আব্বাস সিদ্দিকিকে জোটে টানতে মরীয়া সিপিএম , বামেদের পীরজাদা প্রেমে ভোটে সুবিধা কিন্তু বিজেপির‌ই


এনএনডিসি  পলিটিক্যাল ডেস্ক : বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বাম – কংগ্রেসের আসন সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত হয় নি । তবে দু’দফা আলোচনায় ১৯৩ আসনে রফা পাকা বলে ইতিমধ্যেই একবার জানিয়েছেন দুই দলের নেতৃত্ব । এদিকে বাম কংগ্রেসের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হ‌ওয়ার আগেই বাংলার রাজনৈতিক আসরে অবতীর্ণ হয়ে গেছেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি । আব্বাস সিদ্দিকির রাজনীতিতে যোগদান রাজনৈতিক মহলে অপ্রত্যাশিত কোন‌ও ঘটনা ‌নয় । নামবো নামবো করতে করতে পীরজাদা বঙ্গ রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে নেমেই পড়েছেন অবশেষে। দলের নাম ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট‌ । সংক্ষেপে আই এস এফ । পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি দল গঠন করার আগে থেকেই তাঁকে প্রীতির চোখে দেখছেন সিপিএমের নেতারা । কংগ্রেসের‌ একটি অংশের‌ও তার সঙ্গ লাভে আপত্তি নেই । 

ইসলাম বা মুসলমান জনগোষ্ঠীর নামে আত্মপরিচয়ের রাজনীতি করে এমন দলের সঙ্গে একঘাটে জল খেতে বামপন্থী বিশেষত সিপিএম-সিপিআইয়ের কোনও কালেই আপত্তি ছিল না । কেরলে মুসলিম লিগ সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এর সদস্য । পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির পলিটিক্যাল ন্যারেটিভ বা রাজনৈতিক ভাষ্য কীভাবে সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ হয় তা নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মনে সংশয় থাকলেও সিদ্দিকির সদ্যজাত দলের সঙ্গে রাজনৈতিক মহাব্বতে অনাগ্রহ নেই বিমান বসু- সূর্যকান্ত মিশ্রদের । আব্বাস সিদ্দিকির হাত ধরতে কংগ্রেসের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করলেও বাম নেতারা একপ্রকার মনস্থির করে ফেলেছেন বলেই মনে হচ্ছে । সিপিএম নেতৃত্ব এখন প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের ফুঁসলে যাচ্ছেন যাতে মনের পিছুটান দূরে সরিয়ে তারা আব্বাস সিদ্দিকির প্রেমের আলিঙ্গনে ধরা দেন । রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান নাকি ইতিমধ্যেই সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন কেন পশ্চিমবঙ্গে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে বাম-কংগ্রেসের দোস্তি জরুরী। আব্বাস সিদ্দিকির রাজনৈতিক বয়ানকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে হজম করতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কিছুটা অসুবিধা আছে বলেই প্রদেশ কংগ্রেস সিদ্দিকিকে জোটে নেওয়া নিয়ে হ্যাঁ বা না কোনটাই এখনও স্পষ্ট করে জানাচ্ছে না বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা ।

আব্বাস সিদ্দিকির রাজনীতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা খুঁজে পেয়েছে সিপিএম

তবে গরজ বড় বালাই । বিশেষত বাংলার বাম শিবিরের জন্য । আব্বাসের আইএস‌এফ কে জোটের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সিপিএম এক পা বাড়িয়েই রেখেছে ।‌ আব্বাস সিদ্দিকিকে চিঠি দিয়ে জোটের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু । আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারি বাম-কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে । নিজেদের ভাগের থেকে কিছু কিছু করে আসন ছেড়ে দিয়ে আব্বাস সিদ্দিকিকে খুশি করার একটা চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর । 

ফুরাফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি কেন বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠনে আগ্রহী তা সহজেই বোধগম্য । জোটে জায়গা জুটে গেলে তাঁর লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই । তিনি মুসলমানদের স্বার্থ নিয়ে খুল্লামখুল্লা রাজনীতি করলেও দলের নাম রেখেছেন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট‌ । এতেই তার সাত খুন মাফ ! অন্ততঃ বাম নেতাদের কাছে । প্রশ্ন উঠতে পারে, সিপিএম আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে জোট গঠনে মরীয়া হয়ে উঠেছে কেন ? আলিমুদ্দিনের নেতারা হয়তো অঙ্ক কষে দেখেছেন ভোট যদি সাত শতাংশে‌ই স্থির হয়ে থাকে তবে বিধানসভায় খাতা খোলাই মুশকিল । সংখ্যাগুরুর ভোটের ওপর বাম নেতাদের আস্থা হয়তো এতটাই কমে গেছে যে রিস্ক আছে জেনেও আব্বাস সিদ্দিকির দল আইএস‌এফ এর সঙ্গে জোট বাঁধতে ক্ষেপে উঠেছেন বিমান বসুরা । আব্বাসকে দলে টানলে যদি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসন গুলোতে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় তবে সংখ্যাগুরুদের বিরাগভাজন হ‌ওয়ার ঝুঁকি নিয়েও আখেরে হয়তো রাজনৈতিক লাভ‌ই দেখছেন বাম নেতৃবৃন্দ ।

জোটের বৈঠকে আব্বাস সিদ্দিকিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিমান বোস

তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সংখ্যালঘু ভোটের কতটুকু আব্বাস সিদ্দিকি কব্জা করতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্টই সংশয়ে রাজনৈতিক মহল । ফুরাফুরা শরিফকে কেন্দ্র করে হুগলি , হাওড়া , উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কিছু কিছু সংখ্যালঘু পকেটে আব্বাস সিদ্দিকি দাগ কাটতে পারলেও রাজ্য জুড়ে মুসলমান জনগোষ্ঠীর মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে সিদ্দিকির দিকেই ঢলে পড়বে এখনও পর্যন্ত সেই ইঙ্গিত পাওয়া যায় নি । এদিকে বাম কংগ্রেস জোট শেষ পর্যন্ত আব্বাস সিদ্দিকিকে আপন করে নিলে খুশি হ‌ওয়ার যথেষ্টই কারণ আছে বিজেপি নেতৃত্বের । আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মুজাফফর আহমেদ ভবনের কর্তামশাইরা আব্বাস সিদ্দিকিকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেও তিনি আসলে কী তা ভালোই জানেন পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ । আব্বাস সিদ্দিকিকে বাম-কংগ্রেস জোটভুক্ত করলে সমাজের কোন গোষ্ঠীর কাছে কী বার্তা নিয়ে হাজির হতে হবে তা মুরলীধর সেন লেনের গেরুয়া বাড়ির কান্ডারীদের শিখিয়ে দিতে লাগবে না । 

পীরজাদার দল জোটে গেলে সুবিধা বিজেপির








Leave a Reply

Your email address will not be published.