বীরভূমের সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দিনেদুপুরে ব্যাপক বোমাবাজি! হাত-পা উড়ল যুবকের - nagariknewz.com

বীরভূমের সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দিনেদুপুরে ব্যাপক বোমাবাজি! হাত-পা উড়ল যুবকের


সাঁইথিয়া: বীরভূম জেলার সাঁইথিয়ার ফুলুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বহরাপুরে সোমবার দিনেদুপুরে দুই গোষ্ঠীর বোমাবাজি। দুটি গোষ্ঠীই তৃণমূলের বলে জানা গেছে। বোমায় সাদ্দাম নামে এক যুবকের হাত-পা উড়ে গেছে। বিস্ফোরণে ডান হাত ও ডান পা উড়েযাওয়া ওই যুবককে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে আহত যুবকের অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। তাকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনায় আর‌ও কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩০টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বোমার স্তূপে বাংলা! দিকে দিকে উদ্ধার হচ্ছে বোমা। প্রতীকি ছবি।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসতেই গ্রাম বাংলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে।‌ বহু জায়গায় শাসকদলের মধ্যেই মারপিট বেঁধে গেছে। পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে যে জেলাগুলির আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশ বেশি চিন্তিত, তার মধ্যে বীরভূম অন্যতম। অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূম জেলার তৃণমূল শিবির কান্ডারী বিহীন। কেষ্টর জেলায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দেওয়াই দায় উঠেছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের।

শাসকদলের দুই পক্ষের মধ্যে গোলমালের খবর আসলে পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, এটা বুঝতেই অনেকটা সময় পেরিয়ে যায় পুলিশের। সেই ফাঁকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে অনেক সময় বড় ঘটনা ঘটে যায়। রামপুরহাটের বগটুইয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই গণহত্যা ঘটেছিল বলে অভিযোগ। এদিন‌ দুপুরেও সাঁইথিয়ার বহরাপুরে যখন তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে এলাকায় বৃষ্টির মতো বোমা পড়ছিল, ধারেকাছে কোথাও পুলিশের দেখা পাওয়া যায় নি। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় মানুষের। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, ততক্ষণে দুই পক্ষের অনেকেই আহত। আহতদের মধ্যে সাদ্দামের অবস্থা আশঙ্কাজনক।‌ ঠিক কী নিয়ে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীতে সংঘর্ষ, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বালিঘাটের দখলদারি নিয়ে বিবাদের জেরে দিন কয়েক আগে সাঁইথিয়ার বাঁশজোড় গ্রামে শেখ ফাইজুল নামে এক স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে কুপিয়ে খুন করা হয়‌। এই ঘটনার তদন্তে ‌নেমে ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যাদের সবাই শাসকদলের সঙ্গে ‌জড়িত বলে জানা গেছে। নদী থেকে বালি-পাথর তোলার দখলদারি নিয়ে বীরভূমের তৃণমূল শিবিরে নিজেদের মধ্যে বিবাদ থামার কোনও লক্ষণ নেই। সামনেই আবার পঞ্চায়েত নির্বাচন। দলের মনোনয়ন পাওয়াকে কেন্দ্র করে বীরভূমের গ্রামে গ্রামে দলের কোন্দল কোথায় গিয়ে পৌঁছতে পারে, তা নিয়ে রীতিমতো টেনশনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ফিরহাদ হাকিম কিছুদিন আগেই বীরভূম থেকে ফিরেছেন। দলের অন্দরের হালহকিকত জেনে ফিরহাদ খুব একটা সন্তুষ্ট হন নি বলেই খবর।

Feature Image is representational.


Leave a Reply

Your email address will not be published.