ইলেকশন ডেস্ক: এসআইআর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হুলুস্থূল। তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি থাকায় রাজ্যের ১ কোটি ৫১ লক্ষের বেশি ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনায় রেগেমেগে আগুন হয়ে এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলার শুনানি। তবে শুনানির আগেই সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হলফনামায় চক্ষু চড়কগাছ সকলের। কেন পশ্চিমবঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে, হলফনামায় তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন কমিশন। কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, ৩৮৯ জন ভোটারের একজন বাপ! বীরভূমের নানুর বিধানসভা এলাকায় ৩৮৯ সন্তানের জনকের সন্ধান পাওয়া গেছে।
শুধু নানুরের একটি ঘটনাই নয়। একজনকে অভিভাবক হিসেবে দেখিয়ে শতশত ভোটারকে লিঙ্ক করার অজস্র ঘটনা নজরে এসেছে কমিশনের। নানুরে যেমন একজনকে বাপ হিসেবে দেখিয়ে ৩৮৯ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, তেমনি হাওড়ার সাঁকরাইলে ৩১০জন একজনকেই অভিভাবক হিসেবে দেখিয়েছেন। কীভাবে একজন পুরুষের পক্ষে বায়োলজিক্যালি তিনশোর অধিক সন্তানের পিতা হওয়া সম্ভব, শীর্ষ আদালতের সামনে সেই প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের পেশ করা হলফনামা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে ১৯৯ জন, আসানসোলে ১৭০ জন, দার্জিলিঙে ১৫২ জন, জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটায় ১২০ জন ভোটার তাদের অভিভাবক হিসেবে একজনকেই দেখিয়েছেন। মহাভারতে ধৃতরাষ্ট্র শত পুত্রের জনক ছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই ঘোর কলিতে পশ্চিমবঙ্গে ঘরে ঘরে শত পুত্র-কন্যার বাপেরা ঘাপটি মেরে বসে রয়েছেন! নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর মাধ্যমে নাড়া না দিলে আমরা এই ঘটনা জানতে পারতাম না।
শীর্ষ আদালতকে কমিশন আরও জানিয়েছে যে, সন্তান ছয়জনের অধিক, এমন কেস ২ লক্ষ ৬ হাজারের বেশি নজরে এসেছে। ১০ জনের অধিক সন্তানের তথ্য পাওয়া গেছে ৮,৬৮২টি ক্ষেত্রে। ৫০ জনের বেশি সন্তানের ঘটনা ১০টি এবং ১০০ জনের বেশি সন্তানের ঘটনা ৭টি সামনে এসেছে। একজন ভোটারকে অভিভাবক দেখিয়ে ২০০ জনের বেশি ভোটার যুক্ত থাকার দুটি তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে। কমিশনের দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের বিশেষ একটি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে এই ধরণের অসঙ্গতি বেশি। হাওড়ার সাঁকরাইল, বীরভূমের নানুর, মুর্শিদাবাদ, কান্দি, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ও ক্রান্তি, পূর্ব মেদিনীপুরের মুগবেড়িয়া, হাওড়ার সাঁকরাইল, আসানসোল, মেমারি ও দার্জিলিঙে একজনকে অভিভাবক দেখিয়ে শতশত ভোটারের যুক্ত হওয়ার ঘটনাগুলি ঘটেছে।
হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এত ব্যাপক মাত্রায় তথ্যগত অসঙ্গতি, ভুয়ো তথ্য ও জোচ্চুরি সামনে আসার পর চোখ বন্ধ করে থাকা সম্ভব নয়। ভোটার তালিকা শতভাগ শুদ্ধ করার দায়বদ্ধতা থেকেই বাংলায় ১ কোটি ৫১ লক্ষের বেশি ভোটারকে শুনানির নোটিশ ধরানো হয়েছে। শুনানিতে যাদের ডাকা হয়েছে, তাদের মধ্যে ছয়জনের বেশি সন্তান রয়েছে, এমন ভোটারের সংখ্যা ২০ লক্ষ।
এদিকে এসআইআর সংক্রান্ত গুচ্ছের অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সদলবলে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাৎ শেষে আরও অগ্নিশর্মা মমতা। জ্ঞানেশ কুমার ভাল ব্যবহার না করায় তিনি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানান মমতা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তৃণমূল সুপ্রিমোর তোলা অভিযোগগুলিকে পাত্তা দেন নি বলে সূত্রের খবর।
Feature graphic is representational.