ডেস্ক রিপোর্ট: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতনের একটা অন্যতম কারণ তৃণমূলের তোলাবাজি। রাজ্যে পালা বদলের পর এই রোগ যাতে বিজেপিকেও পেয়ে না বসে, ক্ষমতায় বসার প্রথম দিন থেকেই তা নিয়ে কড়া অবস্থানে শমীক-শুভেন্দুরা। বাংলায় বিজেপি সরকারের বয়স সাড়ে তিন মাস পেরিয়েছে। ইতিউতি বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধেও তোলাবাজির অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। এর আগেও তোলাবাজি-দুর্নীতির ব্যাপারে দলের কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ফের তোলাবাজি নিয়ে দলের সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিলেন শমীক।
তোলাবাজিকে ইনস্টিটিউশনে পরিণত করেছিলেন মমতা-অভিষেক। তোলার একটি অংশ কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটে পাচার হত। তৃণমূলীদের তোলাবাজির জেরে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলেন মানুষ। পুলিশে অভিযোগ করে প্রতিকার তো হতোই না উল্টে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হত অভিযোগকারীকে। মমতা ও অভিষেক যেহেতু তোলার টাকায় চলতেন, তাই তোলাবাজিতে অভিযুক্ত দলের নেতাদের শাস্তির বদলে পুরস্কৃত করতেন। এই পরিস্থিতির হাত থেকে বাঁচতেই বিজেপিকে বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন রাজ্যবাসী। বিজেপির সাংগঠনিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে পাঠানো বিশেষ বার্তায় শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে বলেছেন— বিজেপি দলটা তৃণমূল নয়। দুর্নীতি-তোলাবাজির প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে দল।
বিজেপি দলের ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি চালাচ্ছে কেউ কেউ। তৃণমূলের পুরোনো তোলাবাজরাও জার্সি পাল্টে তোলাবাজি চালানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে জনমানসে বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তোলাবাজি-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মকর্তাকে শাস্তি দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। তোলাবাজির রোগ আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই কড়া ওষুধ দিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের শমীক ভট্টাচার্য চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের কিছু ‘অনভিপ্রেত’ কাজকর্ম ও অনিয়মের অভিযোগ তাঁর কানে এসেছে। শমীক দলের সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, দলীয় নীতি-আদর্শের বাইরে গিয়ে কেউ যদি অনৈতিক কাজ বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তবে দল কখনওই তার দায়ভার নেবে না।
দলের অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই চালাতে চাইছে রাজ্যের নতুন শাসকদল? এর একটা রূপরেখা দলের কর্মীদের সামনে রেখেছেন শমীক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপকর্মের প্রমাণ মিললেই তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি এবং সাংগঠনিক পদক্ষেপ করতে দল দুইবার ভাববে না। যে উচ্চতার পদাধিকারীই হন না কেন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার রেহাই নেই। দলের ভাবমূর্তি এবং পুরনো কর্মীদের ‘দীর্ঘ দিনের ত্যাগ’ যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেই দিকে দলের সকল সদস্যকে নজর দিতে বলেছেন শমীক ভট্টাচার্য।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শমীক বলেছেন, মানুষ বিজেপির লোকদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দেখতে চান। মানুষের আস্থা ধরে রাখতে চাইলে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তৃণমূলের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তোলাবাজিতে জড়িয়ে পড়লে তৃণমূলের পরিণতি বরণ করতে হবে— দলের কর্মীদের সতর্ক করে দেন শমীক ভট্টাচার্য। গত ১ আগস্ট প্রকাশ্যেই দলের তোলাবাজ নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেছিলেন, বিজেপির নাম ভাঙিয়ে এবং বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যাদের তোলাবাজি করতে দেখা যাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই তৎকাল বিজেপি, ৪-মের পর যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছ
১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দলের তোলাবাজদের সতর্ক করে দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “শুধরে যান। নয়তো বুঝিয়ে দেওয়া হবে, বিজেপি কী জিনিস!” ১৫ দিন পার হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে এবার দলের অভ্যন্তরে বিশেষ বার্তা দিয়ে তোলাবাজি, দুর্নীতি নিয়ে সদস্যদের সজাগ করলেন শমীক।
Feature graphic is representational.