রমী । দক্ষ সংগঠক । এবং ভিটামিন এম আহরণে সহজাত প্রতিভার অধিকারী । বান্ধবী অর্জনেও শোভনের যোগ্যতা প্রশ্নাতীত । বৈশাখীর অনুপ্রেরণায় সম্পর্কের রসায়ন টক হয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত রায়দিঘির প্রাক্তন তারকা বিধায়কের সব থেকে বড় সহায় ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়‌ই ।

শোভনের রাজনৈতিক জীবন কী হইতে কী হইয়া গেল !
 
শোভনের রাজনৈতিক জীবন কী হ‌ইতে কী হ‌ইয়া গিয়াছে তা বঙ্গজনেরা দু’চোখ ভরে দেখতেই পাচ্ছে । তবে রাজনৈতিক ভাবে অনাথ হয়েও মিডিয়ায় শোভনের টিআরপি অল‌ওয়েজ হাই । শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বায়োডেটার সবকিছুই এখন এক্স । এক্স মেয়র । এক্স মিনিস্টার । এক্স এম‌এল‌এ । নিতান্তই অকালে ট্রিপল এক্স হ‌ওয়ার পরেও শোভন যেখানে খবর সেখানে । সিবিআইয়ের খপ্পরে পড়ার পরেও সুব্রত মুখোপাধ্যায় , ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রী , মদন মিত্রের মতো বর্ণময় চরিত্রকে ছাপিয়ে মিডিয়ার মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়‌ই । কলকাতার সাংবাদিক মহলে কান পাতলেই শোনা যায়  শোভন-বৈশাখী-রত্না , এই ট্র্যাঙ্গুলার যেখানে স্টোরি সেখানে জমে মালাই হতে বাধ্য । 

সর্বশেষ শোভন সংবাদটি হল উডবার্ন ওয়ার্ডে তাঁর কেবিনে স্ত্রী-পুত্র-কন্যার প্রবেশ রোধে উকিল মারফৎ এস‌এসকেএমের সুপারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র । তথায় কার অবাধ প্রবেশ চান শোভনবাবু তা বলার অপেক্ষা রাখে না । এই সংবাদ কর্ণকুহরে প্রবেশ করা মাত্রই শোভন ঘরণী বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের হুঙ্কার – ‘ ওর বান্ধবী কীভাবে কেবিনে ঢোকে সেটাও দেখব ‘ । শোভন চট্টোপাধ্যায়ের উকিলের চিঠি আর রত্নাদেবীর হুঁশিয়ারি শোনার পর এস‌এসকে‌এম সুপারের হার্টবিটের রেট কোথায় পৌঁছেছে তা সহজেই অনুমেয় । এই ব্যাপারে শোভন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া কী তা এখনও জানা যায় নি । তবে শীঘ্রই তিনি কোন‌ও মন্তব্য ছাড়বেন বলে আশা করা যায় । এখন সিরিয়াল আর ওয়েব সিরিজের থেকেও পাবলিক বেশি মজা পাচ্ছে ‘ শোভনের কেবিনে ব‌উ না বান্ধবী ‘ লাইভ থ্রিলার দর্শনে ।

  


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *