করোনা কালে ছটপুজো , ভিড় এড়াতে গ্রামেই পুকুর কাটলেন পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি। খুশি এলাকার ছটব্রতীরা


প্রদ্যুৎ দাস , জলপাইগুড়ি, ২০ নভেম্বর : ছটপুজোয় নদী বা দিঘীর জলে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে সূর্যদেবের বন্দনা করেন ভক্তরা । সাধারণত ছটপুজোর দু’দিন মানুষের ভিড় ভেঙে পড়ে নদী ও বিভিন্ন জলাশয়ের ঘাট গুলোতে । কিন্তু এবার মানুষের বাঁধ ভাঙা আনন্দে বাধ সেধেছে করোনা। কিন্তু পুজো তো সারতেই হবে। আবার সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেই জন্য এই বছর ঘাটে ঘাটে ভিড় নিয়ন্ত্রণ‌ও জরুরী । ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ ও করোনা প্রতিরোধে দূরত্ব বিধি পালন – এই দুটো‌ই রক্ষা করতে গ্রামেই একটি ছোট পুকুর খুঁড়ে ফেললেন পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি । 

আর্থ মুভার দিয়ে পুকুর খননের কাজ চলছে

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোমস্তা পাড়ায় এই‌ অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামের ১৮টি পরিবার ছট ব্রত পালন করেন । এই করোনা কালে  ঘাটে যেতে হলে মানুষের ভিড়ে দূরত্ব রক্ষা করা কঠিন । মুশকিল আসান করলেন পঞ্চায়েতের সদস্য রাজেশ মন্ডল । তিনি নিজেও ছটব্রতী ।‌ এলাকার‌ই এক বাসিন্দার চাষের জমিতে আর্থ মুভার দিয়ে মাটি খুঁড়ে একটা জলাশয়ের মতো বানিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করলেন তিনি।‌ জমির মালিককে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে পুজো মিটলেই পুকুর আবার বুজিয়ে ফেলা হবে । 

পুজোর আগেই পুকুরে নেমে গেছে এলাকার বাচ্চারা

মালিক রাজি হতেই জমিতে জেসিপি মেশিন নামিয়ে দেন‌ রাজেশবাবু । বৃহস্পতিবার বেলাবেলি পুকুর খনন সারা ।  দৈর্ঘ্যে প্রায় দশ ফিট লম্বায় প্রায় দেড়শ ফিট এই পুকুরে নেমেই শুক্র ও শনিবার ছটপুজো সারবেন গ্রামের ১৮টি পরিবারের সদস্যরা। এতে পুণ্যিও যেমন পাওয়া যাবে তেমনি রোগের হাত থেকেও বাঁচা যাবে। পঞ্চায়েতের এই চটজলদি কাজে খুশি এলাকার মানুষ।


ঘাট বানানোর কাজ চলছে 



ছবি ও ভিডিও – নিজস্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published.