পলিটিক্যাল ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের ঝান্ডা নেওয়ার খানিক আগে প্রতীক-উর রহমানকে বহিষ্কার করল সিপিএম। শনিবার বিকেলে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আমতলায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কার্যালয়ের সামনে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে অভিষেকের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নেন প্রতীক-উর। আমতলায় অভিষেকের কার্যালয়ে প্রতীক-উর পৌঁছে গেছেন, চ্যানেলে চ্যানেলে এই ফুটেজ দেখার পর প্রতীক-উরকে দল থেকে বহিষ্কার করে সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি।
সিপিএমের তরুণ ব্রিগেডের অন্যতম একজন মুখ ছিলেন ৩৬ বছরের প্রতীক-উর রহমান। এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি ছিলেন। এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সহসভাপতির দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতীক-উরকেই মনোনয়ন দিয়েছিল সিপিএম। সিপিএমের রাজ্য কমিটিতে জায়গা করে নেওয়া পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী প্রতীক-উর যে তলে তলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তৃণমূলে ঢোকার পরিকল্পনা করছেন, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায় নি আলিমুদ্দিন স্ট্রিট!
দিন কয়েক আগেই রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছিলেন প্রতীক-উর। নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করে সিপিএমের রাজ্য কমিটি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা কমিটি, এমনকি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে প্রতীক-উর চিঠি দিতেই গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়, তবে কি তৃণমূলের দিকে পা বাড়াচ্ছেন সিপিএমের এই যুবনেতা? প্রতীক-উর পার্টি ছাড়তে চলেছেন, জানার পর তাঁকে দলে ধরে রাখতে তৎপর হয়েছিলেন খোদ বিমান বসু। কিন্তু দলের বর্ষীয়ান নেতার ডাকে সাড়া না দিয়ে একের পর এক সংবাদ মাধ্যমে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়েছেন প্রতীক-উর।
প্রতীক-উরের মতো কর্মী দল ছেড়ে বেরিয়ে গেলে সন্তান হারানোর বেদনা হয় বলে জানিয়েছিলেন সেলিম। সেলিম শেষ পর্যন্ত সন্তান হারালেনই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর প্রতীক-উর সিপিএমের দ্বিতীয় হেভিওয়েট তরুণ নেতা, যিনি তৃণমূলে নাম লেখালেন। সিপিএম থেকে নিলম্বিত হওয়ার পর তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন ঋতব্রত। প্রতীক-উর কার্যত সিপিএমে থাকতে থাকতেই তৃণমূলে যোগ দিয়ে বসলেন! ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত কোনও বিধানসভা আসন থেকে জোড়াফুল প্রতীকে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পরেই প্রতীক-উর অভিষেকের ডাকে সাড়া দিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। তৃণমূলের ঝান্ডা হাতে নেওয়ার পর প্রতীক-উর যদিও মুখে বলেছেন, দল টিকিট দিলেও আমি নেব না।
পার্টিতে যার থাকার ইচ্ছা, তা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক, যদি পার্টির প্রতি ভালবাসা থাকে, তবে শত অভিযোগ-অভিমান নিয়েও সে থাকবে। আর যে না থাকার, সে হাজারটা অভিযোগ তুলে অন্যের ঘরে পালাবে। প্রতীক-উর রহমানকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কোনও আসন থেকে জিতিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতীক-উর দেখেছেন হাতে লাল ঝান্ডা ধরা থাকলে জীবনে আর বিধায়ক-মন্ত্রী হওয়া হবে না। তার চেয়ে দিদির গোয়ালে গিয়ে ঢুকি। অনেক হল ‘ডাস ক্যাপিটাল’, এখন কিছু ক্যাশ ক্যাপিটাল তুলি।
প্রতীক-উরকে সেলিম নিজের চেয়ারটা ছেড়ে দিলেও প্রতীক তৃণমূলেই ঢুকতেন। ওঁর চোখ এখন বিধায়ক-মন্ত্রিত্বের দিকে। সিপিএমের যদি সেই দিন থাকত, অর্থাৎ সিপিএম পার্টির নেতা হলে যদি এমএলএ-মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকত, তবে কি প্রতীক-উর সেলিমের উপর বুক ভরা অভিমান নিয়ে তৃণমূলে গিয়ে ঢুকতেন? ঢুকতেন না। চাষার ব্যাটা হাজি রেজ্জাক মোল্লা ছিল সাত পুরুষের কমিউনিস্ট। সামান্য এমএলএ হওয়ার লোভে রেজ্জাক মমতার পায়ে গিয়ে পড়েছিলেন। দিন কয়েকের নাটক শেষ করে শনিবারই সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে গিয়ে ঢুকলেন সেলিমের পার্টিতুতো পুত্র। রাজ্যের বামপন্থী নেতারাও আর ব্যতিক্রম কিছু নন। তাদেরও শুধু শিরদাঁড়া কেন, আপাদমস্তক দেহটাও কেনা যায়।
Feature image: NNDC.