কলকাতা: শুক্রবার দুপুরে কলকাতার একটি হোটেলে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি যাকে বলছে বাংলার জন্য ‘সঙ্কল্পপত্র’। ‘ভরসার শপথ’ নামে ২৬ পাতার সুদৃশ্য ইস্তেহারটির পাতায় পাতায় পশ্চিমবঙ্গকে বদলে দেওয়ার দিশা। জনগণের জন্য সরাসরি কল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে স্থায়ী কর্মসংস্থান, শিক্ষার সর্বাঙ্গীন উন্নতি থেকে শিল্পায়ন- ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষের জন্য বিজেপি কী কী পদক্ষেপ করবে, তার ঘোষণা রয়েছে ইস্তেহারটিতে।
‘ভরসার শপথে’ রাজ্যবাসীর জন্য মোট ১৫-টি মূল প্রতিশ্রুতি রেখেছে বিজেপি। বিজেপির ইস্তেহারের প্রধান আকর্ষণ- মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানেরও অঙ্গীকার করেছে বিজেপি।
মানুষকে নিছক ‘ভাতাজীবী’তে পরিণত করার পক্ষপাতি নয় বিজেপি। রাজ্যের মানুষের প্রধান দাবি কর্মসংস্থান। ইস্তেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবথেকে জোর দিয়েছে গেরুয়া শিবির। ক্ষমতায় এলে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। পাশপাশি মানুষ যাতে স্বনির্ভর হতে পারেন, সেই পরিবেশ সৃষ্টিরও অঙ্গীকার করা হয়েছে ইস্তেহারে। বিজেপির ইস্তেহারে সরকারি কর্মচারীদের জন্য রয়েছে সুখবর। রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পদ্ম শিবির। ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন ও কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে বিজেপি।
অনুপ্রবেশ নিয়ে সবথেকে বেশি সোচ্চার বিজেপি। তাদের ইস্তেহারে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রয়েছে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে তোলাবাজি, কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজে জনগণ বিপর্যস্ত। ইস্তেহারে বাংলা থেকে ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি ও সিন্ডিকেটরাজ নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ইস্তেহারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা- ক্ষমতায় এলে গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা অবক্ষয়ের খতিয়ান তুলে ধরতে বিশেষ ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করবে বিজেপি সরকার।
ইস্তেহারে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যে মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের সমস্ত চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের মৎস্যজীবীদের জন্য বড় প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইস্তেহারে। রাজ্যের প্রতিটি মৎস্যজীবীকে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্যসম্পদ যোজনা’র অধীনে নথিভুক্ত করা হবে। পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান মাছ রপ্তানিকারক রাজ্যে পরিণত করার অঙ্গীকার করেছে বিজেপি। বাংলায় শীর্ষস্থানীয় শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলারও আশ্বাস রয়েছে ইস্তেহারে।
ইস্তেহারে বিজেপি আশ্বাস দিয়েছে রাজ্যের ধান, আলু ও আমচাষীরা যাতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইস্তেহারে পাটশিল্পের আধুনিকীকরণ ও উত্তরবঙ্গের পুরোনো চাবাগানগুলির উন্নয়ন এবং দার্জিলিং চায়ের বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের রাজত্বে বাংলার জনগণ আয়ুষ্মান ভারত সহ কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ক্ষমতায় এলে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত সহ যাবতীয় কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করার অঙ্গীকার করেছে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা চালু করার কথাও বলা হয়েছে ইস্তেহারে।
বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছে বিজেপি। গবাদিপশু পাচার রোধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বিজেপির ইস্তেহারে।
সঙ্কল্পপত্রে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
উত্তরবঙ্গের জন্য নজরকাড়া প্রতিশ্রুতি রয়েছে বিজেপির ইস্তেহারে। উত্তরবঙ্গে নতুন একটি আইআইটি, নতুন একটি এইমস ও নতুন একটি আইআইএম গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে বিজেপি।
ইস্তেহারে বলা হয়েছে মানুষের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন করা হবে। একটি বিশেষ ‘বন্দেমাতরম সংগ্রহশালা’ তৈরি করা হবে।
Feature image: NNDC.