ইলেকশন ডেস্ক: ভোটের প্রচারে গিয়ে রেশন ঘোটালায় ১৪ মাস জেল খাটা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন মমতা! মঙ্গলবার দুপুরে হাবড়ার বাণীপুরের বিআর আম্বেদকর ময়দানে জ্যোতিপ্রিয়র সমর্থনে নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী। হাবড়া থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সভায় অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামীর হয়েও ভোট চান মমতা।
২০১১ থেকে ২০২১- টানা দশ বছর রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ২০২৩-এর ২৭ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করে রেশন দুর্নীতির তদন্তে নিয়োজিত এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। গ্রেফতারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে বনমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। গ্রেফতার হওয়ার প্রায় চার মাস পরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মন্ত্রিত্ব যায়। দলের মহাসচিব পদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আদালতে মামলার শুনানি পর্বে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে রেশন দুর্নীতির ‘রিং মাস্টার’ ও ‘দুর্নীতির গঙ্গাসাগর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন ইডির আইনজীবী। ১৪ মাস জেলে থাকার পর ২০২৫-এর ১৫ জানুয়ারি জামিনে ছাড়া পান জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে যাওয়ার জেরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রিত্ব ও দলীয় সদস্যতা- দুই-ই খোয়া গেলেও বালুর (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ডাকনাম) উপর আস্থা হারান নি মমতা। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জ্যোতিপ্রিয়কে হাবড়া থেকেই টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। মঙ্গলবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সমর্থনে সভা করতে এসে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বালুর মতো ভাল ছেলে হয় না। জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, তা কেউ করতে পারে নি।” মমতা আরও বলেন, “বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে বলে শুনছি। কুৎসায় কান দেবেন না। আরে ওকে হিংসে করে গ্রেফতার করেছিল। কোনও প্রমাণ পায় নি।”
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ফাঁসানো হয়েছিল বলে দাবি করে রেশন ঘোটালার গোটা দায় সিপিএমের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন মমতা। তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, “কেন গ্রেফতার করেছিল বালুকে? ওই পচা সিপিএম পার্টি দেড় লক্ষ ভুয়ো নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো ফলস নামে রেশন দিত। এই চুরি ধরেছিল বালু। তাই ভুয়ো কেসে বালুকে ফাঁসিয়েছে।” বালুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মমতা বলেন, “ডিজিটাল রেশন কার্ডও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক করেছিল। এই কাজটা এত সোজা ছিল না। পাচার হত আগে রেশনের মাল। প্রত্যেকটা গাড়ি দেখা, সব বালু করেছিল। সেই ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল।”
রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডির আধিকারিকেরা দেখতে পান, খোদ খাদ্যমন্ত্রী তাতে জড়িত। টানা ২০ ঘন্টার বেশি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে তল্লাশি ও জেরা শেষে ২০২৩-এর ২৭ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। সে সময় জ্যোতিপ্রিয়র বাড়ি থেকে রেশন বন্টনে গরমিল সংক্রান্ত অনেক নথি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন ইডির আধিকারিকেরা। জামিনে মুক্ত বালুর হয়ে মঙ্গলবার মমতার গলা চড়ানোকে কটাক্ষ করতে ছাড়েন নি বিরোধীরা।
Feature image is representational and designed by NNDC.