ডেস্ক রিপোর্ট: সিসি টিভি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে তাঁকে কিল-চড়-লাথি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মমতার অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিলেন কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক রণধীর কুমার। ভবানীপুর কেন্দ্রে বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে হেরেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।
৪ মে ভোট গণনার দিন সন্ধ্যায় গণনাকেন্দ্র সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনাকেন্দ্রের ভেতর তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে, এমনই অভিযোগ মমতার। সোমবার গণনাকেন্দ্র থেকে ফিরে আসার পথেই সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছিলেন, “আমাকে ধরে পিটিয়েছে!” মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের অভিযোগ করেন, “সাখাওয়াতে আমার এজেন্টদের ঢুকতে দেয় নি। আমি কাউন্টিং হলের ভেতরে ঢুকলে ওরা আমার পেটে লাথি মারে, পিছনেও লাথি মারে। সিসিটিভি বন্ধ ছিল। যা হয়েছে, তাতে মহিলা হিসেবে আমি অপমানিত।”
মমতা আরও বলেন, “আমি ১৩ হাজার ভোটে লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি ভোটে জেতার কথা ছিল। কিন্তু এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিজেপির লোকেরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকে সব ভাঙচুর করে গণনা বন্ধ করে দেয়। এই খবর শুনে আমি গণনাকেন্দ্রে রওনা হই। প্রথমে জগুবাবুর বাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকায়। এরপর গণনাকেন্দ্রে ঢুকলে সিসিটিভি অফ করে দিয়ে আমাকে হেনস্থা করে।” এ নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এক বিবৃতিতে মমতার অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক রণধীর কুমার। রণধীর কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সাংবাদিক বৈঠকে যে অভিযোগ করেছেন, তার কোনও সারবত্তা নেই। অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” বিবৃতিতে ডিইও আরও যোগ করেন, “নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নির্দেশ মেনে গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি কখনওই বন্ধ হয় নি। তৃণমূল প্রার্থী তথা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও মনগড়া, ভিত্তিহীন।”
গণনা বন্ধ রাখার পিছনে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা দায়ী ছিল না বলে দাবি করে ডিইও রণবীর কুমার জানিয়েছেন, “তৃণমূল প্রার্থীর চাপেই গণনা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েই গণনা পুনরায় শুরু করা হয়।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বানিয়ে কথা বলার অভ্যাস আছে বলে তাঁর একাধিক সতীর্থ বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন। ভোটে মমতার দলের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। মমতা নিজেও ভবানীপুরের প্রেস্টিজ ফাইটে শুভেন্দুর কাছে হেরে বসে আছেন। হারের জ্বালা ভুলতে মমতা মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাজার গরম করতে চাইছেন। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের।
ভোটে হারার পর সাংবিধানিক রীতি ও শিষ্টাচার মেনে মুখ্যমন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করার কথা মমতার। সোমবার রাতে মমতা পদত্যাগপত্র হাতে রাজ্যপালের কাছে যাবেন বলে আশা করেছিলেন সবাই। কিন্তু সবাইকে আবাক করে দিয়ে মমতার গাড়ি গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে লোকভবনে না ঢুকে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে যায়। মঙ্গলবার বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে মমতা বলেন, “পদত্যাগ করতে কেন রাজভবনে যাবো? যাবো না তো! আমি পদত্যাগ করব না। আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে।” শুনে মানুষ রাস্তাঘাটে বলাবলি করছে, এই মহিলা এক জিনিস বটে।
Feature image: collected.