জোর যার মুল্লুক তার! তেলের জন্য সবকিছু করতে পারে আমেরিকা

জোর যার মুল্লুক তার! তেলের জন্য সবকিছু করতে পারে আমেরিকা


হোয়াইট হাউসে আসিম মুনিরের মতো নচ্ছার জেনারেলকে কোলে বসিয়ে আদর করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যা করল, তা নির্লজ্জ দস্যুবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়। সমস্ত রকমের আন্তর্জাতিক আইনকানুন, কূটনীতিক শিষ্টাচারকে ক্ষমতার জোরে ধর্ষণ করে একটা স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক অপহরণ করে তুলে আনা সভ্যতার ইতিহাসে বিরলতম কলঙ্কিত ঘটনা। মাদুরোর থেকে কয়েকশত গুণ বেশি পাজি, স্বৈরাচারী, নিকৃষ্ট রাষ্ট্রনায়ককে আমেরিকা পুষে থাকে। গায়ের জোরে ভেনেজুয়েলার পেট্রোলিয়াম সম্পদকে দখল করা ছাড়া আর কোন উদ্দেশে আমেরিকার এই সামরিক অভিযান?

জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার আমেরিকা ও তার বশংবদ পোষ্যদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পরিণাম ভারতের মতো দেশের জন্য যে বিপজ্জনক, এটা বোঝার জন্য বিরাট বোদ্ধা হ‌‌ওয়ার দরকার পড়ে না। ভারত রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল কিনে লাভবান। ইরান ভারতকে সস্তায় জ্বালানি দেয়। পথের কাঁটা কে? আমেরিকা! ‘এমবার্গো’ দিয়ে ইরানকে স্বাধীনভাবে তেল বিক্রি করতে দিচ্ছে না হোয়াইট হাউস। ক্ষতি হচ্ছে ভারতের।‌ রাশিয়া থেকে ‘ক্রুড অয়েল’ ক্রয় বন্ধ রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন মোদী সরকারের উপর কী পরিমাণ চাপ তৈরি করে রেখেছে, তা সবার জানা। আজকে আমেরিকা ভেনেজুয়েলাকে তেল বেচতে দেবে না! যেহেতু ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈলভান্ডারের উপর মার্কিন কোম্পানিগুলোর মালিকানা নেই, তাই একটা স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বেচতে দেবে না ওয়াশিংটন। এর নাম মুক্ত বাজার অর্থনীতি!

আম্বানিদের রিফাইনারিও ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে। প্রতিদিন ৪ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ভেনেজুয়েলা থেকে জামনগরের দুটি রিফাইনারিতে সরবরাহ করা হবে, এই মর্মে ১৫ বছরের একটি চুক্তি আছে রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ব তেল-গ্যাস প্রতিষ্ঠান PDVSA-র মধ্যে। ভেনেজুয়েলার বর্তমান রেজিম কোলাপ্স করে গেলে ভেনেজুয়েলা থেকে পরতায় জ্বালানি খরিদের রাস্তা ভারতের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। বদমাইশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে ভারতের অর্থনীতির ক্ষতি করছে।

পৃথিবীতে সবার জন্য আদর্শ ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। ইরান নিঃসন্দেহে ‘থিয়োক্রেটিক স্টেট’। কিন্তু এই ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ভারত লাভবান। একটা তিক্ত সত্য হল, ভবিষ্যতে তেহরানে আমেরিকা কোনও পাপেট সরকারকে ক্ষমতায় বসালে ইরান থেকে সস্তায় তেল কেনার সুযোগ হারাবে ভারত।

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *