চেয়ার আমি ছাড়ব না!

চেয়ার আমি ছাড়ব না!


সপ্তদশ বিধানসভার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে ৭ মে ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা ছোঁয়ার সাথেসাথেই। তার আগেই সাংবিধানিক বিধি মেনে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর‌এন রবি। বিধানসভা ভঙ্গের সাথেসাথেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ৮ মে অষ্টাদশ বিধানসভার জন্য পরিষদীয় নেতা নির্বাচন করবেন ২০৭জন সদ্য বিজয়ী বিজেপি প্রার্থী। ৯ মে সকাল দশটায় রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ।

কিন্তু এখন‌ও ফেসবুক-এক্স হ্যান্ডেলের ডিসপ্লেতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হন নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেন ঘরের খুকি জেদ ধরেছে, তোরা যে যা বলিস ভাই, চেয়ার আমার চাই। চেয়ার আমি ছাড়ব না গো, চেয়ার আমি ছাড়ব না। ১৯৫২ সালে দেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়। তারপর থেকে এমন আজব ঘটনা ভূ-ভারতে ঘটেছে কিনা সন্দেহ! পরাজয়ের পর পদত্যাগেই গৌরব বাড়ে প্রকৃত নেতা ও রাষ্ট্রনায়কের। এ জন্য পদত্যাগ করার ১৫ বছর পরেও মানুষের মুখে মুখে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নাম ফেরে। লোকে বুদ্ধবাবুর প্রশংসা করে। আত্মপ্রেম ভাল, কিন্তু চরমে উঠলে পাগলামি।

ফেসবুক-এক্স হ্যান্ডেলে এখনও তিনি মুখ্যমন্ত্রী! চেয়ারের মায়া ত্যাগ করতে পারছেন না মমতা। ছবি: এন‌এনডিসি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাগলামি দেখে বাংলার মানুষ হাসাহাসি করছে। তৃণমূলকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ন্যারেটিভ বিদেশিরা, বিদেশি সংবাদমাধ্যম খেয়ে নিতে পারে। তারা তো মমতার কীর্তিকলাপ জানে না। কিন্তু বাঙালিকে গেলানো যাবে না। আর হ্যাঁ, বাংলাদেশের জিহাদি শক্তি খুব দরদ দেখাবে মমতার এইসব নাটকবাজি দেখে।

দল ধরে রাখতে পারবেন না মমতা। তৃণমূলের বড় অংশ নেতা-কর্মী ভাইপো অভিষেকের উপর চটে লাল। হাতের কাছে পেলে দেবে দু ঘা। অভিষেক ব্যানার্জি নিজেকে বাংলার ডন ভেবেছিলেন। জনগণ তাকে জিরো বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। নিজের দুর্দশার জন্য মমতার উচিত আঙুলটা অন্যদের দিকে না তুলে নিজের দিকে আর নিজের ভাইপোর দিকে তোলা।

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। নিরীহ ছেলে। মাত্র ৪২ বছর বয়স। এয়ারফোর্সের চাকরি ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। চাকরি করতেন মানুষটা। নিরাপত্তা ছাড়াই চলাফেরা করতেন। শুভেন্দু অধিকারীর উপর বদলা নিতে ‘সফ্ট টার্গেট’ চন্দ্রনাথকে গুলি করে ফেলল। পেশাদার ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে পূর্বপরিকল্পিত খুন। সদ্য ধ্বংস হ‌ওয়া মাফিয়া সাম্রাজ্যের কিংপিনরা সব কিছু করতে পারে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয়, হারের জ্বালা মেটাতে শুভেন্দু অধিকারীর পিএ-কে খুন করা হয়েছে, ছাড় পাবে নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীরা।

Feature image is representational and AI generated.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com