কলকাতা: শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়ও কি তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে? রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক ঝাঁক তৃণমূল নেতা মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপিতে যোগ দিলেন। সবথেকে বড় কথা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা তৃণমূলীদের মধ্যে একাধিক সংখ্যালঘু মুখও আছেন। রাজ্য বিজেপির ৬ মুরলীধর সেন লেনের দফতরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে যোগদান পর্বের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর হুঙ্কার, “দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই এবার পরিবর্তনের সূচনা হবে।”
এদিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানকারীদের মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য নাম অনিমেষ মন্ডল। অনিমেষ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বর্তমান উপাধ্যক্ষ। অনিমেষ মন্ডলের নেতৃত্বে গোসাবা ব্লকের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানকারীদের মধ্যে আরও এক উল্লেখযোগ্য নাম শৈবাল অধিকারী। তিনি ক্যানিং-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি। ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহসভাধিপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন শৈবাল। ২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তিনি জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষও ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে পতাকা গ্রহণ করে বিজেপিতে যোগ দিলেন শৈবাল অধিকারী।
শৈবাল অধিকারীর সঙ্গেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন উপপ্রধান সিরাজউদ্দিন দেওয়ান। নিকারিঘাটা অঞ্চল তৃণমূলের জয়েন্ট কনভেনার রফিক শেখ। গোপালপুর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি আসমত মোল্লা। ক্যানিং-১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ বদরুদ্দোজা শেখ। হাটপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান প্রতিমা সর্দার। গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান নন্দকিশোর সর্দার। দিঘিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান অর্ণব রায়। ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য সঞ্জয় নস্কর।
ক্যানিং অঞ্চলের তৃণমূলের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে সালাউদ্দিন সর্দার, শম্ভু বৈদ্য, গণেশ মণ্ডল, কালীচরণ সর্দার, মদন নস্কর, বিষ্ণু নস্কর, কার্তিক মণ্ডল, অসিত মণ্ডল, ধনঞ্জয় সাঁপুই, দীপঙ্কর মণ্ডল, মনোরঞ্জন দাস ও ফণীভূষণ সর্দারও এদিন শৈবাল অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
যোগদান ঘিরে সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আজ তৃণমূল কংগ্রেস তার রাজনৈতিক মত, পথ ও সত্ত্বা বিসর্জন দিয়ে আইপ্যাক ও পুলিশ নির্ভর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এই কোম্পানিতে এখন আর সৎ, ত্যাগী পুরোনো নেতা-কর্মীদের কোনও দাম নেই।” তিনি আরও বলেন, “নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে তৃণমূলের পুনরুত্থান হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে। এই দুই জেলা থেকেই তৃণমূলের পতন শুরু হয়েছে।”
তবে তৃণমূল থেকে ঢালাও দলে লোক ঢোকানোর পক্ষে নয় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। দলের নীতি উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “চুরি-চামারি, কাটমানি, তোলাবাজি, ভোটে ছাপ্পা ও নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত নয় এমন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে যোগদানে আগ্রহী হলে দল তাঁদের কথা ভেবে দেখবে।”
মঙ্গলবার হাবড়ায় একটি নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে রেশন দুর্নীতিতে জেলখাটা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেছেন, “বালু ভাল ছেলে। ও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। বাম আমলে নিজেদের করা দুর্নীতি ঢাকতেই বালুকে বিজেপিকে দিয়ে ফাঁসিয়েছে সিপিএম।” সাংবাদিকেরা এ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মতামত জানতে চাইলে বিরোধী দলনেতা মন্তব্য করেন, “পশ্চিমবঙ্গে রেশন দুর্নীতি স্বাধীনতার পরে সবথেকে বড় স্ক্যাম। ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছে। আজকে এই কথার দ্বারা প্রমাণিত হয়ে গেল, প্রমাণিত হয়ে গেল কেষ্ট-বালু চুনোপুঁটি/ সব খেয়েছে হাওয়াই চটি।”
Feature image: NNDC.