বসন্তে গেরুয়া রাঙা টলিউড , যশ লাভ বিজেপির , স্টুডিও পাড়ায় পদ্মমুখী লাইনে আর কারা ? - nagariknewz.com

বসন্তে গেরুয়া রাঙা টলিউড , যশ লাভ বিজেপির , স্টুডিও পাড়ায় পদ্মমুখী লাইনে আর কারা ?


এন এন ডি সি পলিটিক্যাল ডেস্ক : বসন্ত পঞ্চমীর পরদিনই টলিপাড়ায় শাসক তৃণমূলকে বড় ঝটকা দিল বিজেপি । বুধবার সকাল থেকেই নুসরাত জাহান বান্ধব যশ দাশগুপ্তকে নিয়ে জোর গুঞ্জন । সন্ধ্যা নামার আগেই সমস্ত জল্পনার অবসান । কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে মুকুল রায় , স্বপন দাশগুপ্ত ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়র হাত থেকে  পতাকা  নিয়ে বিজেপিতে নাম এনরোল করে ফেললেন যশ । সঙ্গে পাপিয়া অধিকারী , সৌমিলি বিশ্বাস , মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ টলিউডের ছোট-বড় পর্দার একঝাঁক তারকা । পাপিয়া অধিকারী টলিউডের পুরোনো মুখ । যে গুটিকয়েক অভিনেতা এগারোর পরেও সিপিএমের প্রতি সহানুভূতি দেখাতেন পাপিয়া অধিকারী তাঁদের একজন । একুশে ভোটের দোরগোড়ায় বাম ছেড়ে রাম হলেন পাপিয়াও । তবে বাজারে সবথেকে বেশি চর্চা যশ দাশগুপ্তকে নিয়েটলিউডের উঠতি তারকা।  সিরিয়াল-সিনেমা-ওয়েব সিরিজের জনপ্রিয় মুখ । সিনেমা-সিরিয়াল করে যশ যতটা যশ কুড়িয়েছেন ইদানিং তার থেকে বেশি যশ পেয়েছেন নুসরাত জাহানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করে । নুসরাত আর যশের সম্পর্কের কেমিস্ট্রিটা ঠিক কী এটা নিয়ে মিডিয়ায় গবেষণার শেষ নেই ।  যশের সঙ্গে রিলেশনের জেরে স্বামী নিখিলের সঙ্গে নুসরাতের  দাম্পত্যে শীতলতা নাকি স্বামীর সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে  যশের সঙ্গে নুসরাতের মেলামেশা – এইসব নিয়ে অনেক কানাঘুষো বাজারে । তৃণমূলের তারকা সাংসদ নুসরাত জাহান । তাঁর বন্ধু যশ দাশগুপ্ত  বিজেপিতে ঢুকতে চলেছেন –  বুধবার সকালে এই খবর চাউর হতে সঙ্গত কারণেই রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি  হ‌ইচ‌ই শুরু হয়ে যায় টলিপাড়ায়‌ও । 

নুসরাত ও যশ : দুই ফুলে দুই জন

রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টলিউডেও এখন দলবদলের হিড়িক । এগারোর পর থেকেই স্টুডিও পাড়া তৃণমূলের কব্জায় । প্রত্যেক  লোকসভা , বিধানসভা ভোটে কমপক্ষে হাফডজন টিকিট অভিনেতাদের জন্য বরাদ্দ করা প্রায়  রেওয়াজে পরিণত করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । নিন্দুকেরা বলেন , একুশে জুলাইয়ে তৃণমূলের মঞ্চে উপস্থিত না থাকলে কলাকুশলীদের  স্টুডিও পাড়ায় কাজ  পাওয়াই সমস্যার করে দেন রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাই । উনিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই ইতিউতি দু’একজন করে অভিনেতা-অভিনেত্রী গেরুয়া শিবিরে ভিড়তে থাকেন । লোকসভা ভোটের পর আরও কয়েকজন অভিনেতা -অভিনেত্রী বিজেপিতে ঢুকলেও টলিউডে তৃণমূলের দাপট মোটের ওপর অক্ষুণ্ণই থাকে । 

বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন যশ দাশগুপ্ত

বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তৃণমূলের ঘর ভাঙতে  বিজেপি নেতৃত্ব যতটা প্ল্যান মাফিক ‌এগিয়েছেন ঠিক ততটাই পরিকল্পনা করে চাল চেলেছেন টলিউডে শাসক দলের ঘাঁটি ভাঙতে । ভোটের মুখে একদিকে স্টুডিও পাড়ায় নিজেদের ঘর আগলে রাখতে তৃণমূলের মরীয়া চেষ্টা অন্যদিকে সেলিব্রেটি মহলে দল ভারী করতে বিজেপির কোশিশ – যাকে বলে খেলা একেবারে জমজমাট । আর তার লাভ তুলছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।  টলিউডে শাসকদলের বিরুদ্ধে যাদের মনে আগে থেকেই একটা ক্ষোভ আছে এখন সুযোগ বুঝে অনেকেই বেসুরো গাইছেন তারা । আবার হাওয়া বুঝে জার্সি পাল্টে ফেলছেন সুযোগসন্ধানী কেউ কেউ । টলিপাড়ার কুশীলবদের মতিগতি বুঝেই টোপ দিচ্ছে বিজেপি জানুয়ারিতেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি বনে গেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ । মেগা সিরিয়ালের কৌশিক রায়‌ও  । রুদ্রনীলের বিজেপিতে যোগদান তৃণমূলের জন্য একটা ঝটকা ছিল । পাল্টা চমক দিতে দিন কয়েক আগেই দীপঙ্কর দে , ভরত কল এবং বাহামনি খ্যাত রণিতা সহ একঝাঁক কলাকুশলীকে দলে টেনেছে তৃণমূল । বুধবার টলিউডের উঠতি তারকা যশ দাশগুপ্ত , পাপিয়া অধিকারী সহ একঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রীকে দলে ভিড়িয়ে স্টুডিও পাড়ায় বিজেপি বেশ বড় মাপের দাও মারল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল । 

প্রসেনজিতের পথও কি কমল কাননের দিকে ?
সবথেকে বড় কথা বুধবারটা তৃণমূলের টলিউড কেন্দ্রীক রাজনীতির জন্য মোটেই ভালো গেল না । সকাল সকাল‌ই চিরঞ্জিত চিঠি লিখে দলনেত্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন , এবার তিনি ভোটের লড়াই থেকে অব্যাহতি চান । রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়ে পুরোনো পেশাতেই নাকি ফিরতে চান বিধায়ক চিরঞ্জিত । মুখে চিরঞ্জিত বিজেপিতে যাওয়ার কথা উড়িয়ে দিলেও তাঁর মনে অন্য কোনও প্ল্যান আছে কিনা সময়‌ই বলবে টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এতদিন কৌশলে রাজনীতির ছোঁয়াচ থেকে গা বাঁচিয়ে চললেও মঙ্গলবার থেকে তাঁকে নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা । জল্পনার উৎস রাজ্য বিজেপির অন্যতম তাত্ত্বিক নেতা অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুপারস্টারের সাক্ষাৎ । প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে নিজের লেখা ব‌ই তুলে দিয়ে এসেছেন অনির্বাণবাবু ।
দিদির কাছে দল থেকে  বিদায় চাইলেন চিরঞ্জিত 

স্বয়ং প্রসেনজিৎ কমলকাননে  প্রবেশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও এত সহজে কথায় ভুলতে রাজি নন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা । কিছু দিন আগেই দিল্লির কৃষক আন্দোলনে কয়েকজন  বিদেশী সেলিব্রেটির সমর্থন বিতর্কে মোদী ও ভারতের হয়ে প্রসেনজিৎ জায়া অর্পিতার সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস নামানোর সঙ্গে প্রসেনজিৎ-অনির্বাণ মোলাকাতের কোন‌ও যোগসূত্র আছে কিনা খুঁজে দেখছে রাজনৈতিক মহল । কাজেই এই সাক্ষাৎ নেহাতই সৌজন্য না অন্যকিছু তা নিয়ে কাটাছেঁড়া সহজে থামবে বলে মনে হয় না ।

মিঠুন গৃহে মোহন ভাগবত : বাংলার ভোটের সঙ্গে  কোনও  সম্পর্ক  আছে কি ?

তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় গেলেও চিটফান্ড কান্ডে গায়ে কাদা লাগতেই পদ এবং দল দুটোই ত্যাগ করেছেন বলিউডের সবথেকে সফলতম বাঙালি সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী। একসময় সিপিএমের সঙ্গে সখ্য থাকা মিঠুন এগারোর পর দিদির স্নেহচ্ছায়াতলে আশ্রয় পান । চিটফান্ড কান্ডের পর দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর সংশ্রব না থাকলেও  বাংলায় ভোটের মুখে ফের চর্চায় মিঠুন । দু’দিন আগেই মুম্বাইয়ে মিঠুনের গৃহে আতিথ্য নিয়েছেন যিনি তাঁর নাম মোহন ভাগবত । আরএসএস প্রধানের সঙ্গে তাঁর আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কথা স্বমুখেই স্বীকার করেছেন মিঠুন । এই আধ্যাত্মিক সম্পর্ক থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোন‌ও রাজনৈতিক সমীকরণ জন্ম নেয় কিনা এখন সেই দিকেই তাকিয়ে সবাই । মনে রাখতে হবে মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে এখনও  যথেষ্টই আবেগ বাঙালির । 

টলিউডে ঘাসফুলের ঘরে পদ্ম ফোটাতেও কি আসরে মুকুল রায় ?

তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে বাংলার রাজনীতিতে ফিল্মস্টারদের কদর ছিল না । দু’একজন অভিনেতা হালকা পাতলা পলিটিক্স করলেও  শাসক সিপিএম বা বিরোধী কংগ্রেস –  টলিউডের নায়ক-নায়িকাদের নিয়ে টানাটানি করত না কেউই । রাজনীতিটা নেতারাই করতেন অভিনেতারা নন । ফিল্মস্টারদের ডেকে ডেকে এমপি-এম‌এল‌এ বানানো শুরু করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌ই । তৃণমূলের দশ বছরের শাসনে টলিউডের স্টুডিও পাড়া রাজ্যের এক দাপুটে মন্ত্রীর ভাই  আর শাসক দলের অনুগত এক প্রভাবশালী প্রযোজকের দখলে চলে যায় বলে অনেকের অভিযোগ । বিধানসভা ভোটের মুখে  টলিপাড়ায় শাসকদলের  প্রভাবও যে হ্রাসের মুখে চলতি ঘটনাপ্রবাহ‌ই তার প্রমাণ দিচ্ছে । অন্যের ঘর ভাঙিয়ে নিজের শক্তিবৃদ্ধিতে বাংলা রাজনীতিতে মুকুল রায়ের জুড়ি নেই । টলিউডে শাসকদলের ঘর ভাঙতেও বিজেপি মুকুলকেই কাজে লাগিয়েছে বলে  পর্যবেক্ষকদের অনুমান । তৃণমূলের তারকা সাংসদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্টুডিও পাড়ায় আরও কে কে রঙ বদলান এখন এটাই দেখার ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *