জলপাইগুড়ি সদরে জোটের প্রার্থী সুখবিলাস‌ বর্মাই , জয়ের হ্যাট্রিকের লক্ষ্যেই ঝাঁপাচ্ছেন প্রাক্তন আমলা


নিজস্ব সংবাদদাতা : জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনে জোট প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা‌‌ই । সুখবিলাসবাবুর প্রার্থী হ‌ওয়া নিয়ে দলের ভেতরে একটি মহলের আপত্তি থাকলেও‌ শেষ পর্যন্ত তা গ্রাহ্য করে নি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব । রবিবার রাতেই  ‘এআইসিসি ‘ ঘোষিত  প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম থাকার কথা জেনে যান সুখবিলাসবাবু । দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হ‌ওয়ার আগে থেকেই অবশ্য মনোনয়ন লাভের আভাস পাচ্ছিলেন এই প্রাক্তন আমলা । বেশ কয়েকদিন ধরে জলপাইগুড়ি শহরেই অবস্থান করছেন তিনি ।‌ দলীয় কর্মসূচিতেও দেখা যাচ্ছিল তাঁকে । 

কংগ্রেসের ৩৪ প্রার্থীর তালিকা ।


২০১১ থেকে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা । এগারোতে তৃণমূলের সমর্থনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ফর‌ওয়ার্ড ব্লকের গোবিন্দ রায়কে হারিয়ে সুখবিলাস বর্মার প্রথমবারের মতো বিধানসভায় প্রবেশ । পাঁচ বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চালচিত্র বদলে যায় । তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করে সরকার থেকে বেরিয়ে আসে কংগ্রেস । ২০৬র বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করে । সদর বিধানসভা আসনে জোটের প্রার্থী হন সুখবিলাস বর্মা‌‌ই । সাত হাজারের‌ও বেশি ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের ধর্তিমোহন রায়কে পরাস্ত করে পুনর্নির্বাচিত হন সুখবিলাসবাবু । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির মাস্টার্স সুখবিলাস বর্মা উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের কৃতি সন্তানদের মধ্যে অন্যতম । প্রাক্তন এই আইএএস তাঁর দীর্ঘ আমলা জীবনে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব যোগ্যতার সঙ্গে সামলেছেন । ভাওয়াইয়া সঙ্গীতে সুখবিলাসবাবুর দখল প্রশ্নাতীত । দোতারা বাজিয়ে গলায় ভাওয়াইয়ার সুর তোলার পাশাপাশি লোকসঙ্গীতের গবেষক‌ও তিনি । লোকসঙ্গীতের ওপরেই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন পিএইচডি ডিগ্রি । কর্মজীবন থেকে অবসরের পর রাজনীতিতে আসা । ২০০৯ এর লোকসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সমর্থনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সিপিএমের মহেন্দ্র রায়ের কাছে হেরে যান তিনি ।
তৃণমূল ও বিজেপি – রাজনৈতিক ভাবে দুই দলেরই তীব্র বিরোধী সুখবিলাস বর্মা ।

বিধায়ক সুখবিলাস বর্মার বিরুদ্ধে বিরোধীদের সবথেকে বড় অভিযোগ , নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রে পাঁচ বছরে তাঁর দেখা মেলে কদাচিৎ । যদিও বিধানসভার বিরোধী বিধায়কদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বিদায়ী বিধানসভায় দীর্ঘদিন সামলাচ্ছেন পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির ( PAC ) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব । রাজনৈতিক অবস্থানগত ভাবে তৃণমূল ও বিজেপি – দুই দলেরই তীব্র বিরোধী সুখবিলাসবাবু। চিটফান্ড বিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাঁকে । একাধিকবার দলবদলু হ‌ওয়ার প্রস্তাব আসলেও তা প্রত্যাখ্যান করতে দেরি করেন নি সুখবিলাস বর্মা। দলে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে কার‌ও কার‌ও অসন্তোষের থাকলে‌ও তা মিটিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী সুখবিলাসবাবু । তিনি বলেন, ‘ সব দলেই ক্ষোভ থাকে । আমাদের দলেও আছে । সবাইকে সন্তুষ্ট করে চলা পার্টি তো দূরের কথা স্বয়ং ভগবানের পক্ষেও সম্ভব নয়।’ তবে সবার সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ প্রশমিত করে যত দ্রুত সম্ভব প্রচারকার্যে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়াই এখন সুখবিলাসবাবুর লক্ষ্য ।  

সোমবার সকালে জলপাইগুড়ির বাসায় রিল্যাক্সড মুডে জোট প্রার্থী  ।

এবারের ভোটে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান নি বলেও জানালেন সুখবিলাস বর্মা । কিন্তু দলের নির্দেশেই শেষে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে লড়তে নামতে হচ্ছে তাঁকে । এমনটাই দাবি প্রার্থীর নিজের । কংগ্রেস এবার পদে আসীন কোন‌ও বিধায়ককেই বাদ দেয় নি । জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনেও এর অন্যথা হয় নি । লড়াই যত‌ই কঠিন হোক জেতার ব্যাপারে দারুণ আত্মবিশ্বাসী সদর বিধানসভা কেন্দ্রের জোট প্রার্থী। আগের দু’বার‌ও শক্ত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাৎ করেছেন সুখবিলাস বর্মা । এবার‌ও তাই হাল ছাড়তে নারাজ এই প্রাক্তন আইএএস । প্রচার কৌশল ঠিক করতে শীঘ্রই তিনি কংগ্রেসের নেতা কর্মীদের পাশাপাশি সিপিএম সহ বামফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন সুখবিলাস বর্মা ।

                   

ভিডিওতে দেখুন-


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *