কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভার অধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। বিরোধীদের তরফ থেকে স্পিকার পদের জন্য কারও নাম উত্থাপিত না হওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বা ‘অধ্যক্ষ’ নির্বাচিত হয়েছেন রথীন্দ্র। শুক্রবার সকালে বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন তদারকি করেন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। বৃহস্পতিবার স্পিকার পদে রথীন্দ্র বসুর নাম প্রস্তাব করে মনোনয়ন জমা দেয় শাসকদল বিজেপি। প্রস্তাবকদের একজন ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এই প্রথম রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের পদে আসীন হলেন উত্তরবঙ্গের কোনও জনপ্রতিনিধি। বহু আগে কংগ্রেস আমলে আলিপুরদুয়ার থেকে নির্বাচিত বিধায়ক পীযূষকান্তি মুখোপাধ্যায় বিধানসভার উপাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছিলেন। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে তৃণমূলের অভিজিৎ দে ভৌমিককে পরাজিত করে জীবনে প্রথমবারের মতো বিধানসভায় পা রেখেছেন রথীন্দ্র বসু। স্পিকার পদে রথীন্দ্র বসুর নির্বাচন ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ধ্বনি ভোটে রথীন্দ্রকে জয়ী বলে ঘোষণা করেন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।
স্পিকার নির্বাচন পর্বে অধিবেশন কক্ষে তৃণমূলের বিধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরিষদীয় রাজনীতির পরম্পরায় ব্যাঘাত ঘটে নি। ঐতিহ্য মেনেই রথীন্দ্র বসুকে হাত ধরে স্পিকারের আসনের দিকে এগিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। প্রথা মেনে রথীন্দ্রর ডান দিকে ছিলেন শুভেন্দু, বামে শোভনদেব। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় রথীন্দ্র বসুকে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে হাত ধরে স্পিকারের আসনে বসিয়ে দেন। ফিরহাদ হাকিম, প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও এগিয়ে গিয়ে নব নির্বাচিত স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানান।
৬৫ বছরের রথীন্দ্রনাথ বসুর জন্ম কোচবিহার শহর সংলগ্ন টাকাগাছ গ্রামে। কোচবিহারের রামভোলা হাইস্কুলে শিক্ষালাভ। কোচবিহার ইউনিভার্সিটি বিটি অ্যান্ড ইভনিং কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রথীন্দ্র বসু। কলকাতায় সিএ ও কস্টিং নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে শিলিগুড়িতে পেশাজীবন শুরু করেন তিনি। রথীন্দ্র বসু সংঘের ঘরের লোক। কৈশোরেই আরএসএস-এর শাখায় যাতায়াত। আরএসএস থেকে বিজেপিতে যোগ দেন অনেক পরে ২০১২ সালে। বর্তমানে তিনি রাজ্য বিজেপির সহসভাপতিদের একজন। ২০১৬ সালে প্রথম নির্বাচনে লড়া। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় হন রথীন্দ্র। দশ বছর পর ছাব্বিশের নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়লাভ।
রথীন্দ্র বসু রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় কোচবিহার ও দার্জিলিং জেলা তো বটেই গোটা উত্তরবঙ্গের মানুষ খুশি। উত্তরবঙ্গের বিজেপি শিবির উৎফুল্ল। কোচবিহারের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষও রথীন্দ্র বসুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
Feature image is representational and designed by NNDC.