নারদ মামলায় শর্ত সাপেক্ষে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে জামিন চার নেতা-মন্ত্রীর


             


কলকাতা,২৮ মে, ২০২১ : অবশেষে শর্ত সাপেক্ষে জামিন মিলল নারদ মামলায় অভিযুক্ত রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সহ চার নেতার । শুক্রবার এক প্রস্থ শুনানি শেষে তাঁদের জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। দুই লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মিলেছে দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক মদন মিত্র ও প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের । জামিনের শর্ত অনুযায়ী বিচারাধীন নারদ মামলা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে পারবেন না তাঁরা । প্রভাব খাটিয়ে মামলার তথ্য প্রমাণ বিকৃত করার চেষ্টা থেকেও বিরত থাকতে হবে চারজনকে ।

১৭ মে সকালে নারদ স্টিং অপারেশন মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় , মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বাসা থেকে  গ্রেফতার করে সিবিআই । বিকেলে সিবিআই আদালত থেকে জামিন মিললেও সিবিআইয়ের আবেদনে জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। দুই মন্ত্রীকে গ্রেফতারের ঘটনায় কলকাতার রাস্তায় তৃণমূল সমর্থকেরা প্রবল বিক্ষোভ দেখায় । নিজাম প্যালেসে সিবিআইয়ের দফতরে গিয়ে ছয় ঘণ্টা বসে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিবিআই দফতর অবরুদ্ধ করে ফেলে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকেরা । বিষয়টিকে তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ হিসেবেই হাইকোর্টের সামনে উপস্থাপন করে সিবিআই । মামলা পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার‌ও আর্জি জানায় সিবিআই ।

অবশেষে জামিন ও গৃহবন্দীত্ব থেকে মুক্তি চারজনের ।

২১ মে ধৃত চারজনকে গৃহবন্দী থাকার শর্তে সিবিআই হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের ডিভিশন বেঞ্চ। জামিন দেওয়া নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মতানৈক্য দেখা দেওয়ায় মামলার শুনানিতে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চের  বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে । বৃহস্পতিবার বৃহত্তর বেঞ্চে নারদ মামলার শুনানি শুরু হলে অভিযুক্ত চার নেতামন্ত্রীর জামিনের বিরোধিতা করেন সিবিআইয়ের কৌশলী সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা ।

শুক্রবার শুনানি শুরু হতেই ফের অভিযুক্তদের জামিন না দিতে  আদালতের কাছে আর্জি জানান সলিসিটার জেনারেল । নেতারা জামিন পেলে মূল মামলা ঠান্ডাঘরে চলে যাবে বলে দাবি করেন তিনি । এই ব্যাপারে সলিসিটার জেনারেলকে আশ্বস্ত করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল। নারদ মামলায় ২০১৭ সাল থেকে সিবিআই তদন্ত শুরু করলেও  চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে চার বছর লাগল কেন ? প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় । চার্জশিট দাখিল করার পর গ্রেফতার করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি চার অভিযুক্তকেই জেলে অথবা ঘরে বন্দী করে রাখার আর প্রয়োজনীয়তা নেই এটা নিশ্চিত হ‌ওয়ার পরেই তাদের জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বৃহত্তর বেঞ্চ । জামিন নিয়ে পাঁচ বিচারপতির মধ্যে কোন‌ও মতান্তর ঘটে নি । চার নেতা-মন্ত্রীর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করলেও সলিসিটর জেনারেলের আর্জি মেনে চারজনের ওপরেই কয়েকটি কড়া শর্ত আরোপ করে হাইকোর্ট । নারদ মামলা সংক্রান্ত কোনও বিষয়েই সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে পারবেন না সুব্রত মুখোপাধ্যায় , ফিরহাদ হাকিম , মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় । তথ্য প্রমাণ বিকৃত করার কোনও চেষ্টা যাতে তাঁরা না করেন এই ব্যাপারেও চারজনের আইনজীবীকে সতর্ক করে দিয়েছেন বিচারপতিরা ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *