মোহনবাগান ছেড়ে মহাকালের পথে টুটু বসু, যাঁর শিরায় ব‌ইত সবুজ-মেরুন রক্ত!

মোহনবাগান ছেড়ে মহাকালের পথে টুটু বসু, যাঁর শিরায় ব‌ইত সবুজ-মেরুন রক্ত!


বিশেষ প্রতিবেদন: পিতৃদত্ত নাম স্বপনসাধন বসু। কিন্তু ক’জন মানুষটাকে এই নামে চিনতেন কে জানে! টুটু বসু নামেই হাঁকে-ডাকে-রসিকতায় ময়দান কাঁপাতেন তিনি। সেই টুটূ বসু চলে গেলেন মঙ্গলবার গভীর রাতে। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়িতে টুটুবাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বসু সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মোহনবাগান অন্তপ্রাণ মানুষ। যেন তাঁর শিরায় ব‌ইতো মোহনবাগান গ্রুপের রক্ত! শয়নে-স্বপনে শুধু মোহনবাগানের উন্নতির কথাই ভাবতেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫- পাঁচ বছর মোহনবাগানের সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৮- টানা ২২ বছর মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের সভাপতি ছিলেন টুটু বসু। ২০১৮ থেকে ২০২০- দুই বছর ফের প্রাণপ্রিয় ক্লাবের সচিবের দায়িত্বে। ২০২০ থেকে ২০২৫- পাঁচ বছর মোহনবাগানের সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে বয়স ও স্বাস্থ্যের কারণে সরে দাঁড়ান তিনি।

ফুটবল ও মোহনবাগান ক্লাব ছিল টুটুর নেশা। পেশায় তিনি ছিলেন সফল ব্যবসায়ী ও সংবাদপত্রের মালিক। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। ময়দানের সবুজ-মেরুন শিবিরে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছিল টুটু বসুর হাত ধরে। মোহনবাগান ক্লাবে বিদেশি ফুটবলারদের নেওয়ার রেওয়াজ ছিল না। নাইজেরিয়ান ফুটবলার চিমা ওকেরিকে স‌ই করিয়ে প্রথম সেই ট্র্যাডিশন ভেঙে দেন টুটু। আবার তাঁর আমলেই শতাব্দী প্রাচীন মোহনবাগান ক্লাবের বাণিজ্যিকিকরণ হয়। শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার হাতে ক্লাবের মালিকানা তুলে দেওয়ার পর মোহনবাগানের নামের আগে ‘এটিকে’ শব্দ যুক্ত হয়।‌ যা নিয়ে মোহনবাগান মহলে দারুণ বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। ‘মোহনবাগান রত্ন’ প্রদানের সূচনাও করেছিলেন টুটু বসু।

খেলার ৯০ মিনিট ঘটি টুটু বসু ছিলেন বাঙালদের ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের ঘোরতর শত্রু। সংগৃহীত ফটো

মানুষটা ছিলেন আকারে হেভিওয়েট।‌ ভেতরে দিলদরিয়া ও রসিক। জাতে পাড় ঘটি।‌ মোহনবাগানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। খেলার ৯০ মিনিট টুটু বসু ছিলেন বাঙালদের ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের ঘোরতর শত্রু। ডার্বি ম্যাচের ৭২ ঘন্টা আগেই গরম গরম কথা বলে ময়দান তাতিয়ে দিতে টুটুর জুড়ি ছিল না।‌ টুটুর বাক্যবাণে তেতে উঠতেন ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক থেকে কর্মকর্তা সকলে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর খেলা স্বাভাবিকভাবেই জমে উঠত। তবে খেলার ৯০ মিনিট‌ই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ছিল টুটু বসুর যত শত্রুতা। আদতে তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের‌ও সুহৃদ। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে হাজির থাকতেন তিনি।

টুটু বসুর প্রয়াণে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শোকবার্তা।

ক্রীড়া প্রশাসক টুটু বসুর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

Feature image is representational and designed by NNDC.

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com