মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিককে চড় মারলেন তৃণমূলের বিধায়ক ! ময়নাগুড়ির বিধায়কের কান্ডে মুখ পুড়ল তৃণমূলের , দলকেই অস্বস্তিতে ফেললেন অনন্তদেব অধিকারী


প্রদ্যুৎ দাস ,ময়নাগুড়ি ,পাঁচ জানুয়ারি : মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিককে চড় মারার অভিযোগ উঠল ময়নাগুড়ির তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে । মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাগুড়ি ফুটবল গ্রাউন্ডে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির উন্মুক্ত জিম উদ্বোধনের একটি অনুষ্ঠানে বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী সোমনাথ চক্রবর্তী নামে সাংবাদিককে চড় মারেন বলে অভিযোগ । সোমনাথবাবু একটি বাংলা দৈনিকের সংবাদদাতা । ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের সামনেই অনন্তদেববাবু তুই-তোকারি করতে করতে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে চড় মেরে দেন বলে ওই সাংবাদিকের অভিযোগ । 

ঘটনা যখন ঘটছিল সেই সময়ের ছবি

সাংবাদিকের অপরাধটা কী ? দৈনিকটিতে প্রকাশিত একটি সংবাদ মনঃপূত না হ‌ওয়াতেই বিধায়ক মহাশয়ের মেজাজ সপ্তমে চড়ে যায় বলে নিগৃহীত সাংবাদিক জানিয়েছেন । সোমবার জল্পেশে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে সভাধিপতির উপস্থিতিতে‌ই অনন্তদেববাবু অভিযোগ করেন, বিধায়ক হ‌ওয়ার পরেও জল্পেশ মেলা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তাঁর মতামত নেয় না জেলা পরিষদ । মঙ্গলবার সকালে সংবাদপত্রে নিজের কথা ছাপার অক্ষরে দেখার পর থেকেই খাপ্পা হয়ে ওঠেন তৃণমূলের বিধায়ক । বিকেলে ময়নাগুড়ি ফুটবল গ্রাউন্ডে জিম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সোমনাথ চক্রবর্তীকে দেখা মাত্র‌ই অনন্তদেব অধিকারী ডেকে নিয়ে বলেন , ‘ কোনও অ্যান্টি খবর করা যাবে না ।’ এরপর তুমি থেকে তুইতে নেমে বিধায়কমশাই গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের সৈনিককে ধমকি দিয়ে কৈফিয়ৎ চান ‘ কালকের খবরটা কেন করলি ? ‘ এরপর তুই এখানে থেকে বেরিয়ে চলে যা , কোনও খবর তুই আজকের থেকে করতে পারবি না বলেই সাংবাদিকের গালে চড় কষিয়ে দেন ময়নাগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক । এমন‌ই অভিযোগ নিগৃহীত সাংবাদিকের । যদিও সাংবাদিককে চড় মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ময়নাগুড়ির এই প্রবীণ রাজনীতিক । 

নিগৃহীত সাংবাদিক সোমনাথ চক্রবর্তী

দলের বিধায়কের এহেন আচরণে অস্বস্তিতে পড়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব । অনন্তদেব অধিকারীর পাশে দাঁড়ান নি নিজের দলের নেতারাই । কিছু দিন যাবতই অনন্তদেববাবুর মনমেজাজ ভাল যাচ্ছে না । নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রেই দলের একটি বড় অংশ তাঁর ব্যবহারে রীতিমতো বিরক্ত । জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণীর সঙ্গেও তাঁর বনিবনা হয় না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা । সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে একাধিকবার পিকে এবং আইপ্যাকের সদস্যদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন অনন্তদেব অধিকারী । তিনি শুভেন্দু অধিকারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দল পর্যন্ত ছাড়তে পারেন বলে ঘরবাইরে কানাঘুষো চলছে । 

সাংবাদিককে চড় মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের বিধায়ক

অনন্তদেব অধিকারী ময়নাগুড়ির প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের একজন । একাধিক বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন । দীর্ঘদিন আর‌এসপির সঙ্গে ছিলেন । পরে দল পাল্টে যোগ দেন তৃণমূলে । দলের ভেতরে কোনঠাসা হয়ে পড়ার কারণে  অনন্তদেব বাবুর মনের ভেতরে ক্ষোভ এবং অস্থিরতা থাকতেই পারে । কিন্তু এইভাবে সাংবাদিক মেরে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে থাকলে তা যে ওনার জন্য রাজনৈতিক ভাবে খুব একটা লাভজনক নাও হতে পারে এই হিসেব মনে হয় গুলিয়ে ফেলেছেন বিধায়ক মহাশয় ।  খবর মনঃপূত না হলেই যে সাংবাদিককে চড় মারার অধিকার নেতাদের জন্মায় না এত বয়সে এসেও অনন্তদেব বাবুর তা শিখতে  না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।


             ভিডিওতে দেখুন –




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *