কোচবিহারে মোদী : জনতাজনার্দনের মুখ‌ই বলে দিচ্ছে বাংলায় বিজেপি আসছে


কোচবিহার,৬ এপ্রিল,২০২১ : গণতন্ত্রে জনতাই ঈশ্বর । জনতাজনার্দনের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে বাংলায় বিজেপি আসছে । মঙ্গলবার দুপুরে কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে এইভাবেই বিজেপির জয় নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ে নিজের ভাব ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । তৃতীয় দফায় ৩১ আসনে ভোটগ্রহণের মধ্যেই প্রচারে রাজ্যে এলেন মোদী । দুপুরে কোচবিহার রাসমেলা ময়দানে নির্বাচনী সভায় ভাষণ শেষ করেই হাওড়ায় উড়ে যান তিনি । ডুমুরজলায় আরও একটি সভায় বক্তৃতা করেই দিল্লি ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী । ভোটের দিনেই মোদীর‌ প্রচার নিয়ে আপত্তি আছে তৃণমূলের । এ নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব  আপত্তি জানালেও তাতে কর্ণপাত করে নি নির্বাচন কমিশন । ভোট গ্রহণের দিন প্রচারে থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌ও । ভোটের মধ্যে মমতা কিম্বা মোদী – কার‌ও প্রচারেই বিধিভঙ্গের কোনও কারণ দেখছে না কমিশন । 

মঙ্গলবার মোদীর সভা ঘিরে কোচবিহার শহরের রাসমেলা ময়দান মানুষের ভিড়ে উপচে পড়ে । বিশাল মাঠ ছাপিয়ে  রাস্তা সহ আশেপাশের এলাকাও মানুষের দখলে চলে যায় । লোকসভা নির্বাচন থেকেই উত্তরবঙ্গে বিজেপির দাপট ক্রমবর্ধমান । আবার উত্তরবঙ্গের মধ্যে কোচবিহারেই বিজেপির সংগঠন সবথেকে মজবুত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল । এদিন‌ প্রধানমন্ত্রীর সভায় মাঠ উপচানো ভিড় টানতে পেরে ভোটের দোরগোড়ায় স্বাভাবিকভাবেই মুখে চ‌ওড়া হাসি কোচবিহার বিজেপির কর্ণধার সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের মুখে । কোচবিহার থেকে ‌নয়ে নয় করাই  নিশীথ প্রামাণিকের টার্গেট ।  

রাসমেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সভা :  সাম্প্রতিক কালে কোচবিহার জেলায় কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচীতে এমন ভিড় লক্ষ্য করা যায় নি । 

কোচবিহারের নির্বাচনী সভায় ভিড়ের বহর দেখে উৎফুল্ল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও । সভায় দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘ আগের দুই দফা ভোট থেকেই দিদির যাওয়ার রাস্তা তৈরি হয়ে গেছে । ‘ মোদীর দাবি , ‘ গত দু’দফায় বিশাল সংখ্যায় মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে লম্বা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন । ‘ তৃতীয় দফায়‌ও খুব ভালভাবে ভোট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি । বাংলায় বিজেপির হাওয়া এতটাই প্রবল যে মানুষ তৃণমূলের দুর্বৃত্তদের ভয় উপেক্ষা করে‌ই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন বলে দাবি করেন নরেন্দ্র মোদী । 

মোদীর সভা ভরাতে সফল : এখন কোচবিহারে নয়ে নয় করাই লক্ষ্য নিশীথের ।

মোদী যখন তিনদফার ভোটগ্রহণ নিয়েই সন্তুষ্ট তখন ভোট নিয়ে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে ভোট করাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী । কোচবিহারের সভা থেকে এ নিয়ে মমতাকে কটাক্ষে ভরিয়ে দেন নরেন্দ্র মোদী । প্রত্যেক দফার ভোট গ্রহণ শেষেই ভারী সংখ্যায় আসন জেতার দাবি করছেন মোদী-শাহ । এ নিয়ে পাল্টা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মমতার কটাক্ষ , মোদী কি ভগবান যে কটা আসন জিতবেন আগেভাগেই বলে দিচ্ছেন ? মঙ্গলবার মমতার কথার জবাব দিলেন মোদী ।‌ মমতাকে উদ্দেশ্য করে নরেন্দ্র মোদী বলেন , ‘ দিদি । ও দিদি । ভোটে কে হারবে , কে জিতবে এটা জানার জন্য ভগবানকে কষ্ট দেওয়ার দরকার নেই ।  এই যে জনতা জনার্দন দেখছেন । এরাই গণতন্ত্রের ভগবান । জনতাজনার্দনেরমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভোটে হাওয়ার গতি কোন দিকে । ‘ মোদী বলেন, ‘ দিদি আপনার কথাবার্তা , ব্যবহার , আপনার ক্রোধ , আপনার মুখের ভাষা – এইসব দেখেও কিন্তু বলে দেওয়া যায় তৃণমূল ভোটে হেরে গেছে । দিদি আপনি হেরে গেছেন । ‘ মোদীর কটাক্ষ – ‘ দিদি ময়দান ছেড়ে চলে গেছেন । ‘ 

সংখ্যালঘুরাও  আপনার পাশ থেকে সরে গেছে দিদি : মোদী 

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নন্দীগ্রামের ভোটের পর থেকেই চাপা টেনশনে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । যদিও নন্দীগ্রামে তিনিই জিতছেন বলে বারবার দাবি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ নিয়েও মমতাকে খোঁচা দিতে ছাড়েন নি নরেন্দ্র মোদী । মোদী বলেন, ‘ দিদি রোজ‌ই আপনাকে বলতে হচ্ছে , আমি নন্দীগ্রামে জিতে গেছি । আরে দিদি নন্দীগ্রামে ভোটের দিন আপনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যা করেছেন তা দেখেই পুরো দেশ বুঝে গেছে আপনি ভোটে হারছেন । ‘ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারাণসী থেকে ভোটে লড়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে মোদীর বাক্যবাণ – ‘ দিদি যখন আপনার পার্টি ঘোষণা করে দেয় যে দিদি বেনারস থেকে ভোটে লড়বেন তখন রাজনীতি সমঝদার যে কোন‌ও ব্যক্তির‌ই বুঝতে বাকি থাকে না টিএমসি সাফ হয়ে যাচ্ছে । বাংলায় টিএমসি বাঁচবে না । রাজনীতি করতে চাইলে দিদিকে বাংলার বাইরে যেতে হবে । ‘ 

ভোটের বাতাসে বাংলা জয়ের গন্ধ পাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী ।

রাজ্যের সংখ্যালঘুরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে সরে গেছে বলে সভায় দাবি করেছেন নরেন্দ্র মোদী । মুসলমান সমাজ দূরে সরে গেছে বলেই সভায় দাঁড়িয়ে মমতাকে ‘ সব মুসলমান এক হ‌ও ‘ বলতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘ দিদি আজ আপনি বলছেন সব মুসলমান এক হয়ে যাও । ভোট ভাগ হতে দিও না । দিদি আপনি এটা বলছেন । তার মানে আপনি বুঝে গেছেন , যে মুসলমান ভোটব্যাঙ্ককে আপনি নিজের শক্তি বলে মনে করেন সেই মুসলমান ভোটব্যাঙ্ক আপনার হাত থেকে বেরিয়ে গেছে । মুসলমানরা আপনার থেকে দূরে সরে গেছে ।  আপনাকে এখন তাই প্রকাশ্যে বলতে হচ্ছে মুসলমানরা এক হ‌ও । ‘ নরেন্দ্র মোদী বলেন ‘ আমরা যদি বলতাম , সারা হিন্দু একজোট হয়ে যাও । বিজেপিকে ভোট দাও । নির্বাচন কমিশন এতক্ষণে আমাদের আটদশটা নোটিশ ধরিয়ে দিত । দেশের সমস্ত সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে আমাদের সমালোচনা শুরু হয়ে যেত ।  


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *