দিল্লি: এসআইআর নিয়ে একটা হেস্তনেস্ত করতে দিল্লি সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসে রাগে লাল মমতা অভিযোগ করেছেন, “চোখ রাঙিয়ে কথা বলেছেন জ্ঞানেশ। টেবিল চাপড়ে আমিও বলেছি, গলা নামিয়ে কথা বলুন।” মঙ্গলবার বঙ্গভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনের বিরুদ্ধে ফের রণংদেহী মেজাজেই দেখা গেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে পার্লামেন্টে ইমপিচমেন্ট আনা দরকার বলে মনে করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মমতা বলেন, “জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হলে দলের সাংসদদের বলব, তাতে অংশ নিতে।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। আমাদের কথা শুনছে না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে কথা বলতে গিয়েছিলাম কমিশনের কাছে। কিন্তু অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছে।” এসআইআর করতে গিয়ে কমিশনের নির্দেশে বেছে বেছে তৃণমূলের বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বেশি বেশি করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, বিজেপির হাতে থাকা বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে কম নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, এমনই অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতা বলেন, “আমার ভবানীপুর কেন্দ্রে ৪০ হাজার নাম বাদ দিয়েছে। আরও ৭০ হাজার বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।”
বাংলাদেশী অপবাদ দিয়ে সংখ্যালঘুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, “৩০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ আছেন। তাদের কি আমরা বের করে দেব?” মমতার অভিযোগ, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে!” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ঘুসপেটিয়ার দায় কার? সীমান্ত, রেল সবই তো কেন্দ্রের হাতে। অনেকেই এসে অপকর্ম করতে পারে। আমাদের কোনও তথ্য দেওয়া হয় না। অনেকবার চিঠি দিয়েছি। কানে তোলে নি। চব্বিশের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর বিজেপিই বাংলাদেশ থেকে লোক ঢুকিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় গোলমাল হলে ছেড়ে কথা নয়! এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব।” মমতা এদিন স্বীকার করে নেন, এসআইআরের ফলে ভোটার তালিকা থেকে অনেক নাম বাদ পড়লে ভোটে দলের ফলে প্রভাব পড়বে। অভিষেককে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা জানান, “আমরা এসআইআরের বিরোধী নই। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে এই অপরিকল্পিত এসআইআর ঠিক নয়।” তৃণমূল সুপ্রিমো প্রশ্ন তোলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হচ্ছে, অসুবিধা নেই। কিন্তু পাশের রাজ্য অসমে হচ্ছে না কেন? সেখানেও তো ভোট রয়েছে।”
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আরও ১১টি রাজ্যে এসআইআর চলছে। অনেক রাজ্যে বিজেপি বিরোধী সরকার ক্ষমতায়। কিন্তু আর কোনও রাজ্যেই এসআইআর নিয়ে এত হইচই, বিতর্ক হচ্ছে না। এমনকি যেসব রাজ্যে বিরোধীরা শাসকের আসনে, সেই সব রাজ্যেও এসআইআর নিয়ে শাসকদলের রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে না নির্বাচন কমিশনকে। পশ্চিমবঙ্গ ব্যতিক্রম কেন? সাংবাদিকদের তরফ থেকে এমন প্রশ্ন ধেয়ে এলে মমতা চুপ করে যান।
বুধবার এসআইআরের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মমতার দায়ের করা মামলার শুনানি। শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর হাজির থাকার কথা। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি শুনানিতে থাকবেন কিনা স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটে জিতে আবার দিল্লি আসব। তখন আপনাদের ভাল মিষ্টি খাওয়াব।”
Feature graphic is representational.