'চিকেন'স নেকের নিরাপত্তায় কোন‌ও গাফিলতি বরদাস্ত নয়', উত্তরবঙ্গ সফরে এসে কড়া বার্তা শাহের

‘চিকেন’স নেকের নিরাপত্তায় কোন‌ও গাফিলতি বরদাস্ত নয়’, উত্তরবঙ্গ সফরে এসে কড়া বার্তা শাহের


উত্তরকন্যার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সরকারের শীর্ষ আমলা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিক, বিএসএফ, আইটিবিপি, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

রাজগঞ্জ ব্লকের জুম্মাগাছ সীমান্ত চৌকির একটি ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: প্রতিবেদক।

বৈঠকের পর জুম্মাগাছ সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যাধুনিক সীমান্ত নজরদারি প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন। কাঁটাতারে কোনও রকম ছেদ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম রেডিও-ভিত্তিক ফেন্স ব্রিচ ডিটেকশন সিস্টেম-সহ একাধিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন তিনি। একইসঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিএসএফের প্রায় ৭৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন’স নেক?

মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার প্রশস্ত শিলিগুড়ি করিডোরই মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের একমাত্র স্থল সংযোগ। পশ্চিমে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে ভুটান এবং অদূরেই চীনের উপস্থিতি- এই ভৌগোলিক অবস্থান করিডোরটিকে ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল নিরাপত্তা অঞ্চলে পরিণত করেছে। এই করিডোরে কোনও নিরাপত্তা বিঘ্ন গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণেই জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে কেন্দ্র।

বদলে যাওয়া ভূ-রাজনীতি ও চিকেন’স নেক বাড়তি সতর্কতা

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সীমান্ত এলাকায় নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সক্রিয়তা এবং সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ- সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি করিডোরের গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে শুধু ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নয়, নেপাল, ভুটান ও উত্তর সীমান্তকে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় এনে নজরদারি বাড়ানোর দিকেই জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কড়া নজরদারি চান শাহ

জুম্মাগাছ, সন্ন্যাসীকাঁটা-সহ সীমান্তের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করেন অমিত শাহ। মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত অংশ দিয়ে যাতে কোনওভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালান না ঘটে, সে বিষয়ে বিএসএফকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। সীমান্তে ত্রিস্তরীয় ফেন্সিংয়ের কাজ দ্রুত শেষ করা, নজরদারিতে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সীমান্ত চৌকির পরিকাঠামো উন্নত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তায় উত্তরকন্যা

উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত বৈঠককে ঘিরে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। গোটা প্রশাসনিক এলাকা বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়। সাংবাদিকদের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যত দুর্গে পরিণত হয় উত্তরকন্যা।

সফরের রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা

অমিত শাহের এই সফরকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক বৈঠক হিসেবে দেখছে না নিরাপত্তা মহল। বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে কেন্দ্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ রোধ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৌশলগত অবকাঠামো গড়ে তুলে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কেন্দ্র যে আরও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে, উত্তরবঙ্গ সফরে সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Feature graphic is representational and AI generated.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com