আন্তর্জাতিক পর্যটক গাইড চম্পা ঘোষ : যাঁর কাছে পর্যটন‌ই প্যাশন


প্যান্ডেমিক যদি সব থেকে বেশি ক্ষতি করে থাকে কোনও সেক্টরের তবে তা নিঃসন্দেহে ট্যুরিজম বা পর্যটনের। অতিমারি পরবর্তী সময়ে পর্যটন ক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবন একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। যাঁরা চ্যালেঞ্জটি নিচ্ছেন তাঁদের‌ই একজন ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিস্ট গাইড চম্পা ঘোষ। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অরুণকুমার-

পর্যটন মানে এখন আর নিছক ঘোরাঘুরি নয় । পর্যটন পৃথিবীতে এখন একটি বিরাট শিল্প। শুধুমাত্র পর্যটন‌ই একটি দেশের অর্থনীতিকে পাল্টে দিতে পারে এবং দিচ্ছেও। কোভিড অতিমারির জেরে বিশ্ব জুড়ে বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হলেও আবার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত। পর্যটন শিল্প এখন বহু শাখাপ্রশাখায় পল্লবিত। পর্যটনকে কেন্দ্র করে গতানুগতিক অনেক ধারণাই পাল্টে যাচ্ছে। যেমন পর্যটনে নতুন সংযোজন হোম স্টে। বহু পর্যটক এখন হোটেলের পরিবর্তে হোম স্টে’তেই স্বচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। বিশেষ করে এই অতিমারি পরবর্তী সময়ে। বর্তমানে পর্যটন শিল্পের দুনিয়ায় বড় জায়গা করে নিচ্ছে ট্যুরিস্ট গাইড পেশাটিও। পর্যটন স্থলগুলি ঘোরার সময় সচরাচর আমাদের যে ধরণের গাইডদের সঙ্গে পরিচয় হয়ে থাকে বিষয়টি আর সেখানেই সীমাবদ্ধ নেই। ‘ ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিস্ট গাইড ‘ এখন পর্যটন শিল্পের অন্যতম একটি শাখা এবং রীতিমতো কোর্স শেষ করে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরেই এই পেশায় প্রবেশ করা সম্ভব। চম্পা ঘোষ এমন‌ই একজন ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিস্ট গাইড, পর্যটন‌ই যাঁর প্রোফেশন এবং প্যাশন। চম্পা উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের মেয়ে হলেও বর্তমানে কলকাতা বিধাননগরের ( সল্টলেক ) স্থায়ী বাসিন্দা। সল্টলেকে নিজেই একটি হোম স্টে চালাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি পর্যটন নিয়ে অ্যাক্টিভিজম তো আছেই।

চম্পা ঘোষ- ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিস্ট গাইড। পর্যটনই যাঁর পেশা এবং প্যাশন।

প্যান্ডেমিক পরবর্তী সময়ে পর্যটন শিল্পের পুনরুজ্জীবন একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ । এই দুঃসময়টা উতরে যাওয়ার জন্য কী কী পদক্ষেপ করা দরকার, তা নিয়ে ভাবছেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত সকলেই। যারা বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিচ্ছেন তাঁদের মধ্যে চম্পা ঘোষ‌ও একজন। চম্পা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর। নিজের বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছেন কিছুদিন। তারপর তাঁর যাবতীয় আগ্রহ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে ট্যুরিজমকে ঘিরে। ২০০৬ সালে একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে ইন্ডিয়া ট্যুরিস্ট গাইড নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হন। আবেদন করার পর রীতিমতো পরীক্ষা দিয়ে মনোনীত হন। এবং প্রশিক্ষণ শেষে ইন্ডিয়া ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে লাইসেন্স অর্জন করেন চম্পা ঘোষ। ২০০৬ থেকে ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত চম্পা। একজন ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে দীর্ঘ ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে।

পর্যটন একটা বিরাট এবং বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্র । পর্যটকদের রুচি এবং চাওয়া-পাওয়ায় বিবিধতা আছে। এক দেশের মানুষ যখন আরেক দেশে বেড়াতে আসেন তখন তাঁরা সেই দেশের সমাজ,সংস্কৃতি,কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে একাত্ম হতে চান। পর্যটকদের সঙ্গে পর্যটনস্থলের যোগসূত্রের দায়িত্বটা কিন্তু ট্যুরিস্ট গাইডের‌ই । এই যোগসূত্রের কাজটা দায়িত্বের সঙ্গে পালন করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে , জানতে হয়েছে চম্পাকে। যেই হেতু পর্যটন‌ই চম্পার প্যাশন সেই হেতু বরাবরই অভিনব কিছু করার দিকে তাঁর ঝোঁক। কত নতুন ভাবে বিদেশীদের কাছে ভারতবর্ষকে তুলে ধরা যায় এই নিয়ে অনেক পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন তিনি। ইউরোপ-আমেরিকার পর্যটকদের আকর্ষণ করে ভারতের অনবদ্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য,অরণ্য,হিমালয় এবং প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতীয় স্থাপত্য । এই সবের পাশাপাশি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, ভারতীয় নৃত্যকলা,যোগা এবং আধ্যাত্মও শাশ্বত ভারতকে চেনার সোপান। একজন ট্যুরিস্ট গাইড হিসেবে চম্পা ঘোষ যতবার বিদেশী পর্যটকদের সম্মুখীন হয়েছেন ততবারই তিনি তাঁদের কাছে হয়ে উঠতে চেয়েছেন ভারতবর্ষের একজন প্রতিনিধি। একজন সফল ও আদর্শ টুরিস্ট গাইড হয়ে ওঠার জন্য দেশের ইতিহাস ,শিল্প ,সংস্কৃতি, কৃষ্টি,স্থাপত্য,চিত্রকলা,স্থানমাহাত্ম্য,ভৌগলিক অবস্থান,যোগাযোগ এবং পরিবেশ ও প্রকৃতির উপর যথেষ্ট পড়াশোনা জানা দরকার বলে মনে করেন চম্পা।

পর্যটন পরিষেবায় গাইড হিসেবে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা চম্পা ঘোষের।

মানুষ ভেদে রুচি ভিন্ন ভিন্ন হয়। এর ছাপ পড়ে পর্যটনেও। নিজের ১৪ বছরের গাইড জীবনে বহু ধরণের পর্যটককে ভারতের নানা প্রান্তর এবং দ্রষ্টব্য স্থান ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন চম্পা ঘোষ। তাদের গাইড করেছেন সফল ভাবে। পর্যটকদের রুচি অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলা একটু চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব কিছু নয় বলে মনে করেন চম্পা। ভারত ‘ অতিথি দেব ভব ‘র দেশ । অতিথিকে আমরা নারায়ণ জ্ঞানে পুজো করি। অতিথিকে সন্তুষ্ট করা আমরা পুণ্যকর্ম বলে মানি। পর্যটককে অতিথির চোখেই দেখতে অভ্যস্ত চম্পা ঘোষ। অতিমারির শেষে আবার যখন পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে তখন ট্যুরিস্ট গাইডদের আরও বেশি কর সংবেদনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ ‌হয়ে ওঠার পরামর্শ দিচ্ছেন চম্পা। পর্যটকদের খুশি করতে বিনয় খুব জরুরী। অনেক পর্যটকের‌ই স্থানীয় হস্তশিল্পজাত সামগ্রীর উপর আগ্রহ থাকে। অনেকেই স্থানীয় বাজারগুলিতে ঢু মারতে পছন্দ করেন। অনেকে ইন্ডিয়ান ক্যুইজিনের সমঝদার। যে যেমনটি চায় তাকে সেই অনুযায়ী গাইড করার মধ্যেই একজন গাইডের মুনশিয়ানা বলে মনে করেন চম্পা ঘোষ।

লঞ্চ বা ক্রুজে ভাসতে ভাসতে গঙ্গার দু’পাশের মনোরম দৃশ্য দেখার অনভূতিই আলাদা।

কোভিড সংক্রমণ মানুষের ‌জীবনযাত্রার উপর একটি স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। পর্যটকদের চাহিদার মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। বাইরে ঘুরতে বেরিয়ে মানুষ এখন বড় বড় হোটেলের থেকে হোম স্টের ঘরোয়া পরিবেশকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভীতিই এর কারণ। অতিমারি পরবর্তী সময়ে তাই পর্যটন স্থলগুলিতে হোম স্টের চাহিদা বেড়ে গেছে। বাজারের ধর্ম অনুযায়ী‌ই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হোম স্টে পরিষেবার যোগান‌ও বেড়েছে। নিজের গাইড অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই একটি হোম স্টে চালু করেছেন চম্পা। কলকাতার সল্টলেকে একদম ছিমছাম পরিবেশে হোম স্টে’টি । পশ্চিমবঙ্গের ভেতরে কিম্বা বাইরে অথবা প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে যে কেউ কলকাতায় এলে এই হোম স্টেতে থাকার সুযোগ নিতেই পারেন। দেশের বাইরে থেকে যে পর্যটকেরা পশ্চিমবঙ্গ ঘুরতে চান কিম্বা বাংলাকে চিনতে চান একটু অন্য রকম ভাবে তাঁদের জন্য‌ই চম্পা ঘোষ চালু করেছেন সোয়ান হোম স্টে ( Swan Home Stay ) ।

গঙ্গাবক্ষে লঞ্চ কিম্বা বিলাসবহুল ক্রুজে ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার জন্য সব সময় প্রস্তুত ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিস্ট গাইড চম্পা ঘোষ। গঙ্গা বক্ষে লঞ্চে ভ্রমণ বা ক্রুজ ট্যুরিজম পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমণ বৈচিত্রে নতুন সংযোজন। দেশি বিদেশি বা ভিন রাজ্যের পর্যটকেরা লঞ্চে বা অত্যাধুনিক বিলাসবহুল ক্রুজে চড়ে গঙ্গার দুই‌পারের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে চাইলে চম্পা ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ মানেই শুধু দীঘা- দার্জিলিং শান্তিনিকেতন নয়। কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের মধ্যে অসংখ্য জানা অজানা ট্যুরিস্ট স্পট আছে। চম্পার গাইডেন্সে সেই সব স্পট ঘুরে আসার সুযোগ আছে। কলকাতা কে কেন্দ্র করে যে ভ্রমণের জন্য বিদেশি পর্যটকেরা মুখিয়ে থাকেন তার নাম সুন্দরবন – প্রকৃতির অনবদ্য সৃষ্টি, বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ ও ম্যানগ্রোভ অরণ্য। সুন্দরবন ভ্রমণের আকর্ষণীয় প্যাকেজ আছে ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিস্ট গাইড চম্পা ঘোষের কাছে।

সোয়ান হোম স্টে- ঘরের বাইরে ঘরের আরাম।

কলকাতাকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন সহ দক্ষিণ বঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পর্যটন স্থল গুলি স্বচ্ছন্দ্যে ঘুরে দেখতে চাইলে পর্যটকদের সহায়তা করতে পারে চম্পা ঘোষের গাইডেন্স । চম্পার হোম স্টেতে গিয়ে একবার উঠতে পারলেই সব ভাবনার অবসান। আপনার ট্যুর প্ল্যানিং সাজিয়ে দেবেন চম্পা ও তাঁর টিম। ঘরোয়া পরিবেশে কলকাতায় কটাদিন থাকতে চাইলে অথবা কলকাতা কে কেন্দ্র করে ঘুরতে চাইলে সোয়ান হোম স্টে আপনাকে সর্বদাই স্বাগত জানাচ্ছে। স্বাস্থ্য সম্মত আহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকাই যদি হয় আপনার অগ্রাধিকার তবে আপনি হোটেলের দিকে পা না বাড়িয়ে চলে আসতে পারেন এই ঠিকানায় –

SWAN HOME STAY-
Salt Lake City,Sec -II
Kolkata-91

Mobile:9007595908/8777787125(Suman) http://www.kolkatavacationrental.com

ফটো- প্রতিবেদক।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *