ইলেকশন ডেস্ক: ভবানীপুরে ভোট স্লো করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি! এমনই আশঙ্কা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে উত্তরপাড়ার জোড়াপুকুর মাঠে নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে মমতা অভিযোগ করেন, “আজকে মোটাভাই সিআরপিএফের যাকে নন্দীগ্রামে ভোট লুট করতে পাঠিয়েছিল, তাকে নিয়ে আজকে মিটিংয়ে বসেছিল। মিটিং করে বলেছে, ভোট স্লো করে দাও। লোকে যেন ভোট দিতে না পারে।”
উত্তরপাড়া থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষণ্য তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র। কল্যাণপুত্রের হয়ে ভোট চাইতে গিয়ে মমতা বলেন, “তোরা আমার কাঁচকলা করবি। আমার ভবানীপুরে ভোট স্লো করার ষড়যন্ত্র করছিস। আমার বয়েই গেল।” মমতা আরও বলেন, “জয়রামবাটি থেকে মহেশের রথ, কত উন্নয়নের কাজ করেছি। দেখেছেন বিজেপি কেমন খেপে গেছে। খুব চাপ নিচ্ছে। দৌড়াদৌড়ি করছে। আজ নাকি বিজেপির পঞ্চাশটা হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে। আমরা তিনটে জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। ওদের ৫০টা হেলিকপ্টার, ১৯টা চিফ মিনিস্টার, কেন্দ্রীয় সরকারের সব মিনিস্টার, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি, ইডি-সিবিআই সব নিয়ে চলে এসেছে। তারপরেও তোরা গোল্লা পাবি।”
উত্তরপাড়ার সভায় রাজ্যের পুলিশের উপরেও ক্ষোভ ঝাড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “পরশু আমার বিধানসভা ভবানীপুরেও আমার এক কর্মীকে পিটিয়েছে। পুলিশের ভাইয়েরা আপনাদের এত সক্রিয় হওয়ার দরকার নেই।” পুলিশ ইচ্ছে করে তাঁর মিটিংয়ে লোক ঢোকাতে বিলম্ব করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআরে নাম বাদ পড়া সকলের আবার ভোটার তালিকায় নাম উঠবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা যারা উপরে বসে থাকি, তাদের চেয়েও বড় সম্পদ যারা নীচে বসে থাকে। আপনারা দেখেছেন, কল্যাণ কেমন ফাইট করে লোকসভায়। আমি যখন লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি নিয়ে মামলা করলাম, তখন কল্যাণ কাজ করেছে। চিন্তা করবেন না। সকলের নাম উঠবে।”
তৃণমূলের আমলে রাজ্যে ইন্ডাস্ট্রি হয় নি, শনিবার উত্তরপাড়ায় সভায় দাঁড়িয়ে এই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, “আপনি হাওড়া থেকে বর্ধমান একদিন ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে যান। দেখবেন, চারদিকে শুধু ইন্ডাস্ট্রি, ইন্ডাস্ট্রি আর ইন্ডাস্ট্রি। হিন্দমোটর কারখানায় ৪০ একর জমি নিয়ে আমরা মেট্রো রেলের কোচ ফ্যাক্টরি বানিয়েছি। আগামী দিনে অনেক লোকের ওখানে চাকরি হবে। আরও অনেক শিল্প হবে। ছ’টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে।” বিজেপি নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমোদী-প্রমোদী বাবুদের বলছি, বছরে দুই কোটি চাকরি দিয়েছেন? আমরা দিয়েছি। দেশে ৪০ শতাংশ বেকারি বেড়েছে। আর বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকারি কমেছে।”
ভবানীপুরে বিজেপি বাইরে থেকে লোক ঢুকিয়েছে বলে এদিন অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, ওদের লোক নেই। ট্রেনে-বাসে করে লোক ঢুকেছিল। ভবানীপুরেও কাল ঢুকেছিল। আমরা ভাল করে মিষ্টি খাইয়েছি। বলেছি, আবার খাওয়াবো। যা যা চায়, তাই খাওয়াব।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমরা চেয়ারকে রেসপেক্ট করি। কিন্তু কী করে আপনি বলছেন, উল্টো করে ঝুলিয়ে দেবেন! আপনি আরও ঘুরুন। আপনার জন্য আমাদের ভোট আরও বাড়বে। কিন্তু আপনি কী করে বললেন, ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সোজা করা হবে। আপনি হিংসার কথা বলছেন!” মমতা উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “আমি জানি, এদের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নেবে না। কিন্তু আইনজীবী যাঁরা আছেন, তাঁদের বলছি, কেস করুন। এ কথা হোম মিনিস্টার বলতে পারেন না। আমিও বলতে পারি না। আইন সকলের জন্য এক।” মমতা বলেন, “আরে ঘরে ঘরে তো তৃণমূল। কত লোককে পেটাবেন!”
উত্তরপাড়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, “ক’দিন আগে ঝালমুড়ি খেয়েছেন। বলছেন, আমি ঝালমুড়ি খেয়েছি, তৃণমূলের ঝাল লেগেছে। আরে আমার কেন ঝাল লাগবে। তোমার ঝালমুড়ি তো বাড়ি থেকে তৈরি করা। যে দোকানে গেছো, সেখানে আগে গিয়ে ক্যামেরা ফিট করে এসেছো। স্পন্টেনিয়াস হলে ক্যামেরা ফিট করা থাকত না। আবার বলছে, ঝাল লেগেছে! ঝাল লাগে নি আমাদের। কাউন্টিংয়ের সময় ঝাল তো লাগবে তোমার। তখন জ্বলবে আর লুচির মতো ফুলবে।”
Feature image: NNDC