ডেস্ক রিপোর্ট: চিন-ভারত ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই পাকিস্তান কি পায়ে পা লাগিয়ে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে চাইছে? নইলে উত্তর আরবসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজকে কেন ধাক্কা মারল পাকিস্তান নৌবাহিনীর টহলদারি জাহাজ? মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তান দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিক সাদ আহমেদ ওয়ারিচকে তলব করে কৈফিয়ত চেয়েছে ভারত সরকার।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে যা জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর আরবসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার মধ্যে নিয়মিত টহলদারি চালাচ্ছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ। সেই সময় দ্রুত গতিতে ছুটে আসা পাকিস্তান নৌসেনার একটি টহলদারি জাহাজ আচমকাই ভারতীয় নৌসেনার জাহাজকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজটির কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘটনাটিকে হাল্কাভাবে নিচ্ছে না ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। ধাক্কা লাগাটা নেহাতই দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনও দুরুভিসন্ধি আছে, তা জানতে চায় নয়াদিল্লি।

পাকিস্তানি জাহাজটির গতি অত্যন্ত বেশি থাকায় সন্দেহ আরও ঘণীভূত হয়েছে। ভারতের অভিযোগ, বিপজ্জনকভাবে তাদের জাহাজে ধাক্কা মেরেছে পাকিস্তানের জাহাজ। আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং বিরল ঘটনা। তার উপর রাষ্ট্রদুটি হয় যদি পরস্পরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন। এর আগেও ২০১১ সালে আরব সাগরে পাকিস্তান নেভির যুদ্ধজাহাজ পিএনএস ‘বাবর’-এর সঙ্গে ইন্ডিয়ান নেভির রণতরী আইএনএস ‘গোদাবরী’-র সংঘর্ষ বেঁধেছিল। ১৫ বছর পর আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি! দুর্ঘটনা না ষড়যন্ত্র?
আন্তর্জাতিক জলসীমায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে যে কোনও দেশের যুদ্ধজাহাজের রুটিন টহলদারি, সামরিক মহড়া কিম্বা প্রশিক্ষণ চলতেই পারে। ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামরিক মহড়া, রণকৌশলগত অনুশীলন কিম্বা টহলদারি চালানোর সময় এক দেশের নৌবাহিনী অপর দেশের নৌবাহিনীকে সময়, রুট এবং ম্যাপ— যাবতীয় তথ্য দিয়ে আগাম অবগত করবে। পাকিস্তান নৌবাহিনী চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন হল, পাকিস্তান নৌবাহিনী কি ইচ্ছাকৃতভাবেই নিয়ম ভেঙেছে নাকি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের জাহাজ ভারতীয় জাহাজকে আঘাত করেছে?
পাক যুদ্ধজাহাজের আচরণকে অপেশাদার ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে ভারত। সংঘর্ষের জেরে পাকিস্তানি রণতরীটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরেই জাহাজটি করাচি বন্দরে ফিরে যায়। এই নিয়ে এখনও মুখ খোলে নি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
Feature image is representational.