করোনা অতিমারি ও ভ্রান্তিবিলাস


 


 
সাউথ চায়না পোস্টের দাবি অনুযায়ী ২০১৯ এর ১৭ নভেম্বর চিনের হুবেই প্রদেশে বছর ৫৫’র এক পৌঢ়ের শরীরে প্রথমবারের মতো কোভিড – নাইন্টিন ভাইরাস শনাক্ত হয় । সেই হিসেবে করোনা সংক্রমণের একবছর পেরিয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য প্রকৃতিতে নব আবির্ভূত এই ভয়ঙ্কর ভাইরাস । এই একবছরে পৃথিবীতে সংক্রমণের ঢেউ কখনও  কমেছে কখনও বেড়েছে । আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে । দেশে সংক্রমণ একেবারে স্থানীয় স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে বললে ভুল হবে না । অথচ তারপরেও জনমনে করোনা অতিমারি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর হয় নি । করোনার সংক্রমণ মানুষের দেহে তাৎক্ষণিক ও মেয়াদি এবং বহুমাত্রিক কী কী বিরূপ  প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে তা সহজ ভাষায়  তুলে ধরে জনগণের ভ্রান্তিবিলাস দূর করার চেষ্টা করলেন ডঃ সুমন্ত ভট্টাচার্য্য   
অতঃপর ‘ গ্রামে গ্রামে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে ‘  করোনা তেমন কোনও মারাত্মক রোগ‌ই নয় । এই  সাধারণ জ্বর , সর্দি , কাশির মতোই আরকি  । এবং  এই বার্তাও  রটে গেল যে কোভিড আসলে একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র । ক্ষমতাধর রাষ্ট্র , পুঁজিমালিক , বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির রচনা করা এক গভীর চাল মাত্র ।  ঠিক যেভাবে গল্পের গরু গাছে চড়ে , সেভাবেই চড়তে লাগল করোনা প্যান্ডেমিক নিয়ে ‘ কনস্পিরেসি থিওরি’ র চিত্রনাট্য । বিজ্ঞান , বিজ্ঞানী , চিকিৎসক , জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ  – সবাই এক একজন ভিলেন সেই চিত্রনাট্যে ।  এভাবেই করোনাকে হারানোর জন্য সতর্কতার বদলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হল একটা মহল থেকে । এদিকে সতর্কতার রাশ আলগা হতেই  দেশে ও বিদেশের‌ও বিভিন্ন স্থানে আবার বাড়তে থাকল হাসপাতালে হাসপাতালে করোনা রোগীর ভিড় । ফের লকডাউনেও যেতে হল ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে । ভারতেও তার দরকার কেউ কেউ বোধ করলেও ভঙ্গুর অর্থনীতির সদ্য সচল হ‌ওয়া চাকাকে থামাতে কেউ আর বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধতে রাজি হল না। অর্থ‌ই যে সভ্যতার চাবিকাঠি , সেখানে তো তুচ্ছ রোজ রোজ প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষ ,‌প্রবীণ নাগরিক , চিকিৎসক , চিকিৎসাকর্মীদের নাম ও সংখ্যা । নানা ভ্রান্তিমূলক প্রচার , সঠিক তথ্যের অভাব , পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন , আর্থিক সংকট মানুষের সংযমের বাঁধকে দিল ভেঙে  । 

আসলে ইতিহাস কয়েক যুগ পর পর মানবসভ্যতার সামনে একটা করে কঠিন প্রশ্নপত্র নিয়ে হাজির হয় । মহাযুদ্ধ , দুর্ভিক্ষ , মহামারী রূপে । তার মোকাবিলার পন্থা বুঝিয়ে দিয়ে যায় মানবসভ্যতার পরিণতিবোধ , অগ্রগতি । ১৯১৮ -১৯ সালে স্প্যানিশ ফ্লুর প্যান্ডেমিক বিশ্বজুড়ে কেড়ে নিয়েছিল পাঁচ কোটি মানুষের প্রাণ , সরকারি মতে। আসলে হয়ত আরও প্রাণ গিয়েছিল । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সংবাদমাধ্যমে সেন্সরশিপ চলার কারণে সঠিক তথ্য সামনে আসে নি সময় মতো । মানুষ তথ্যের অভাবে , সচেতনতার অভাবে ভুল‌ করেছিল বারবার । তাই‌ মহামারীর প্রথম ঢেউ চলে যাবার পর  পরবর্তী শীত ও বসন্তে মানুষের অসতর্কতার সুযোগে আছড়ে পড়েছিল  আর‌ও বড় মহামারী ও মৃত্যুর ঢেউ। এখন চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক পথ পার হয়েছে। রোগ নিরাময় থেকে প্রতিরোধে ‌অনেক এগিয়েছে মানব‌সভ্যতা । তারপরেও সার্স কোভিড -২ ভাইরাস ইতিমধ্যেই কেড়ে নিয়েছে পৃথিবী ব্যাপী ১৫ লক্ষ প্রাণ ।‌ ভারতে দেড় লক্ষের কাছাকাছি । প্রকৃতিতে সদ্য মুক্তি পাওয়া এই ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি এখন‌ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের  সম্পূর্ণ আয়ত্তে আসে নি। চিকিৎসা চলছে রোগের লক্ষণ দেখেই মূলতঃ । অতিমাত্রায় সংক্রামক এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে তাই বারবার প্রতিরোধে‌ই জোর দিতে বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ।

মুখ-নাক মাস্কে ঢেকে রাখা , সঠিক উপায়ে ঢেকে রাখা আর ভিড় না করা – যার প্রধান দুটি অস্ত্র । তাছাড়া বারবার সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করা , পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা – এগুলো পালন করাটাও নিয়মে পরিণত করতে বলা হচ্ছে । এইসব  নিয়ে আজ মহামারীর ৮-৯ মাস অতিক্রম করার পর নতুন কিছু বলার নেই । সৌভাগ্য এটাই যে আক্রান্ত রোগীদের সিংহভাগই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন । যদিও বহু মানুষের মধ্যেই করোনা ছেড়ে যাচ্ছে তার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত । আসলে করোনা ভাইরাস শরীরে আসার পর তার বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইমিউনিটি এমন ভাবে অতিমাত্রায় সক্রিয় হচ্ছে কারোর কারোর শরীরে – তার ফুসফুস , হৃদয় , মস্তিষ্ক এমনকী স্নায়ুতন্ত্রের‌ ওপর‌ও বিষম প্রভাব ফেলছে । এছাড়া রক্ত জমাট বাঁধার যে প্রবণতা দেখা দিচ্ছে এই অসুখের ফলে- তাও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে বিভিন্ন শারীরবৃত্তিয় অঙ্গে । যুক্তরাষ্ট্রের মেয়ো ক্লিনিক জানাচ্ছে , করোনার দীর্ঘস্থায়ী আর কী কী প্রভাব থাকতে পারে শরীরে , তা সময়ের সাথে আরও পরিস্কার হবে । তাই রোজকার সুস্থ হয়ে ওঠার পরিসংখ্যানের আড়ালেই থেকে যাচ্ছে এক বিরাট সংখ্যক করোনা আক্রান্ত রোগীর পরবর্তী সময়ের কঠিন পরিস্থিতির কথা । 

মানবদেহে করোনার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছেন চিকিৎসকেরা                                                


করোনার জেরে ফুসফুসের ওপর যে ক্ষত হচ্ছে , তার প্রভাব থেকে যাচ্ছে দীর্ঘদিন – এমনকী জীবনভর থেকে যেতে পারে। কোনও কোনও বক্ষ রোগ বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সাধারণ সময়ে ইন্টারস্টিশিয়াল লাঙ ডিজিজে ফুসফুসের যে ক্ষতি হতে কয়েক মাস লাগে , তা মাত্র কয়েকদিনেই হয়ে যাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীদের, বিশেষ করে যারা শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন । হার্টের পেশীর অসুখ মায়োকার্ডাইটিস নিয়ে চিকিৎসকের কাছে হাজির হচ্ছেন বহু রোগী। এর থেকে অনেকের করোনা থেকে সেরে ওঠার বেশ কিছুদিন ‌পরেও হঠাৎ মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশান হয়ে মৃত্যু বা হার্ট ফেইলিওরের রিপোর্ট আসছে । মাত্র ৩৫ বছরের এক চিকিৎসকের এভাবেই মৃত্যুর খবর এল কিছুদিন আগে কলকাতায়। শ্বাসের অসুবিধা , দুর্বলতার লক্ষণ থেকে যাচ্ছে দীর্ঘদিন। প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় । রক্ত চলাচলের অসুবিধা ডেকে আনছে ব্রেন স্ট্রোকের মত হঠাৎ দুর্বিপাক। কোভিড এনকেফালোপ্যাথি হয়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র । এছাড়াও আশ্চর্যজনক ভাবে অনেকে ‘গুলেন-বারে সিন্ড্রোমের ‘ রোগী হয়ে পড়ছেন করোনা থেকে সেরে উঠবার‌ সময়টায়। এই রোগে শরীরে অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠা ইমিউন সিস্টেম শরীরের পেরিফেরাল স্নায়ুকে আক্রমণ করছে। ফলে প্যারালিসিস থেকে শ্বাস নেওয়ার অসুবিধা দেখা দিচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশী বিকল হয়ে পড়ছে। দ্রুত চিকিৎসা না শুরু হলে রোগীকে ভেন্টিলেটারে দিতে হতে পারে, এমনকী মৃত্যু‌ও হতে পারে। এছাড়াও কিডনির কাজকর্মেও  ব্যাঘাত ঘটতে পারে করোনা আক্রান্ত রোগীদের। অবশ্য‌ই এই সমস্ত জটিলতা ও করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার ঘটনা বেশি হচ্ছে বয়স্ক আক্রান্তদের অথবা যাদের হার্ট , লাঙস , কিডনি , লিভারের অসুখ , ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের  সমস্যা আছে। তবে এইসব রোগ থেকে মুক্ত অনেক মানুষের‌ও করোনায়  মৃত্যু ও দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার ঘটনা চিকিৎসকদের কাছে ধরা পড়েছে। তাছাড়া ভারতে এইসমস্ত অসুখ ঘরে ঘরে। এমনকী অনেক তরুণ এইসব অসুখে আক্রান্ত এখন জীবনযাত্রার চাপে । কাজেই এই রোগে মৃত্যুর হার ১.৫ শতাংশের আশেপাশে থাকলেও ( সেটাও ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যা ও সর্বাধিক জনঘনত্বের দেশের পক্ষে বিরাট ) , এর সাথে সংশ্লিষ্ট দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় একটা বড় অংশের মানুষ কাবু হয়ে পড়ছেন। এর সঠিক পরিসংখ্যান আরও সময় গেলেই স্পষ্ট হবে। এখনও সরকার , চিকিৎসক ও গবেষকরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যস্ত এই রোগের নিরাময়কে পাখির চোখ করে। 

অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে হবে ঠিকই , কিন্তু তার সাথে সাথেই সামাজিক জীব হিসেবে নূন্যতম কর্তব্য থেকে আমরা যেন বিচ্যুত না হ‌ই । যারা মনে করছেন এই রোগ তাদের কাবু করতে পারবে না, বয়স কম বা সম্পূর্ণ নিরোগ বলে  কিম্বা হার্টের  অসুখ বা অ্যাক্সিডেন্ট বা টিবি রোগে এর থেকেও বেশি মানুষ মারা যায় – তাই  তাদের অত মেনে চলার কিছু নেই , তারা যেন ভুলে না যান যে এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ । অনিশ্চিত এর গতিপ্রকৃতি । সামান্য অসাবধানতায় এই রোগ ছড়িয়ে যায় । কম বয়স্ক অনেক মানুষকেও অনেক দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে ।  এমনকী মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে অনেক । সারা দেশে ৩০ বছরের‌ও কম বয়েসের চিকিৎসকদের বেশ কিছু মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে । তাই এই রোগ প্রতিরোধে প্রতিটি ব্যক্তির দায়িত্ব রয়েছে এই মহামারীর সময় । দেশে মহামারী আইন জারি থাকায় কেউ সেই দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারবেন না। 

রোগ লুকিয়ে রাখার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক। এতে সেই রোগীরা যেমন সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না , তেমনি দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো রোগ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। কোভিড রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে একদিকে  যেমন হাসপাতালে অন্য অসুখের চিকিৎসায় গুরুতর বিঘ্নতা তো  ঘটবেই , অন্যদিকে  তেমনি চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর অত্যাধিক চাপ , তাঁদের সংক্রমিত হবার ঘনঘটায় দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়বে । আজ অব্দি অনেক প্রবীণ তো বটেই , তরুণ চিকিৎসক‌ও প্রাণ দিয়েছেন এই রোগে সম্ভাবনাময় জীবনকে অকালে বিদায় দিয়ে। যদিও এখন আমরা এমন এক সমাজে আছি, যেখানে অনাবশ্যক বিকট শব্দে বাইক চালিয়ে বা শব্দবাজি ফাটিয়ে অন্যকে উৎপীড়ন করে মানুষ আনন্দ পায়। অন্যের পাশে দাঁড়ানো , তাদের কথা ভাবার মতো সংবেদনশীল মানুষ কমে গেছে। তার‌ ওপর ইন্টারনেটের দৌলতে ঠিক-ভুল নানা তথ্যের স্রোতে সবাই এখন সবটাই জেনে গেছি এমনটা ভাবছে । ফলে জনগণের মধ্যে  বিভিন্ন সরকারি প্রচারমাধ্যম , জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের সাবধানবাণী অগ্রাহ্য করার প্রবণতা এসে গেছে দীর্ঘ কয়েক মাসের একটা অভূতপূর্ব ও কষ্টকর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাবার পর । অতিমারির আতঙ্ক ভুলে  উৎসব মরশুমে মানুষ অবাধে  আনন্দে মেতে উঠেছিল ।  কেরালার ওনাম , পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো বা বিশেষতঃ দিল্লিতে দীপাবলী উৎসবে  জনসমাগমের পর কীভাবে কোভিড রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান বেড়ে গেছে তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি । যার ভুগতে হয় নি তার কাছে সেগুলো নিছক সংখ্যা। অন্যদিকে অনেক পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার এই নতুন রোগের উপদ্রবে। যারা চলে গেছেন তারা কারোর পুত্র , কন্যা , বাবা , মা , স্বামী বা স্ত্রী , ভাই-বোন । 


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লির সরকার আবার লকডাউনের কথা মাথায় রেখেছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বেড বাড়াতে হচ্ছে সেখানকার হাসপাতাল গুলোতে। সামনে শীতের কঠিন সময় । এই সময় বিভিন্ন শ্বাসকষ্টের রোগে প্রতিবছরই রোগীর সংখ্যা এমনিতেই বেড়ে যায় হাসপাতালে । করোনার মতো সংক্রামক রোগেরও শীতেই বাড়বাড়ন্তের সময় । ফলে  এইসব মিলিয়ে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে গেলে দেশের করোনা  পরিস্থিতি কী দাঁড়াতে পারে তা ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞদের চিন্তায় রেখেছে । 

ভ্যাকসিন নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে আশার কথা শোনা গেলেও তা পেতে পেতে শীত গড়িয়ে যাবে । বিজ্ঞান লড়ে যাচ্ছে । সেই সম্মানটুকু তাকে   দিতে হবে আমাদের নিজেদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে । হার্ড ইমিউনিটির  যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছিল , তার‌ও এখনও পর্যন্ত কোনও  নিশ্চিত প্রমাণ নেই । আপাতত তাই আমাদের কর্তব্য হবে নিজেদের জন্য যদি দুশ্চিন্তা নাও থাকে , তাও পরিবার পরিজনদের মধ্যে যাঁরা বয়স্ক মানুষ ও বিভিন্ন  রোগে আক্রান্ত তাঁদের  কথা ভেবে একটু  সংযত থাকা । সঠিকভাবে মাস্ক পরে , যত্রতত্র মাস্ক না খুলে , একে অপরের থেকে যথাসাধ্য শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে , ভিড় জায়গায় মাস্ক খুলে খাওয়াদাওয়া না করে , নিজেরা  পরিচ্ছন্ন থেকে সেটুকু তো আমরা করতেই পারি। রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথেই পরীক্ষা করাতে হবে ও সাময়িক অসুবিধা মেনে নিয়ে হলেও নিজের এবং সকলের ভালোর জন্য কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে কিছুদিন । তবেই শীতকালে করোনার গ্রাফটা আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব। অনেক নামীদামী মানুষ , অনেক দক্ষ চিকিৎসক , অনেক পরিচিতজনকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি এই রোগে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই । উৎসব , পিকনিক , বেড়াতে যাওয়া – এ বছরটা না হয় তোলা থাক সুদিনের অপেক্ষায়। সময় , ইতিহাস আমাদের থেকে এখন আমাদের থেকে এই সংযমটুকুই আশা করছে আসন্ন শীত ঋতুতে । 

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল ইউরোপ-আমেরিকা 



লেখক পরিচিতি – 
চিকিৎসক ডঃ সুমন্ত ভট্টাচার্য্য বর্তমানে দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের অধীন অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর পদে কর্মরত । 


ছবি – সংগৃহীত

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *