বিপর্যয়ের মুখে পাকিস্তান! খাদ্য সংকট চরমে, বাজার থেকে উধাও আটা-ময়দা, শুরু কাড়াকাড়ি-মারামারিও - nagariknewz.com

বিপর্যয়ের মুখে পাকিস্তান! খাদ্য সংকট চরমে, বাজার থেকে উধাও আটা-ময়দা, শুরু কাড়াকাড়ি-মারামারিও


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিদ্যুত ও জ্বালানি সঙ্কটের পর তীব্র খাদ্য সঙ্কট পাকিস্তানে। বাজার থেকে আটা-ময়দা প্রায় উধাও। গমের দাম আকাশছোঁয়া।‌ বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণের নাগালের বাইরে। সারা পাকিস্তান জুড়েই ত্রাহি ত্রাহি রব। তবে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত বালোচিস্তানের অবস্থা সবথেকে খারাপ। এই দুই অঞ্চলে খাদ্যের দাবিতে দাঙ্গা লাগার মতো পরিস্থিতি। আটা-ময়দা জোগাড় করতে না পারায় অনেক বেকারি ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে। হোটেলগুলিও খুলছে না।

সরকার থেকে দেওয়া সস্তার গম কিনতে মানুষের হুড়োহুড়ি। ফটো- টিওআই থেকে সংগৃহীত

‘ফরেন রিজার্ভ’ তলানিতে। বৈদেশিক ঋণে গলা পর্যন্ত ডুবে গেছে মহম্মদ আলি জিন্নাহর সাধের পাকিস্তান। প্রকৃতিও নাখোশ। বাইশে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ভয়াবহ বন্যায় চাষাবাদে বড় কোপ পড়ে। গমের উৎপাদন ব্যাপকভাবে মার খায়। পাকিস্তানিদের প্রধান খাদ্য রুটি‌। সেই রুটির‌ই এখন আকাল। সরকারের গোডাউনে গম নেই। ভর্তুকিতে দরিদ্রদের গমের জোগান দেওয়া‌ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। খোলা বাজারে‌ও খাদ্যের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হ‌ওয়ার মুখে। মল থেকে মুদি দোকান- কোথাও চাল-গম ও অন্যান্য নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদি মিলছে না। যে সব জায়গায় মিলছে, কিন্তু দাম এতটাই চড়া যে তা মধ্যবিত্তদের‌ও ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

এক কেজি আটার দাম ১৬০ টাকা!

পাকিস্তানের বন্দর নগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে এক কেজি ময়দার দাম সেই দেশের মুদ্রায় ১৬০ টাকা! পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তো মানুষ বেশি দাম দিয়েও ময়দা কিনতে পারছে না। কারণ ইসলামাবাদের কাছে নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর বরাবরই দুয়োরাণী। এই সঙ্কটের মুহুর্তে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সরবরাহের কোনও তাগিদ‌ই দেখাচ্ছে না শাহবাজ শরিফের সরকার। পাক নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে জনগণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক আর খাদ্য সঙ্কট- তাদেরকে‌ই সব থেকে বেশি মূল্য চোকাতে হয় বলে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের অভিযোগ।

বালোচিস্তান সরকারের গোলা শূন্য

খাইবার পাখতুনখোয়া ও সিন্ধ প্রদেশের পরিস্থিতিও সুবিধের নয়। তবে বালোচিস্তানের অবস্থা শোচনীয়। যেখানেই সস্তার সরকারি আটা-ময়দা মিলছে সেখানেই ভিড় জামাচ্ছে মানুষ। কয়েক জায়গা থেকে ভিড়ের চাপে হতাহতের খবর‌ও আসছে। বালোচিস্তান প্রদেশের খাদ্যমন্ত্রী জামারাক খান হাত তুলে দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে মন্ত্রী স্বীকার করেন, সরকারের গোলায় আর কোন‌ও গম মজুত নেই। পাঞ্জাব ও সিন্ধ-এর প্রাদেশিক সরকারের কাছে গম পাঠানোর কাতর আর্জি জানিয়েছে বালোচিস্তান সরকার। কিন্তু তাতে এখনও পর্যন্ত কর্ণপাত করে নি পাঞ্জাব ও সিন্ধ সরকার। বালোচিস্তানে খাদ্য সঙ্কট সামাল দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তেই ৬ লক্ষ বস্তা গম দরকার। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ এলাহি এই পরিমাণ গম পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেন নি বলে বালোচিস্তানের খাদ্যমন্ত্রীর অভিযোগ। ইসলামাবাদের কেন্দ্রীয় সরকার, পাঞ্জাব ও সিন্ধ- বালোচিস্তানের বিপদের দিনে সবাই মুখ ফিরিয়ে রেখেছে বলে তাঁর অভিযোগ।

বালোচিস্তানে রুটির জন্য লম্বা লাইন। সরকারি গোডাউনে খাদ্য শেষ। ফটো ক্রেডিট- এ‌এফপি

পাকিস্তানের প্রত্যেকটি প্রদেশেই খাদ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সব প্রাদেশিক সরকার‌ই আগে নিজে বাঁচো নীতি নিয়েছে। তাই কেউ কারও বিপদে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না। বরাবরই পাকিস্তানের সবথেকে সমৃদ্ধশালী প্রদেশের নাম পাঞ্জাব‌। পাকিস্তানের কৃষিজ উৎপাদনের সিংহভাগ আসে পাঞ্জাব প্রদেশ থেকেই। বন্যায় সেই পাঞ্জাবেই গমের উৎপাদন ভীষণভাবে ব্যাহত। বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের‌‌ও বেশি। তবে পরিস্থিতির জন্য শুধু প্রকৃতি নয় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। নির্বাচিত সরকারের উপর সামরিক বাহিনীর দাদাগিরি। প্রশাসনের শীর্ষস্তরে অবাধ দুর্নীতি। ভারতের সঙ্গে টক্কর দিতে গিয়ে সামরিক খাতে বিপুল ব্যয়। কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলিকে মদত। বালোচ বিদ্রোহ দমনেও অনেক টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। ইসলামিক জঙ্গিবাদীদের নির্মূলে সরকারের ব্যর্থতা। সব মিলিয়ে গুড গভর্নেন্স বা সুশাসন নামক বস্তুটার অভাব‌ই পাকিস্তানকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।

Feature Image Credit- Reuters.


Leave a Reply

Your email address will not be published.