নারদা কান্ডে ধৃত চার নেতার জামিন ঝুলে রইল হাইকোর্টেই , ডিভিশন বেঞ্চে ফের শুনানি বৃহস্পতিবার


কলকাতা, ৯ মে , ২০২ : বুধবার রাতটাও সিবিআইয়ের হেফাজতেই কাটবে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক মদন মিত্র ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের । জামিনের আশা নিয়ে চার অভিযুক্তের আইনজীবীরা এদিন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেও তড়িঘড়ি কোনও নির্দেশ দিতে রাজী নন বিচারপতিরা । সিবিআই ও ধৃত চার – এই দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয় , বৃহস্পতিবার দুপুর দুটোয় মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে । ফলে বুধবার রাতটিও সিবিআইয়ের হেফাজতে বন্দী হিসেবে এস‌এসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ডেই কাটাতে হবে নারদ মামলায় ধৃত তিন  নেতাকে । গায়ে জ্বর থাকলেও প্রেসিডেন্সি জেলের হাসপাতালেই আছেন ফিরহাদ হাকিম । হাইকোর্টে মামালার শুনানি শেষ না হ‌ওয়ায় আপাতত এঁদের জামিনে মুক্তির ব্যপারে একটা অনিশ্চিত অবস্থা রয়ে গেল বলা যায় । অভিযুক্তদের তরফে অভিষেক মনু সিংভি ও সিদ্ধার্থ লুথরার মতো বাঘা আইনজীবী জামিনের পক্ষে জোর স‌ওয়াল করলেও সিবিআইয়ের আইনজীবী তুষার মেহতার উত্থাপিত প্রশ্ন গুলিকে হালকাভাবে নেয় নি আদালত । 

মুখ্যমন্ত্রীর সিবিআই দফতরে ছয় ঘন্টা বসে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল হাইকোর্টও  ।

সোমবার সকালে নারদা মামলায় মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্রই কোভিড বিধির তোয়াক্কা না করে রাস্তায় নেমে আসেন শতশত তৃণমূল কর্মী-সমর্থক । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআইয়ের দফতর নিজাম প্যালেসে ছুটে যান । তাঁকেও গ্রেফতারের দাবিতে প্রায় ছয় ঘন্টা সিবিআই দফতরেই বসে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী । এই ঘটনাটিকে আদালতে কাজে লাগাতে দেরি করে নি সিবিআইয়ের আইনজীবীরা । রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রভাবশালী ব্যক্তি মামলাটিতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন এই অভিযোগ তুলে মামলা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের আর্জি পর্যন্ত আদালতের কাছে পেশ করেন তাঁরা । সোমবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মামলার শুনানির সময় রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং অভিযুক্তদের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে গোলমাল বাঁধিয়ে দেন – এই দুটি বিষয়‌ও এদিন বিচারপতিদের নজরে আনেন সিবিআইয়ের আইনজীবী তুষার মেহতা । সোমবার নিজাম প্যালেস ঘিরে তৃণমূলের বিক্ষোভ পরিকল্পিত ছিল এবং এতে প্রভাবিত হয়েই বিচারক চার অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছিলেন – ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এই দাবি করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী । 

সিবিআই দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর পাঁচ-ছয় ঘন্টা বসে থাকার দরকার কী ছিল ? অভিষেক মনু সিংভিকে প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল । মুখ্যমন্ত্রীর সিবিআই দফতরে যাওয়াটা ঠিক হয় নি এটা মেনে নিয়েও মনু সিংভি বলেন , জনতাকে প্ররোচিত করার কোনও উদ্দেশ্য সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর ছিল না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত স‌ওয়াল-জবাব চললেও দিনের শেষে কোন‌ও সিদ্ধান্ত‌ই নিলেন না দুই বিচারপতি । আগামীকাল দুপুর দুটোয় ফের শুনানি । ততক্ষণ পর্যন্ত উডবার্ন ওয়ার্ডেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম , মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায় । সোমবার তৃণমূল সমর্থকদের বাধায় চারজনকে আদালতে নিয়ে যেতে পারে নি সিবিআই । পরে ভার্চুয়াল হেয়ারিং হয় । সিবিআই আদালতে চারজনের জামিন মঞ্জুর হলেও হাই কোর্ট থেকে জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে সিবিআই । রাতে ধৃতদের প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হয় ।‌ যদিও সকালে বুকে ব্যথা উঠলে সুব্রত মুখোপাধ্যায়,মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে এস‌এসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয় । ফিরহাদ হাকিম অবশ্য এই তিনজনের মতো উডবার্নে না গিয়ে সংশোধনাগারের হাসপাতালেই রয়ে গেছেন । সিবিআই দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর ছয় ঘণ্টা বসে থাকাটাই তাঁর দুই সহকর্মী সহ চারজনের জামিন লাভে বিলম্বের কারণ হল বলে মনে করছে আইনজীবী মহল । এখন দেখার বৃহস্পতিবার শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ । 

ছবি – ফাইল 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *