ডেস্ক রিপোর্ট: যে যত হম্বিতম্বিই করুক, আর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করুক, শেষ পর্যন্ত এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা শুদ্ধ করে ছাড়ল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর আটকাতে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এসআইআর-এর গতিরোধ করে নি দেশের শীর্ষ আদালত। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধান করেছে বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি ও হস্তক্ষেপে হওয়া এসআইআর-এ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম!
সোমবার গভীর রাতে ডিলিটেড ভোটারদের জেলাওয়ারী তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির কোপে পড়ে বিবেচনাধীন বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ ভোটারের মোট সংখ্যা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এখনও পর্যন্ত ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জন বিবেচনাধীন ভোটারের নাম প্রকাশিত হয়েছে। বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন। তালিকায় নাম উঠেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। আরও ২২ হাজার ১৬৩ জন বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা বাকি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এদের সমস্যার নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও এখনও নথিতে ই-স্বাক্ষর যুক্ত হয় নি। এই ২২ হাজার ১৬৩ জন বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশিত হলে ডিলিটেড ভোটারের তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হতে পারে।
৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ নাম ডিলিটেড!
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন। সোমবার রাতে জেলা ধরে ধরে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকাভুক্ত ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে মোট বাদ পড়া ভোটার দাঁড়াল ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জন। যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের আবেদন করার সুযোগ দিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ১৯ জন বিচারপতির নেতৃত্বে এই ট্রাইব্যুনালগুলি ২৪টি জেলার ভোটার তালিকা সম্পর্কিত অভিযোগ ও বাদ পড়াদের নাম অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করবে।
রাজ্যে মোট বৈধ ভোটার ৬৭৭২০৭২৮
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের নাম কাটা পড়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম পর্বের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ গেছে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম। এই মুহূর্তে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৮ জন।
বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদে শীর্ষে মুর্শিদাবাদ
এসআইআর-এ বিবেচনাধীন তালিকা থেকে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকা থেকে মুর্শিদাবাদ জেলায় বাদ পড়েছিল ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮২২ জন। বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম। মুর্শিদাবাদ থেকে মোট বাদ গেল ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জনের নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা থেকে মালদহ জেলায় বাদ পড়া ভোটারের মোট সংখ্যা ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৫ জন। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে মালদহে বাদ পড়েছেন ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫ জন ভোটার। মালদহ জেলায় মোট ডিলিটেড ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন।
সবচেয়ে বেশি নাম বাদ উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়
উত্তর ২৪ পরগনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪৩০ জনের নাম। বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা থেকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বাদ পড়েছেন ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জন। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে মোট ডিলিটেড ভোটারের সংখ্যা ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৬ জন। কলকাতা উত্তরের বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৩৯ হাজার ১৬৪ জনের নাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকা থেকে কলকাতা উত্তরে বাদ পড়েছিল ৪ লক্ষ ৮ হাজার ৩১১ জনের নাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৬৮ হাজার ১৬৯। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বাদ পড়েছেন ২ লক্ষ ২২ হাজার ৯২৯ জন। এই জেলায় মোট ডিলিটেড ভোটারের সংখ্যা ১০ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৮ জন।
উত্তর কলকাতায় মোট ডিলিটেড ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৭৫ জন। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা থেকে কলকাতা দক্ষিণে বাদ পড়েছিলেন ২ লক্ষ ২১ হাজার ১৫১ জন। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ গেছে ২৮ হাজার ৪৬৮টি নাম। কলকাতা দক্ষিণে সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম খারিজ ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬১৯ জনের। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে বাদ পড়েছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৭৩ জনের নাম। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে এই জেলায় বাদ পড়লেন ১৯ হাজার ৫৭২ জন ভোটার। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে মোট ডিলিটেড ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৪৫ জন।
Feature image is representational and designed by NNDC.