করোনা মোকাবিলায় শুরু পৃথিবীর বৃহত্তম টিকাকরণ অভিযান , প্রথম দিন সারা দেশে টিকা ১ লক্ষ ৯১ হাজার ১৮১ জনকে


প্রদ্যুত দাস : করোনা মোকাবিলায় দেশ জুড়ে টিকাকরণের বিশাল অভিযান শুরু হয়ে গেল শনিবার থেকে । এদিন সারা দেশে লক্ষ ৯১ হাজার ১৮১ জনকে টিকার প্রথম ডোজটি দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। এরা প্রত্যেকেই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথম সারির সৈনিক । শনিবার সকালে দেশ ব্যাপী টিকাকরণের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষ হ‌ওয়ার পরেই দেশের তিন হাজার ছয়টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যায় । প্রত্যেকটি কেন্দ্রে রোজ ১০০ জনের শরীরে টিকা দেওয়া হচ্ছে । ভ্যাকসিন দেওয়ার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ১৬ হাজার ৭৫৫জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত আছেন। 

শনিবার থেকে গোটা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে‌ও ভ্যাকসিনেশন শুরু হয়েছে । সকালে রাজ্যের ২০৭টি কেন্দ্রে টিকাকরণের কর্মসূচী শুরু হয়। এদিন রাজ্য জুড়ে ২০ হাজার ৭০০ জনের ওপর কোভিশিল্ড প্রয়োগের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও দিনের শেষে ১৬ হাজারের কাছাকাছি স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে । 

রাজ্যের প্রায় ছয় লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীকে  সবার আগে টিকা দেওয়া হবে

রাজ্যের জন্য প্রথম দফায় সাত লক্ষ ডোজ কোভিশিল্ড পাঠানো হয়েছে । রাজ্যের প্রায় ছয় লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীকে সবার আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে । টিকা নেওয়ার পর কলকাতার বিসি রায় হাসপাতালে কর্মরত এক নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে । টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই অসুস্থ কিনা তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয় । 

জলপাইগুড়িতে প্রথম টিকা নেন সদর হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী
জলপাইগুড়ি জেলায় সদর হাসপাতাল সহ পাঁচটি কেন্দ্র থেকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে । সকালে এক যোগে পাঁচ কেন্দ্রে টিকাকরণের কাজ শুরু হয় । জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল ছাড়াও ময়নাগুড়ি , ধুপগুড়ি , মাল ও ওদলাবাড়ি হাসপাতালে ভ্যাকসিনেশন পর্ব চলে । জেলা জুড়ে এগারো হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রথম দফায় টিকা দেওয়া হবে । শনিবার সকালে জেলা সদর হাসপাতালে প্রথম টিকাটি শরীরে গ্রহণ করেন হাসপাতালের সাফাইকর্মী ভরত ডোম । টিকাকরণ কালে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু , জেলার মুখের স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ রমেন্দ্রনাথ প্রামাণিক সহ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকেরা ‌। টিকা নেওয়ার পর জলপাইগুড়ি জেলা থেকে কার‌ও অসুস্থ হবার খবর পাওয়া যায় নি । করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে । তবে এই বিভ্রান্তি অমূলক বলে দাবি করেছেন চিকিৎসক ডঃ রজত ভট্টাচার্য । টিকা গ্রহণের পর গ্রহিতাকে আধা ঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে । শারীরিক কোনও উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই জরূরী চিকিৎসার ব্যবস্থা‌ও প্রতিটি কেন্দ্রে রাখা হয়েছে ।


                ভিডিও-



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *