দফা চারের আগে দিলীপ ঘোষের হুঙ্কার : মানুষকে ভোট দিতে বাধা দিলে হিসেব বুঝে নেবো - nagariknewz.com

দফা চারের আগে দিলীপ ঘোষের হুঙ্কার : মানুষকে ভোট দিতে বাধা দিলে হিসেব বুঝে নেবো


    

সিতাই , ৮ এপ্রিল , ২০২ : ভোটের চতুর্থ দফায় প্রচারের শেষ দিন কোচবিহার চষে ফেললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ । বুধবার সন্ধ্যায় শীতলকুচিতে সভা শেষে ফেরার পথে আক্রান্ত হলেও দমে যান নি  দিলীপবাবু । বৃহস্পতিবার সকাল হতেই দ্বিগুণ উৎসাহে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজ্য বিজেপির কর্ণধার । এদিন কোচবিহার জেলার সিতাই , নাটাবাড়ি ও  তুফানগঞ্জে নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেন দিলীপ ঘোষ । মাথাভাঙ্গায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে একটি রোড শো‌ও করেন তিনি। সিতাইয়ে দলের প্রার্থী দীপক রায়ের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন ,‌ ‘ যদি ঠিকঠাক ভোট হয় । যদি আপনারা একবার ভোট দিতে পারেন তবে টিএমসির জোড়াফুলকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না । তাই গুলি , বোমা , বন্দুকের আওয়াজ করছে তৃণমূল ।’

সভা থেকে মানুষকে সকাল সকাল বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ । তিনি বলেন ‌, ‘ তৃণমূলের হিংসা , অত্যাচার আর দুর্নীতির একটাই জবাব । আর সেটা হল পদ্মফুল চিহ্নে ছাপ দিয়ে রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরি করা। আগামী০ তারিখ সেই দিন আসছে । সমস্ত অত্যাচারের জবাব দেওয়ার দিন। লোকসভার সময় অত্যাচার ছিল। ভয় ছিল। তাই আমরা বলেছিলাম চুপচাপ পদ্মে ছাপ । আপনারা পদ্মে ছাপ দিয়ে নিশীথ প্রামাণিককে এমপি বানিয়ে ছিলেন ।’ দিলীপবাবুদের কাছে লোকসভা ভোট সেমিফাইনাল ছিল। এবার ফাইনাল খেলায় ‌জিতে টিএমসিকে হটিয়ে রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠন করতেই হবে বলে সভায় জানান দিলীপ ঘোষ । স্বভাবসিদ্ধ বাচনভঙ্গিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন , ‘ এবার ফাইনাল খেলা হবে । আবার আমাদের খেলতে হবে। সব জায়গায় পদ্মফুলে ভোট দিয়ে টিএমসিকে হারিয়ে বিজেপির সরকার গঠন করতে হবে। ‘

ভোটে বাধা দিলে হিসাব বুঝে নেবো : সিতাইয়ে দিলীপ ঘোষ। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সভার পর সভায় বাছা বাছা শব্দ সহযোগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গালমন্দ করছেন প্রতিপক্ষ শিবিরের ক্যাপ্টেন দিলীপ ঘোষের কাছে তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীই শেষ ভরসা। সিতাইয়ের সভায় দাঁড়িয়ে দিলীপবাবু জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ নিশ্চিন্তে ভোট দিন। কোনও কিছুতেই ভয় পাবেন না। ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে আপনাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ‌।’ ভোট দিতে বাধা দিলে কে কত মায়ের দুধ খেয়েছে তা দলের ছেলেরা দেখে নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি । দিলীপ ঘোষ হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, ‘ আপনারা ভোটের কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়াবেন । ভোট দিয়ে চলে আসবেন। কেউ যদি বাঁকা চোখে তাকায় । চমকায় , ধমকায় । আমাদের কর্মীদের বলবেন । আমরা হিসাব বুঝে নেবো । দেখে নেবো কে কত মায়ের দুধ খেয়েছে । ‘

কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরূপতাকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন , ‘ দিদিমণি এখন বলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে রাখতে । অথচ দশ বছর আগে যখন তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছিলেন। সিআরপিএফ চেয়েছিলেন। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে  এই ইভিএম মেশিনের ভোটেই জিতে তিনি ২০১১তে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন ‌ ২০তেও জিতেছিলেন। ‘ মানুষ ভোট দিলে তিনি জিততে পারবেন না জেনেই মমতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরোধীতায় নেমেছেন বলে কটাক্ষ করেন দিলীপবাবু । প্রত্যেকটা মানুষ যাতে শান্তিতে , নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন সেই লক্ষ্যেই সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাথাভাঙ্গা : রোড শোতে জনতাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ ।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত  তৃণমূলের ছোট থেকে বড় সমস্ত নেতাকে জেলে ঢোকানো হবে বলে হুঁশিয়ারি ‌দেন দিলীপ ঘোষ। সভায় দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন তিনি। দিলীপ ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে  বলেন , ‘ আমি খবর পাচ্ছি, এখনও দু’একজন আইসি , ওসি আছেন ।  যারা আমাদের কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে । কেস দিচ্ছে। গুনে দেখুন দুই তারিখ আর কদ্দিন আছে । দুই মে আর কয় সপ্তাহ আছে । তিন সপ্তাহ । বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন । নতুন সরকার হবে । আপনারা কোথায় যাবেন ঠিক করে নিন। ‘ তৃণমূল ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে রাজ্যের মুসলমানদের অশিক্ষিত , সমাজবিরোধী বানিয়ে রেখেছে বলে কটাক্ষ করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি । দিলীপবাবু বলেন, ‘ তৃণমূলের রাজত্বে মুসলমানদের ভোটার বানিয়ে রাখা হয়েছে  ভারতীয় বানানো হয় নি । ‘ বিজেপি বাংলায় সরকারে এলে সংখ্যালঘুদের সমাজের মূলস্রোতে আনবে বলে দাবি করেন তিনি ।


Leave a Reply

Your email address will not be published.